১২ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং, ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
head banar ads here

ঈদাযাত্রায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু মিছিল

শুক্রবার, ০১/০৯/২০১৭ @ ৮:৩২ অপরাহ্ণ

Spread the love
ঈদাযাত্রায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু মিছিল

ঈদাযাত্রায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু মিছিল

আরটিএমনিউজ২৪ডটকম, নিউজ ডেস্কঃ  ঈদাযাত্রায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু, শ্রমিকসহ মোট ১২ জন নিহত হয়েছেন।  গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে আজ শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটে।এরমধ্যে চট্টগ্রাম নগরে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম নগরের হামজারবাগ ও আতুরার ডিপো এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন বশির আহমেদ (৩৫) ও মোহাম্মদ সোহেল (৩২)। বশিরের বাড়ি ভোলা সদরে। আর সোহেলের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায়।

গাজীপুরের শ্রীপুরের এমসি বাজার এলাকায় দুটি পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন তুষার (২০) নামের এক তরুণ। আজ শুক্রবার ভোর পাঁচটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকার রিপন মিয়ার ছেলে।মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, একটি পিকআপ ভ্যানের চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন তুষার। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তুষারের মৃত্যু হয়। জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আমিড়া গ্রামে চলন্ত ভটভটি থেকে পড়ে সাত বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত রিফাত আমিড়া স্থানীয় মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন জানিয়েছেন, ভটভটিতে করে বাড়িতে আসার সময় অসাবধানবশত পড়ে যায় রিফাত। ভটভটির চাকার নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলে মারা যায় সে।নড়াইলের কালিয়া-খুলনা সড়কের বেন্দা কাজী ভিলার সামনে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রলির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন সুজন শেখ (৩০) নামের এক তরুণ। আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সুজন খুলনার দীঘলিয়া উপজেলার মহিষদিয়া গ্রামের ইমরান শেখের ছেলে। কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শমসের আলী জানান, নিহত সুজন ট্রলির চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে গেলেও যাত্রীদের কোনো ক্ষতি হয়নি। আহত ট্রলিচালক আল আমিনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় যাত্রীবাহী একটি বাস খাদে পড়ে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ যাত্রী। ঢাকা থেকে নীলফামারীগামী আল রিয়াদ পরিবহনের ওই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পীরগঞ্জ উপজেলার বিশ মাইল কলাবাগান এলাকায় একটি খাদে পড়ে যায়। নিহত দুজন হলেন বাসের সুপারভাইজার রাজা মিয়া (৩৫) ও যাত্রী মফিদুল ইসলাম (৩০)। দুজনেরই বাড়ি নীলফামারী শহরে। আহত লোকজনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পীরগঞ্জ উপজেলার বড়দরগা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান বলেন, বাসটি এখনো খাদে পড়ে আছে। লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে। চালক পালিয়েছেন।অন্যদিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়ায় যাত্রীবাহী একটি বাস উল্টে স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মহাসড়কের সাতকানিয়ার নয়াখাল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তিনজন হলেন সাতকানিয়া পৌরসভার মোমিন চৌধুরীর ছেলে গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী (৩২), গিয়াসের স্ত্রী সৈয়দা নুরুন্নাহার (২৩) ও সাতকানিয়া উপজেলার আজিজুল ইসলাম (৬০)।

দুর্ঘটনায় আহত লোকজনকে প্রথমে কেরানীহাটের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে ও পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ জানায়, বিলাসী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস আরেকটি বাসকে অতিক্রম করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই তিন যাত্রী নিহত হন। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে যাত্রীবাহী বাস ও হিউম্যান হলার গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে হিউম্যান হলারের চালক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া চালকের সহকারীসহ দুজন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে পোস্টকামুরি চড়পাড়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আহতদের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হতাহত কারও পরিচয় পাওয়া যায়নি। এছাড়াও মাদারীপুরে যাত্রীবাহী বাস উল্টে গিয়ে আবুল হোসেন (৫২) নামের এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হন আরও ২০ যাত্রী। আজ বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ভাঙ্গাব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। উৎসঃ আমাদের সময়।