১২ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং, ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
head banar ads here

সাহাবা পরিচিতি: হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ)

সোমবার, ১৬/১০/২০১৭ @ ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ

Spread the love
সাহাবা পরিচিতি: হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ)

সাহাবা পরিচিতি: হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ)

 আরটিএমনিউজ২৪ডটকম, ইসলাম ডেস্কঃ  আবু সুলাইমান খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ ইবনে আল-মুগিরা আল-মাখজুমি (আরবি: أبو سليمان خالد بن الوليد بن المغيرة المخزومي‎‎‎; ৫৮৫–৬৪২) ছিলেনমুহাম্মাদ (সা.) এর একজন সাহাবি। তিনি তার উপাধিসাইফুল্লাহ আল-মাসলুল (আরবি: سيف الله المسلول‎‎) দ্বারাও পরিচিত। মুহাম্মাদ (সা.) এবং তার উত্তরসূরি খলিফা আবু বকরউমরের অধীনে সামরিক নেতৃত্বদান এবং নিজস্ব রণকৌশলের জন্য তিনি খ্যাত।[১] খিলাফতের সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে থাকাবস্থায় খালিদ একশটিরও বেশি যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছেন। এসকল যুদ্ধ বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য, সাসানীয় সাম্রাজ্য, তাদের মিত্র এবং অন্যান্য আরব গোত্রসমূহের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়েছে। তার কৌশলগত অর্জনের মধ্যে রয়েছে রিদ্দার যুদ্ধের সময়আরব উপদ্বীপকে ঐক্যবদ্ধকরণ এবং ৬৩২ থেকে ৬৩৬ সালের মধ্যে পার্সিয়ান মেসোপটেমিয়া এবংরোমান সিরিয়া বিজয়। ইয়ামামা, উলাইস, ফিরাজেতার ফলাফল নির্ধারণী বিজয় এবং ওয়ালাজাইয়ারমুকে তার কৌশলগত সাফল্যের জন্যও তাকে স্মরণ করা হয়।[২]

খালিদ বিন ওয়ালিদ
خالد بن الوليد
ডাকনাম সাইফুল্লাহ (আল্লাহর তলোয়ার)
জন্ম ৫৯২
মক্কা, আরব উপদ্বীপ
মৃত্যু ৬৪২
হিমস, সিরিয়া
সমাধি অবস্থিত খালিদ বিন ওয়ালিদ মসজিদ
আনুগত্য রাশিদুন খিলাফত
সার্ভিস/শাখা রাশিদুন সেনাবাহিনী
কার্যকাল ৬৩২–৬৩৮
ইউনিট মোবাইল গার্ড
নেতৃত্বসমূহ কমান্ডার-ইন-চিফ (৬৩২–৬৩৪)
ফিল্ড কমান্ডার (৬৩৪–৬৩৮)
মোবাইল গার্ডের কমান্ডার (৬৩৪–৬৩৮)
ইরাকের সামরিক গভর্নর (৬৩৩–৬৩৪)
চেলসিসের গভর্নর (৬৩৭–৬৩৮)

মক্কার কুরাইশ বংশের বনু মাখজুম গোত্রে খালিদ বিন ওয়ালিদের জন্ম হয়। উহুদের যুদ্ধে মুসলিমদের বিরুদ্ধে মক্কার জয়ে তিনি ভূমিকা রেখেছেন।হুদাইবিয়ার সন্ধির পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং মদিনায় হিজরত করেন। মুতার যুদ্ধসহ বেশ কিছু যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন। রোমানদের বিপক্ষে এটি মুসলিমদের প্রথম লড়াই ছিল। এই যুদ্ধের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে খালিদের নয়টি তলোয়ার ভেঙে গিয়েছিল। যুদ্ধে সেনাপতি জায়িদ ইবনে হারেসা,জাফর ইবনে আবি তালিবআবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা ক্রমান্বয়ে নিহত হওয়ার পর খালিদ সেনাপতি হিসেবে ভার নিয়েছিলেন। মুহাম্মাদ (সা.) এর মৃত্যুর পর বিদ্রোহী ও ইসলামত্যাগী আরবদের বিরুদ্ধেরিদ্দার যুদ্ধে তিনি মুসলিমদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সাসানীয় আরব মিত্ররাজ্য আল-হিরা তিনি জয় করেছিলেন। ইরাক (মেসোপটেমিয়া) জয়ের সময় তিনি সাসানীয় পার্সিয়ান বাহিনীকে পরাজিত করেছেন। পরে রোমান সিরিয়া এবং বাইজেন্টাইনদের আরব মিত্ররাজ্য গাসানিদের জয় করার জন্য তাকে পশ্চিম রণাঙ্গনে পাঠানো হয়।

উমর খলিফা হওয়ার পর খালিদকে সেনাপতির পদ থেকে অপসারণ করেন। তবে এরপরও খালিদ আরব-বাইজেন্টাইন যুদ্ধের প্রথম পর্যায়ে একজন কার্যকর নেতা হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন।[১] তার নেতৃত্বে মুসলিমরা ৬৩৪ সালে দামেস্ক জয় করে। ৬৩৬ সালেইয়ারমুকের যুদ্ধে মুসলিমরা গুরুত্বপূর্ণ বিজয় অর্জন করে।[১] এর ফলে বিলাদ আল-শাম (লেভান্ট) জয়ের পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়। ৬৩৮ সালে খালিদ তার সামরিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পান।

মূল যুদ্ধ, ক্ষুদ্র খণ্ডযুদ্ধ, একক দ্বন্দ্বযুদ্ধসহ একশটিরও বেশি যুদ্ধে খালিদ বিন ওয়ালিদ লড়াই করেছেন বলে জানা যায়। আজীবন তিনি অপরাজেয় যোদ্ধা ছিলেন। একারণে তাকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম সেনাপতিদের অন্যতম বলা হয়।

সংকলন: আবুল কাশেম।