২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
head banar

বোয়ালখালীতে অপরূপ সৌন্দর্যের পর্যটন স্পট ‘রিভারভিউ’

Tuesday, 22/12/2015 @ 7:46 pm

19-800x475

আরটিএমনিউজ২৪ডটকম, চট্টগ্রামঃ নদী-পাহাড়ঘেরা প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বোয়ালখালী। উত্তর পশ্চিমে শান্ত মেজাজে বয়ে চলা কর্ণফুলি নদী, পূর্বে সবুজ অরণ্যে কড়লডেঙ্গা আর জ্যৈষ্ঠপুরা পাহাড়, দক্ষিণে বিস্তীর্ণ সমভূমি- এ যেন এক ছবির মত উপজেলা। এ অপরূপা বোয়ালখালীর শৌর্য-বীর্য স্বল্প পরিসরে উপস্থাপন করা খুবই দূরূহ একটি কাজ। সম্প্রতি এতে যুক্ত হয়েছে নয়ন জুড়ানো প্রকৃতি আর কৃত্রিমতার এক অনুপম দৃশ্যমান স্পট। স্থানীয়রা এটিকে ‘মুক্তিযোদ্ধা রিভার ভিউ’ বলে ইতোমধ্যে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দিয়েছে। কর্ণফুলি পাড়ে পশ্চিম কধুরখীল পৌর এলাকার ১নং ওর্য়াডে নাজিরখালী পয়েন্টে গড়ে উঠা এ স্পটটি বর্তমানে জমে উঠেছে ভ্রমন পিপাসুদের মুখর পদচারণায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত এক বছর আগেও কর্ণফুলি পাড়ে পশ্চিম কধুরখীল এ এলাকাটি ছিল নদী ভাঙ্গণ এলাকা। নদীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রায় ২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ কালুরঘাট-ভান্ডালজুরি সড়কটিও ছিল বিপদসংকুলের মধ্যে। নদীর ভাঙ্গণ ধরেছিলো এ সড়কটিকেও। ২০১৩ সালের ২২ অক্টোবর তৎকালীন পানি সম্পদ মন্ত্রী রায় রমেশ চন্দ্র সেন ও স্থানীয় সাংসদ মঈন উদ্দীন খান বাদল কর্ণফুলির মোট ৩টি পয়েন্টে ভাঙ্গণরোধে ব্লক নির্মাণ কাজের উদ্ধোধন করেন। এর মধ্যে নাজিরখালী পয়েন্ট অন্যতম।

স্থানীয় এমপি মঈন উদ্দীন খান বাদলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২১টি প্যাকেজে ভাগ করে এ প্রকল্প একনেকে পাস হয় ২ জুলাই ২০১৩ সালে। এতে রাউজানের ৭টিসহ বোয়ালখালীর বাম তীরে ৭টি ব্লক, বোয়ালখালী খালের ৫টি, রায়খালী খালের ২টি ব্লকে ভাঙন প্রতিরোধে সি সি ব্লক বসানোর কাজ শুরু হয়।

এ বছরের প্রথম দিকে এ এলাকায় কাজ শেষ হতেই নদী তীরের চিরচেনা ভাঙ্গণ দূর হয়ে সৃষ্টি হয় প্রকৃতি আর কৃত্রিমতার অপরূপ সৌন্দর্য্য। স্থানীরাও বসে থাকেনি। এ সৌন্দর্য্যকে পুরো বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিতে হাতে নেয় নানা রকম পরিকল্পনা। প্রাথমিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নদীতীরে বসার স্থান, চায়ের দোকান, নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা করে ভ্রমণপিপাসুদের একটু বিনোদনের জন্য তৈরি করে পর্যটন স্পট।

