২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
head banar

মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে দুপুরে মাঠে নামছে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে

Saturday, 07/11/2015 @ 11:28 am

crfii

আরটিএমনিউজ২৪ডটকম, ঢাকাঃ দেশের মাটিতে ২০০৪ সালের পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কোনো সিরিজ হারেনি বাংলাদেশ। সর্বশেষ সাক্ষাত গত বছরই। যেখানে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা নিয়ে দেশে ফিরেছিল জিম্বাবুয়ে শিবির। ওয়ানডেতে ৫-০, টেস্টে ৩-০। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ঐ সফরে বেশ অসহায়ই ছিল ব্রেন্ডন টেইলররা।

প্রায় এক বছর পর আবার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে। খুব চেনা প্রতিপক্ষ। তারপরও চিত্র ভিন্ন, দুই দলে ভিন্ন রূপ। বাংলাদেশের জন্য চলতি বছরটি সোনায় মোড়ানো। বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার পর উড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান, ভারত, দ. আফ্রিকার মতো ক্রিকেট পরাশক্তিকে। সেই দুর্দমনীয় বাংলাদেশের সামনে এবার জিম্বাবুয়ে, যাদের চলতি বছরটা কেটেছে তীব্র হতাশায়। পরাজয়ের ধারাবাহিকতায় লজ্জা পেতে হয়েছে আইসিসির সহযোগী দেশ আফগানদের সঙ্গেও।

তবে বাংলাদেশ সফরে প্রস্ততি ম্যাচে জয় নিয়ে অন্যরকম শুরুর আভাস দিয়ে রেখেছে সফরকারীরা। তবে ঘরের মাঠে মর্যাদা ধরে রাখতে মরিয়া মাশরাফি বাহিনী। এমন সমীকরণকে সামনে রেখে শনিবার দুপুর একটায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও গাজী টেলিভিশন।

তিন ম্যাচের এই ওয়ানডে সিরিজটা প্রাপ্তির হতে পারে জিম্বাবুয়ের। তারা একটি ওয়ানডে ম্যাচ জিতলে রেটিং পয়েন্ট বাড়বে তিন। কিন্তু বাংলাদেশ সব ম্যাচ জিতলেও বাড়বে মাত্র এক পয়েন্ট। এছাড়া সব ম্যাচ জিতলেও র‌্যাংকিংয়েও কোনো পরিবর্তন হবে না। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে জয়-পরাজয়ের ব্যবধানটাও খুব বেশি নয়। বাংলাদেশের পাশে যখন জয়ের হার ৫৬.২৫ শতাংশ তখন জিম্বাবুয়ের ৪৩.৭৫।

এই দুই দলের দেখা হওয়া ৬৪ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ৩৬ জয়ের বিপরীতে প্রতিপক্ষ হেসেছে ২৮ বার। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে বাংলাদেশকে এখন অনেকেই বড় দল ভাবতে শুরু করেছে। সেই তুলনায় জিম্বাবুয়ে কিছুদিন আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষেও হোম সিরিজ হেরে এসেছে। তাই বলে অসম লড়াই বলার কোনো কারণই নেই। সফরের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশকে সাত উইকেটে হারিয়ে জিম্বাবুয়েও সতর্কবার্তা পৌঁছে দিয়েছে। আর জিম্বাবুয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেট লড়াই তো সেই শুরু থেকেই।

তবে এই চেনা প্রতিপক্ষকে গতবছর গুড়িয়ে দিয়েই শুরু হয়েছিল লংকান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের বাংলাদেশের পথচলা। অথচ ২০১৪ সালে সে সময় বাংলাদেশ ছিল ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দী। ২০১৪ সালের ১৩ ম্যাচের ১২টিতেই হার আর একটি ড্র নিয়ে মাশরাফি বিগ্রেড বিশ্বকাপের আগে মাঠে নেমেছিল ঘরের মাঠে তাদের শেষ প্রস্তুতি হিসাবে। সেবার ৫-০তে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালের ইতিহাস, পরে ঘরের মাঠে পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা বধ। এরপর আবার সামনে সেই জিম্বাবুয়ে।

