২৩শে জানুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
head banar ads here

হজ নিয়ে প্রতরণা কি থামবে না? হাজিদের কান্নার হ্রদয় বিদারক দৃশ্য

বৃহস্পতিবার, ২৪/০৮/২০১৭ @ ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ

Spread the love
হজ নিয়ে প্রতরণা কি থামবে না? হাজিদের কান্নার হ্রদয় বিদারক দৃশ্য

হজ নিয়ে প্রতরণা কি থামবে না? হাজিদের কান্নার হ্রদয় বিদারক দৃশ্য

আবুল কাশেম, আরটিএমনিউজ২৪ডটকম: বয়োবৃদ্ধ মানুষগুলোর এমন হ্রদয় বিদারক দৃশ্য দেখা সত্যি  কষ্টকর ।

দিন দিন ব্যর্থতার ঝুড়ি ভরে যাচ্ছে, মনে হয় অতি সত্বর ব্যর্থতা ঢাকার আর জায়গা পাওয়া যাবে না ।

হজ নিয়ে প্রতারণা কোন মুসলমান করতে পারে তাহা ভাবাও যেন পাপ, অথচ আমাদের দেশে এটি আজ রুটিন ওয়ার্কে পরিণত ।

কষ্ট হয় বৃদ্ধ মানুষের স্বপ্নের হজ যাত্রা যখন গুটি কয়েক প্রতারকের কারণে বাধাগ্রস্থ হয় ।

অথচ ইসলামের এই ফরজ ইবাদত আদায়ের জন্য ব্যাকুল থাকে বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে প্রতিটি মুসলমান নর-নারী ।

কুমিল্লা জেলার চান্দিনার বাসিন্দা সালাহ উদ্দিনসহ ৯ জন হজ প্যাকেজের ২৭ লাখ টাকা জমা দেন রাজধানীর পুরানা পল্টনের জান্নাত হজ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসে। ২০ আগস্ট তাদের ভিসা ও বিমানের টিকিট দেওয়ার কথা। ১৯ আগস্ট শনিবার অফিস বন্ধ করে উধাও এজেন্সি মালিক। এখন হজক্যাম্পে বসে কাঁদছেন।

 

এমন সংবাদ পরিবেশন আজকের সব কটি জাতীয় দৈনিক ।

প্রশ্ন হল ব্যর্থ ধর্ম মন্ত্রনালয় নিয়ে, তারা কি এড়াতে পারবেন তাদের ব্যর্থতা ? বয়োবৃদ্ধ মন্ত্রী সাহেব যে ব্যর্থ সেই কথা সংবাদ মাধ্যামে অনেকবার উঠে এসেছে । উনার আত্নীয় স্বজনেরা সঠিক সময়ে হজে গেছেন ।

কিন্তু দেখার কেউ নেই ।

পাবনা জেলার আবদুস সালাম ও তার স্ত্রী মমতাজ খাতুন হজে যাওয়ার জন্য আবু হানিফা নামে এক দালালের মাধ্যমে টাকা জমা দেন মিফফালাহ ট্রাভেলসে। হজ এজেন্সি মালিক আবদুস সালামকে ভিসা ও টিকিট দিলেও তার স্ত্রী মমতাজ বেগমকে অসুস্থ দেখিয়ে অন্য হজযাত্রীকে রিপ্লেসমেন্ট করে সৌদি আরব পাঠিয়ে দিয়েছে। হজ অফিসে বসে তারা বিলাপ করছেন।

এই তো গেল সালাহ উদ্দিন ও আবদুস সালামের প্রতারণার ঘটনা। এমন অসংখ্য ব্যক্তি আছেন যারা ভিসা পেয়েছেন, এখন বিমানের টিকিট পাচ্ছেন না। আবার টাকা দিয়েছেন ভিসা ও টিকিট কিছুই পাননি। এ ছাড়া হজ প্যাকেজের টাকা নিয়ে এজেন্সি উধাও হয়েছে। হজ এজেন্সি মালিক ও তাদের দালাল দ্বারা যেসব ব্যক্তি প্রতারিত হয়েছেন তারা বর্তমানে রাজধানীর আশকোনার হজক্যাম্পে গিয়ে তাদের খুঁজছেন। প্রতারিতদের অনেকে হাউমাউ করে কাঁদছেন, আবার অনেকে হজ অফিসের পরিচালক, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হাবের কাছে লিখিত আবেদন দিচ্ছেন।

