১১ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং, ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
head banar ads here

মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে অত্যাধুনিক সব অস্ত্র দিল কোন দেশ

মঙ্গলবার, ১২/০৯/২০১৭ @ ২:২৪ অপরাহ্ণ

Spread the love
মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে অত্যাধুনিক সব অস্ত্র দিল কোন দেশ

মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে অত্যাধুনিক সব অস্ত্র দিল কোন দেশ

আরটিএমনিউজ২৪ডটকম, নিউজ ডেস্কঃ  কমপক্ষে চার লাখ সদস্য নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দ্বিতীয় বৃহৎ সক্রিয় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তাদেরকে সক্রিয় রাখতে সরকারকে মোট বাজেটের প্রায় এক-চতুর্থাংশ বরাদ্দ রাখতে হয়। সংবাদ নিউজ ২৪ এর ।

সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করতে সরকার বিদেশের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তাদের কাছে প্রকাশ্যে বা গোপনে অস্ত্র বিক্রি করে আধুনিক যুগের মানবতার পক্ষে কথা বলা অনেক দেশ। এর মধ্যে রয়েছে চীন, ভারত, ইসরাইল, উত্তর কোরিয়া, রাশিয়া, ইউক্রেন, সিঙ্গাপুর, সার্বিয়া প্রভৃতি।

তারা কোটি কোটি ডলারের অস্ত্রই বিক্রি করছে। ফলে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হাতে রয়েছে অত্যাধুনিক সব অস্ত্র। এর মধ্যে রয়েছে কমপক্ষে ৫৯৪টি অত্যাধুনিক ট্যাংক। মিয়ানমারের হাতে রয়েছে কমপক্ষে ১২০০ সাঁজোয়া সামরিক যান। স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র রয়েছে ১৯২টি। টোউড সমরাস্ত্র রয়েছে ৩১ হাজার ৫৮২টি।

এছাড়া আকাশ প্রতিরক্ষায় রয়েছে প্রায় ২০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। আছে কমপক্ষে ২২৪টি গান সিস্টেম। ট্যাংক বিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে কমপক্ষে ১২০০। এসব অস্ত্রের বেশির ভাগই চীনে তৈরি। তবে যেসব দেশের নাম উল্লেখ করা হয় নি সেগুলো হলো- ব্রাজিল, বৃটেন, ফ্রান্স, যুগোস্লোভিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইডেন প্রভৃতি।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেয়ারও অভিযোগ আছে কোনো কোনো দেশের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি মিয়ানমারে গিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে ইসরাইলের সেনারা। রাখাইনে অতি সাধারণ রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর ব্যবহার করা হচ্ছে আমদানি করা অস্ত্র।

তা সত্ত্বেও সেখানে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করবে না ইসরাইল। সেদেশের টিএআর আইডিয়াল কনসেপ্টস নামের কোম্পানি রাখাইনে মিয়ানমারের স্পেশাল ফোর্সকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তারা মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রাখার প্রত্যয়ও ঘোষণা করেছে।

বেশকিছু দিন আগে প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে সবচেয়ে বেশি সামরিক অস্ত্র রপ্তানি করে চীন। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরপি)-এর রেজিস্ট্রারে অস্ত্র বিক্রির তথ্য মিলেছে।

তাতে দেখা গেছে, ১৯৮৮ সাল থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে চীনের কাছ থেকে ১৬৯ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম কিনেছে মিয়ানমার। গণতন্ত্রপন্থিদের উত্থান সহিংসতার মাধ্যমে দমিয়ে দিয়ে ওই ১৯৮৮ সালে ক্ষমতা দখল করেছিল সামরিক জান্তা। চীনের কাছ থেকে মিয়ানমার যেসব অস্ত্র কিনেছে তার মধ্যে রয়েছে সশস্ত্র সাঁজোয়া যান, ট্যাংক, যুদ্ধবিমান, রাডার সিস্টেম, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা।

মিয়ানমারের সঙ্গে রাশিয়ার রয়েছে কমপক্ষে ৩৯ কোটি ৬০ লাখ ডলারের সামরিক অস্ত্রের ব্যবসা। এর মধ্য দিয়ে মিয়ানমারে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রিতে চীনের পরেই অবস্থান রাশিয়ার। এর পরে রয়েছে সার্বিয়া। তারপরে ইউক্রেন। তবে ভূ-রাজনৈতিক কারণ বিবেচনায় মিয়ানমারে অস্ত্র ব্যবসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সেই বিবেচনায় ভারতের কথাই ধরা যাক। তারা ১৯৮৮ সালে গণতন্ত্রকামীদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারে দমন-পীড়নের কড়া প্রতিবাদ করেছিল।

কিন্তু বাণিজ্যিক, রাজনৈতিক ও সামরিক দিক দিয়ে যখন মিয়ানমারে চীনকে শক্ত অবস্থান নিতে দেখতে পেলো তখনই ভারতের শাসকগোষ্ঠী তাদের সেই আগের অবস্থান থেকে সরে আসে। তারা মিয়ানমারে চীনের এই উপস্থিতিকে আঞ্চলিক কৌশলে বড় ধরনের একটি হুমকি হিসেবে দেখতে থাকে। কারণ, এমন কৌশলে চীন ভারত মহাসাগরে অবাধ সুযোগ-সুবিধা পেয়ে যাবে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে যে লড়াই চালিয়ে আসছে ভারত তাতে মিয়ানমারের সহযোগিতা চায় তারা। তবে মিয়ানমারের কাছে তাদের অস্ত্র বিক্রি শুরু হয় ২০০৫ সালে।

