২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
head banar

যে দশ দিন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ইবাদত-বন্দেগি বেশি বেশি করা উচিত

Wednesday, 23/08/2017 @ 7:02 pm

যে দশ দিন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ইবাদত-বন্দেগি বেশি বেশি করা উচিত

যে দশ দিন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ইবাদত-বন্দেগি বেশি বেশি করা উচিত

মুফতি মুহাম্মদ আল আমিন: জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন আল্লাহ পাকের কাছে অনেক মর্যাদার অধিকারী। পবিত্র হজ এ দশ দিনের মধ্যে থাকার কারণে এর গুরুত্ব ও মর্যাদা আরও বেড়ে গেছে। তাই আমাদের উচিত এই দশ দিন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ইবাদত-বন্দেগি বেশি বেশি করা। হজরত আবু হোরায়রা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দিনসমূহের মধ্যে এমন কোনো দিন নেই যাতে আল্লাহর ইবাদত করা তাঁর কাছে প্রিয়তর হতে পারে জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন অপেক্ষা। এর প্রত্যেক দিনের রোজা এক বছরের রোজার সমান এবং প্রত্যেক রাতের নামাজ কদরের রাতের নামাজের সমান।’ (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ) এ হাদিসের ভিত্তিতে বিজ্ঞ আলেমগণ বলেন, জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন দিনের বেলায় রোজা রাখা উচিত এবং রাতগুলোতে যথাসম্ভব তাহাজ্জুদ নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও অন্যান্য নফল ইবাদত করা উচিত। এ দশ দিনের মধ্যে ৯ জিলহজ অর্থাৎ যেদিন হাজীগণ আরাফার ময়দানে সমবেত হন সেদিন অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাই কমপক্ষে সেদিন রোজা রাখা উচিত। জিলহজ মাসে এমন কিছু আমল আছে, যা পালন করা সহজ, কিন্তু এর বিনিময়ে আল্লাহর দরবারে রয়েছে অনেক পুরস্কার। এ সম্পর্কে হজরত উম্মে সালামা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন জিলহজ মাসের প্রথম দশক আসে আর তোমাদের কেউ কোরবানি করার ইচ্ছা করে সে যেন নিজের শরীরের কোনো পশম ও চামড়ায় স্পর্শ না করে’ (অর্থাৎ নখ, গোঁফ, চুল ও শরীরের অন্যান্য পশম যেন না কাটে)। (মুসলিম)। উপরের হাদিসের আলোকে ইসলামী আইনজ্ঞ আলেমগণ বলেন, যারা জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন শরীরের কোনো পশম ও নখ না কেটে ঈদের দিন পশু কোরবানি করার পর কাটবে তারা ভিন্ন একটি কোরবানির সওয়াব পাবে। দেখুন, এই আমলটি করা আমাদের জন্য অতি সহজ। অথচ এর বিনিময়ে রয়েছে পূর্ণ একটি কোরবানির সওয়াব। ৯ জিলহজ ফজরের নামাজ থেকে ১৩ জিলহজ আসরের নামাজ পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর নারী-পুরুষ সবার ওপর একবার তাকবির পড়া ওয়াজিব। পুরুষরা আওয়াজ করে এবং নারীরা আওয়াজ ছাড়া তাকবির পড়বে। মুসাফিরের ওপর তাকবির ওয়াজিব নয়। অবশ্য যদি সে জামাতে শরিক হয় তখন তার ওপরও ওয়াজিব হয়ে যায়। উল্লেখ্য, তাকবির শুধু একবার ওয়াজিব। একবারের বেশি পড়ার প্রয়োজন নেই। তাছাড়া ঈদের রাতে ইবাদত করার ফজিলতও অনেক বেশি। হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, হুজুর (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি দুই ঈদের রাতে সওয়াব ও পুরস্কারের আশায় ইবাদত করবে, তার অন্তর সেদিন (কিয়ামতের দিন) মারা যাবে না (ভীত-সন্ত্রস্ত হবে না) যেদিন অন্যান্য মানুষের অন্তর মারা যাবে (ভীত-সন্ত্রস্ত হবে)’। (ইবনে মাজাহ)

লেখক : খতিব, বাইতুর রহমত জামে মসজিদ, গাজীপুরা, টঙ্গী।

এই পাতার আরো সংবাদ
bg1
bg1
top-banner
bg1