১২ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং, ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
head banar ads here

পেঁয়াজের দামের ঝাঁজ ক্রেতাদের কাঁদাচ্ছে

শনিবার, ২৮/১০/২০১৭ @ ১:৫১ অপরাহ্ণ

Spread the love

পেঁয়াজের দামের ঝাঁজ ক্রেতাদের কাঁদাচ্ছে

পেঁয়াজের দামের ঝাঁজ ক্রেতাদের কাঁদাচ্ছে

আরটিএমনিউজ২৪ডটকম, ঢাকাঃ পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে রীতিমতো মাথায় হাত মো. আল আমিনের। গতকাল শুক্রবার তিনি ৮০ টাকা দরে ৫ কেজি পেঁয়াজ কিনেছেন ৪০০ টাকায়। অথচ দিন পাঁচেক আগে ৬৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনেছিলেন তিনি। আক্ষরিক অর্থেই রাজধানীর পেঁয়াজের বাজার এখন আগুন। লাগামহীনভাবে প্রতিদিন বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। পেঁয়াজের দামের ঝাঁজ ক্রেতাদের কাঁদাচ্ছে।
সংবাদ দৈনিক প্রথম আলোর ।

গত বুধবারও খুচরা বাজারে এক কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ৬৫ টাকা। আজ শনিবার সেই দাম ৮৪ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, চলতি মৌসুমে বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অনুকূলে ছিল না। বৃষ্টির কারণে পেঁয়াজের ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। এ কারণে বাজারে পেঁয়াজের সংকট রয়েছে।

তবে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ক্যাবের অভিযোগ, মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের অপকৌশলেই পেঁয়াজের দাম বাড়ছে।

আজ সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, আড়তগুলোতে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৮০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া মিসরীয় বড় আকারের পেঁয়াজের দাম ৫০ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬০ টাকা দরে।

আর মুদি দোকানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৮৪ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, এক মাসের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা করে বেড়েছে।

পেঁয়াজের দাম কেন বাড়ছে—জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের এক আড়তদার বলেন, ভারতীয় পেঁয়াজের সংকট আছে। আমদানি একদম কমে গেছে। এ ছাড়া বাজারে এখনো নতুন পেঁয়াজ ওঠেনি। এসব কারণে দাম বাড়ছে।

রাজধানীর খিলগাঁও, মালিবাগ ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ আছে। তবে ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কম। ক্রেতাদের অনেককেই মিসর থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ কিনছে।

খিলগাঁওয়ের মুদি দোকানদার শরিফ মিয়া বলেন, তিনি পাইকারি বাজার থেকে ৮২ টাকা কেজি দরে দেশি পেঁয়াজ কিনেছেন। এখন ১ থেকে ২ টাকা লাভে তা বিক্রি করছেন।

পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ী বলছেন, পেঁয়াজের দাম চলতি সপ্তাহে কমার কোনো সম্ভাবনা তাঁরা দেখছেন না; বরং দাম আরও বাড়তে পারে। ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসতে পারে। তখন দাম কমবে।

মসলাজাতীয় পণ্যের আমদানিকারক পুরান ঢাকার নারায়ণ বাবু সাহা বলেন, গত সপ্তাহে কালীপুজোর সময় পেঁয়াজের দাম ছিল ৪২ থেকে ৪৮ টাকা। ভারতে এবার দুই দফা বন্যায় পেঁয়াজের উৎপাদন মার খেয়েছে। বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। এখন ভারতেই ৩৮ থেকে ৪০ রুপিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। আজ দেশের বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের পাইকারি দাম ৫০ থেকে ৫২ টাকা। মিসর থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের পাইকারি দাম ৪২ থেকে ৪৩ টাকা। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। নতুন পেঁয়াজ না আসা পর্যন্ত দাম বাড়তে থাকবে বলে মনে হয়।

কারসাজির মাধ্যমে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নারায়ণ বাবু সাহা বলেন, ‘না, এখানে কারসাজির কোনো বিষয় নেই। কোনো অসাধু ব্যবসা চলছে না। কোরবানির ঈদের সময় পাকিস্তান ও চীন থেকে অনেক পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। ওই পেঁয়াজ আসতে প্রায় এক মাস সময় লাগে। এতে অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়। ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন। এখন বাজারে পেঁয়াজের সংকট রয়েছে। আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে ভারতের বাজারে নতুন পেঁয়াজ উঠবে। তখন দাম কমে আসবে।’

তবে ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে বলে মনে করেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির ভূঁইয়া। তিনি বলেন, পেঁয়াজ মজুত রেখে বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে না। খুচরা বিক্রেতারা যে পরিমাণ পেঁয়াজ চাইছেন, তা তাঁরা পাচ্ছেন না। কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের এটা অপকৌশল। এ বিষয়ে সরকারের কঠোর তদারকির দাবি জানান তিনি।