অথচ চলতি বছরের হিসেব বলছে ২০১৫ সালে ১৫ ওয়ানডের ১০টিতেই হেসেছে বাংলাদেশ। আর মাত্র ৫টিতে হার। অন্যদিকে জিম্বাবুয়ে চলতি বছর ২৬টি একদিনের ম্যাচ খেলে জয়ের দেখা পেয়েছে মাত্র ৭টিতে। সবশেষ সিরিজে তাদের লজ্জা পেতে হয়েছে আফগানিস্তানের মতো পুঁচকে দলের বিপক্ষে।

হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও ব্রেন্ডন টেলর সব সময়ই বাংলাদেশের জন্য হুমকি ছিলেন। কিন্তু এই সফরে তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে না টাইগারদের। অবশ্য প্রস্ততি ম্যাচে জিম্বাবুয়ের পারফরম্যান্স একটা বার্তা দিয়ে দিয়েছে মাশরাফিদের। আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোমে ওয়ানডে ও টি২০ সিরিজ হেরে তেঁতে রয়েছে তারা। টেলর-মাসাকাদজা ছাড়া তাদের এই দলটাও অনেক শক্তিশালী। সঙ্গে রয়েছেন ডেভ হোয়াটমোরের মতো ক্ষুরধার কোচ। ‍যিনি একসময় দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশেরও। ফলে মাশরাফিদের সম্পর্কে সবই জানা হোয়াটমোরের। যা বাড়তি কাজে দেবে সফরকারীদের।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষেই ঘুড়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে জিম্বাবুয়ে। শুক্রবার মিরপুর স্টেডিয়ামেই নিজেদের শেষবার ঝালিয়ে নিয়েছেন তারা। শক্তির বিচারে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও ফতুল্লার দাপুটে জয়কে প্রেরণা হিসেবে নিচ্ছে সফরকারীরা। এ বিষয়ে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক এলটন চিগুম্বুরা বলেন, ‘এই জয়টা নিশ্চয়ই আমাদের দলকে প্রেরণা যোগাবে। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে জিততে হলে বৃহস্পতিবারের চেয়েও ভালো খেলতে হবে।’

এদিকে এ সিরিজ থেকে র‌্যাংকিংয়েও কোন প্রাপ্তির হাতছানি নেই স্বাগতিকদের জন্য। পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টানা তিন হোম সিরিজে জয়ে র‌্যাংকিংয়ের সাতে বাংলাদেশ। আর প্রতিপক্ষ ১০ নম্বরে। তাতে চ্যালেঞ্জ কমছে না, বরং বাড়ছে। শুক্রবার তেমনটাই বললেন মাশরাফিও, ‘প্রত্যেকটা সিরিজই চ্যালেঞ্জের। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে তো আমাদের শুরু থেকেই চ্যালেঞ্জ।’

স্বাগতিক শিবিরে শংকা রয়েছে পেস আক্রমণ নিয়েও। চলতি বছর প্রায় পুরোটা সময় তিনজন পেসার নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে চলতি বছর ওয়ানডেতে চারজন পেসারও খেলিয়েছে বাংলাদেশ। তবে দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বরাবরই সফল বাঁহাতি স্পিনাররা। কিন্তু শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে একাদশ নিয়ে রহস্য রেখে দিলেন অধিনায়ক মাশরাফি।

তবে প্রস্তুতি ম্যাচে একজন অফ স্পিনারের অভাব খুব অনুভব করতে দেখা গেছে মাশরাফিকে। আর কোনো অফ স্পিনার না থাকায় বল করিয়েছিলেন ইমরুল কায়েসকে দিয়ে। তবে প্রথম ওয়ানডের দলে পাচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, নাসির হোসেনের মতো অফ স্পিনারকে।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ: মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, নাসির হোসেন, লিটন কুমার দাস, সাব্বির রহমান, মুস্তাফিজুর রহমান ও আরাফাত সানি।

 

আরটিএমনিউজ২৪ডটকম/জেড এইচ

এই পাতার আরো সংবাদ
bg1
bg1
top-banner
bg1