এ ঘটনা ধরা পড়ে এসআইপিআরআই-এর রেজিস্ট্রারে। তাতে দেখা যায় মিয়ানমারের কাছে ভারত হস্তান্তর করেছে বৃটেনে তৈরি বিএন-২ আইল্যান্ডার লাইট পরিবহন যুদ্ধবিমান। এগুলো সেকেন্ড হ্যান্ড। এটা সামরিক কাজের জন্য ব্যবহারের মতো ছিল না। এছাড়া তারা হালকা সমরাস্ত্র, সেনাবাহিনীকে বহনের জন্য যান, ট্যাংকও সরবরাহ দিয়েছে বলে রিপোর্ট আছে।

তবে এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয় নি কোনো রিপোর্টে। তবে ভারতে তৈরি এএলএই হেলিকপ্টার বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়। তবে যুদ্ধবিমান দেয়া হয় মিয়ানমারকে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অস্ত্র বিষয়ে অবরোধ দিয়েছে এমন অনেক দেশও লাইসেন্সের অধীনে অস্ত্র বিক্রি করেছে।

সামরিক জান্তা বিরোধী যে প্রচারণা ছিল তাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা অবশ্যই লঙ্ঘিত হয়েছে। তখন ভারত বুঝতে পারে এতে ইউরোপের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিপদের মুখে পড়তে পারে।

এক পর্যায়ে মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রির কথা অস্বীকার করে ভারত। তবে তারা এটা স্বীকার করে যে, অভিন্ন সীমান্তে তারা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রতিরক্ষা বিষয়ক চুক্তিতে আবদ্ধ আছে। অনেক দেশ তার পুরনো হয়ে যাওয়া অস্ত্রশস্ত্র বিক্রি করে দিতে তৎপর হয়ে ওঠে। তখন তার এক আগ্রহী ক্রেতা হয়ে ওঠে মিয়ানমার।

রাশিয়া, সার্বিয়া ও ইউক্রেন- এ তিনটি দেশেই রয়েছে শীতল যুদ্ধ আমলের অনেক প্রতিরক্ষা বিষয়ক কারখানা, রয়েছে পরিত্যক্ত হার্ডওয়্যার। এসব বিক্রি করে দিয়ে তারা কিছুটা লাভের মুখ দেখতে চায়। এ ছাড়া মিয়ানমারের কাছে ইসরাইল আগে থেকেই অস্ত্র বিক্রি করে। সেদেশের অস্ত্র গবেষকরা বুদ্ধি দিতে থাকেন মিয়ানমার হতে পারে তাদের অস্ত্র ও অস্ত্র বিষয়ক প্রযুক্তির বড় একটি বাজার।

লন্ডনভিত্তিক গোয়েন্দা বিষয়ক জেন’স ইন্টেলিজেন্স রিভিউ প্রকাশনায় এক রিপোর্টে ২০০০ সালে অস্ত্র বিক্রি বিষয়ে দু’দেশের ঘনিষ্ঠ ও বিদ্যমান সম্পর্কের বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়। কিন্তু তখন ইসরাইল সরকার মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে। তবে মিয়ানমারের সাবেক সামরিক জান্তাদের সময়ে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে অস্ত্র কেনাবেচার বিষয়টি সবচেয়ে রহস্যে ঘেরা।

ব্যাপকভাবে প্রচার হয় যে, মিয়ানমারকে উত্তর কোরিয়া সরবরাহ করেছে স্কাড-টাইপের ক্ষেপণাস্ত্র, যা অন্য কোনো দেশ দিতে বা বিক্রি করতে চায় না। তবে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে মিয়ানমারের সামরিক সম্পর্কের বিষয়টি যাচাই করা খুবই কঠিন।

কারণ, এশিয়ায় এই দুটি দেশই অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করে। তাই উত্তর কোরিয়াকে অস্ত্র ক্রেতাদের জন্য সর্বশেষ উৎস হিসেবে আখ্যায়িত করেন অনেকে। এসআইপিআরআই-এর আর্মস ট্রান্সফারস প্রজেক্টের গবেষক সিমন ওয়েজম্যান ২০০৭ সালে বলেছেন, মিয়ানমারে অস্ত্র বিক্রির যতটুকু জানা যায় তা বৈধ। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি তমসাচ্ছন্ন।

কারণ, আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় এমন কিছু দেশ আছে তারা নিজেদের ভাবমূর্তিকে উন্নত দেখাতে চায়। কিন্তু মুখোশ পরে অস্ত্র বিক্রি করে। এরই মধ্যে মিয়ানমারের কাছে ইসরাইলের অস্ত্র উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো ১০০ ট্যাঙ্ক ও বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করেছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে।

জবাবে ইসরাইল সরকার বলেছে, তাদের এই অস্ত্র বিক্রি কূটনৈতিক। এক্ষেত্রে আদালতের বলার কিছু নেই। তবে ওই মামলায় অভিযোগকারীর আইনজীবী ইতাই ম্যাক বলেছেন, যখন অস্ত্র বিদেশে পাঠানো হয়ে যায় তখন সেই অস্ত্র রপ্তানির ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না ইসরাইলের। মিয়ানমারের বর্তমান কমান্ডার ইন চিফ জেনারেল মিন অং হ্লাইং ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইসরাইল সফর করেছেন।

এটাকে ইসরাইলি অস্ত্র কেনা বিষয়ক সফর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ইসরাইলের মানবাধিকার বিষয়ক কর্মী ওফের নেইম্যান বলেছেন, মিয়ানমারের সামরিক জান্তাদের কাছে ইসরাইলের প্রতিটি সরকার অস্ত্র বিক্রি করেছে।