প্রতারিত হজযাত্রী সালাহ উদ্দিন বলেন, ২০১৭ সালে হজে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজধানীর পুরানা পল্টনের জান্নাত হজ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের মালিক মো. মিজানুর রহমানের কাছে আমরা ৯ জন ৩ লাখ টাকা করে দিয়েছি। তিনি আমাদের বলেন, ২০ আগস্ট ভিসা ও টিকিট হবে। ১৯ আগস্ট তার মোবাইলফোনে কল দেওয়া হলে বন্ধ পাওয়া যায়। এর পর তার অফিসে গিয়ে বন্ধ দেখতে পাই। তার খোঁজও পাচ্ছি না। এ বিষয়ে হজ অফিসের পরিচালক, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও হাবের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

আবদুস সালাম বলেন, হজব্রত পালনের জন্য পরিচিত আবু হানিফা নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে ঢাকা হজ কাফেলা অ্যান্ড ট্যুরসে অর্থ জমা দিই। ৬০ হাজার টাকা শতাংশের জমি ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে ওই অর্থ জমা দিয়েছি। এজেন্সি মালিক ১৮ আগস্ট আমার ভিসা ও টিকিট দেয় এবং ফ্লাইটের তারিখ দেয় ১৯ আগস্ট। আমার ভিসা-টিকিট হলেও স্ত্রী মমতাজ খাতুনের ভিসা-টিকিট না হওয়ায় ফ্লাইট বাতিল করে দেওয়া হয়। আমরা হজ অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি এজেন্সি মালিক আমার স্ত্রীকে অসুস্থ দেখিয়ে সেখানে অন্য একজনকে রিপ্লেসমেন্ট দিয়ে সৌদি আরবে পাঠিয়েছেন। স্ত্রীকে ছাড়া আমি হজে যাব না, তাই বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।

এ প্রসঙ্গে হাবের মহাসচিব শাহাদাত হোসেন তছলিম বলেন, কিছু কিছু হজযাত্রীর টাকা নিয়ে ভিসা করেনি, আবার ভিসা করেছে টিকিট দিচ্ছে নাÑ এমন অভিযোগ হজ অফিসে এবং আমাদের কাছে এসেছে। আমরা বিষয়গুলোর সমাধানের চেষ্টা করছি। যাদের ভিসা হয়েছে, কিন্তু টিকিট হয়নি তাদের টাকা ব্যাংকে থাকার কথা। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী হজযাত্রীর টিকিটের টাকা ব্যাংকে থাকবে। ব্যাংক টিকিটের টাকা হজ এজেন্সির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিমান ও সাউদিয়া এয়ারলাইনকে দেবে। যদি কোনো ভিসাপ্রাপ্ত হজযাত্রীর টিকিটের টাকা ব্যাংকে না থাকে, সে জন্য ব্যাংক দায়ী থাকবে। কারণ নিবন্ধিত হজযাত্রীদের বিমানের টিকিটের টাকা ব্যাংকে গচ্ছিত আছে। টিকিট পাচ্ছেন না হজযাত্রীরা এমন অভিযোগের ভিত্তিতে বৈঠকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়।

সব হজযাত্রী যেতে পারবেন

হজযাত্রীর সৌদি আরব পাঠানো নিয়ে যে অনিশ্চয়তার হয়েছিল, তার অবসান হয়েছে। ব্যবস্থাপনার সদস্যসহ সব হজযাত্রী যথাসময়ে সৌদি আরব যেতে পারবেন। গতকাল হজ অফিস থেকে এই তথ্য জানানো হয়।

হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসহ মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ৫৪৬ জন সৌদি আরব যাবেন। এর মধ্যে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে ৫০ হাজার ৫২০ জন এবং সাউদিয়া এয়ারলাইনসে ৫০ হাজার ২৭৪ জন মোট ১ লাখ ৭৯৪ সৌদি আরব গেছেন। সকাল ৮টার পর থেকে রাত পর্যন্ত আরও ৪ হাজারের বেশি হজযাত্রী যাওয়ার কথা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে হাব মহাসচিব বলেছেন, বিমানের হজ ফ্লাইট পরিচালনার সময় আরও দুই দিন বাড়ানোয় হজযাত্রী পরিবহন নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কেটে গেছে। বিমান আগামী ২৮ আগস্ট পর্যন্ত হজ ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে। ওই সময়ের মধ্যে সব হজযাত্রী চলে যেতে পারবেন।