স্থানীয়রা জানায়, পশ্চিম কধুরখীল বঙ্গবন্ধু জনকল্যাণ সমিতি, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ নিজস্ব উদ্যোগে প্রথমে এ বিনোদন স্পট করার জন্য জোড় পদক্ষেপ নেয়। এতে স্থানীয়রাও স্বতঃস্ফুর্ত সাড়া দেয়। ক্লাবের পক্ষ থেকে নদীতীরে ব্লক দিয়ে সাজানো-ঘোচানো এলাকায় বসার ব্যবস্থা করে। ধীরে ধীরে এ এলাকাটি হয়ে উঠে পর্যটন আর বিনোদনের এলাকাবাসীর অন্যতম মাধ্যম। ব্যাপ্তি ঘটে রমজানের ঈদের পর থেকে। তারা এটিকে নামকরণ করেন ‘মুক্তিযোদ্ধা রিভার ভিউ’। জানতে চাইলে স্থানীয় সাজিদ ওয়াজেদ জানান, মুক্তিযোদ্ধারা এদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাই তাদের স্মরণে এটির এ ধরনের নামকরণ করা হয়েছে। তাছাড়া কধুরখীলের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস সমৃদ্ধ। এটি জীবন্ত রাখতেই সুযোগ হাতছাড়া করেননি কেউ।

সরেজমিনে দেখা যায়, পিচঢালা মসৃণ প্রশস্ত সড়কের দু’পাশের সবকিছুই পরিচ্ছন্ন-শিল্পীর ক্যানভাসে আঁকা যেন ছবি। বিনোদনপ্রেমীরা যে যার মতো বসে উপভোগ করছে নদীর কলতান। বয়ে চলা স্রোতের কলকল ধ্বনি। বিকেল হতেই বেড়ে গেলো অবকাশে পছন্দ করে এমন মানুষের ভীড়। প্রায় তিনকিলোমিটার দীর্ঘ এ স্পটটিতে কাউকে প্রকাশ্যে ধুমপান করতে দেখা যায়নি। স্থানে স্থানে ফেস্টুন চোখে পড়ল, ‘ধুমপান এবং মাদকমুক্ত এলাকা।’ রাস্তার অপর পাশে গড়ে উঠেছে কফি, চা, ঝাল, চটপটি, আইচক্রীম বিক্রির দোকান। দাম সচরাচর। বাড়তি ইনকামের কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানাল দোকানদার মো. মহসিন। তিনি জানান, দোকানদার নিজস্ব অর্থায়নে একজন পরিছন্ন কর্মী নিয়োগ দিয়েছে এ স্পটটিতে। উদ্যোক্তারা জানান, এ স্পটে ঘুরতে গেলে কোনো টিকেট কাটতে হয় না। কেউ যাতে নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগে সেজন্য ক্লাবের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। তারা জানান, ভবিষ্যতেও এখানে কোনো টিকেট নেয়া হবে না। তবে তারা পৌরসভার কাছে লাইটিং এবং পরিছন্ন কর্মী নিয়োগের জন্য দাবি জানান। অপরপক্ষে তারা বলেন, আজকের স্পটটি স্থানীয় এমপি’র বদান্যত্যে বলা যায়-কারণ তার ব্লকের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়েছে বলেই, আজকের এ বিনোদন স্পট তৈরি হয়েছে। সময় কাটাতে আসা উম্মে হাবিবা  জানান, ভবিষ্যতে এটি একটি প্রসিদ্ধ বিনোদন কেন্দ্র করতে তারা বদ্ধ পরিকর। যাতে ব্যবসায়িক কোনো চিন্তা থাকবে না। যেটি হবে সবার জন্য উম্মুক্ত। তিনি বলেন, ব্লকের কিনার থেকে নদীর বয়ে চলা সৌন্দর্য্যটাই সবাইকে বিমোহিত করে। এছাড়া রয়েছে প্রকৃতির নির্মল বিশুদ্ধ বায়ু আর পরিবেশ। এ প্রসঙ্গে পৌর প্যানেল মেয়র ও স্থানীয় কমিশনার শাহজাদা এস এম মিজানুর রহমান জানান, যেহেতু মুক্তিযোদ্ধা রিভার ভিউ পর্যটন স্পটটি আমার এলাকায়, আমাদের হাত ধরে গড়ে উঠা, এটির উন্নয়নে পৌরসভার পক্ষ থেকে যা যা করণীয় তা করা হবে।

আরটিএমনিউজ২৪ডটকম/জেড এইচ

এই পাতার আরো সংবাদ
bg1
bg1
top-banner
bg1