১১ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং, ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
head banar ads here

অপ্রতিরোধ্য ক্রিকেট তারকা মাশরাফি

বুধবার, ২৯/১১/২০১৭ @ ২:০০ অপরাহ্ণ

Spread the love

অপ্রতিরোধ্য ক্রিকেট তারকা মাশরাফি

ক্রীড়া ডেস্কঃ যখন যেমন প্রয়োজন। রংপুর রাইডার্সকে জেতাতে তখন সেই ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেন এই তারকা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) যাকে টি-২০ থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে, সেই মাশরাফি টি-২০ ভার্সানে এখন দুর্দান্ত। এমনিতেই ক্রিস গেইল, ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম, থিসারা পেরেরা, লাসিথ মালিঙ্গার মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

এরপর দলের প্রয়োজনে পারফর্ম করে জয়েও রাখছেন ভূমিকা। গতকাল সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে উত্তেজনাপূর্ণ এক ম্যাচে রংপুরকে জয়ের লক্ষ্যে নিয়ে গেছেন এই অধিনায়ক। অথচ ম্যাচটা বেশ কঠিন হয়ে গিয়েছিল রাইডার্সের জন্য। বিশেষ করে ক্রিস গেইল সূচনায় আউটের পর নিজের ব্যাটিং স্টাইল পরিবর্তন করে খেললেন ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে অভ্যস্ত হলেও কাল আর সেটা করেননি। দলের প্রয়োজনে দেখেশুনে খেলেন দায়িত্বপূর্ণ ইনিংস। এতেই মূলত রাইডার্স চেজ করতে যেয়ে এগিয়ে যায়।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৯ রানের। বল হাতে ছুটে আসছিলেন ইংলিশ তারকা টিম ব্রেসনান। প্রথম বলটি ওয়াইড করেন তিনি মাশরাফিকে। দ্বিতীয় বলে আর কোনো রান নেননি রাইডার্সের এ অধিনায়ক। শুধু দেখছিলেন বলের নিশানা। এরপর অফ স্টাম্পের বেশ বাইরেই রেখেছিলেন বলটি। যাতে চার ছক্কা এ-জাতীয় বিগ শট নিতে না পারেন মাশরাফি। কিন্তু নাছোড় বান্দা মাশরাফি। বলের গতি দেখে একটু ডান দিকে ঝুঁকে বলটি ফুল টস করে লং অনের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন বল মাঠের বাইরে উড়িয়ে। ছক্কা। ৬ বলে ৮ রান থেকে প্রয়োজন দাঁড়ায় ৫ বলে ২। পরের বলে এক রান নিয়ে নন স্ট্রাইক জোনে গেলে নাহিদুল ওভারের চতুর্থ বলটি ক্লোজ ফিল্ডিংয়ের ফাঁক গলিয়ে চার। ম্যাচ শেষ। ২ বল হাতে রেখে জিতে যায় ম্যাচ রংপুর। তবে মাশরাফির ওই ছক্কাটা না হলে ম্যাচে উত্তেজনা হয়তো আরো বেড়ে যেত। কারণ বোলার তো কাউন্টি ক্রিকেটের পরীক্ষিত টিম ব্রেসনান। এমন বহু পরিস্থিতি মোকাবেলা করার অভিজ্ঞতা তার।

নাসির হোসেনের সিদ্ধান্ত ঠিকই ছিল। কিন্তু মাশরাফি তো মাশরাফিই। ১০ বলে ২ ছক্কার সঙ্গে ১৭ রান করে অপরাজিত থেকেই দলকে পৌঁছে দেন জয়ের লক্ষ্যে। আগের ম্যাচেও ভাইকিংসের বিপক্ষে দলকে জেতানোর পেছনে তার ছিল বিশাল ভূমিকা।

ওয়ান ডাউনে নেমে ১৭ বলে করেন তিনি ৪২ রান। যে ইনিংসে ছিল তার তিন ছক্কা ও চারটি চারের মার। ক্রিস গেইল, ম্যাককুলামরাও এমন ব্যাটিং করে থাকেন। বাংলাদেশের মাশরাফিও যে অমন করতে অভ্যস্ত সেটারই প্রমাণ দিলেন তিনি। বল হাতেও এ আসরে ৯ ম্যাচে নিয়েছেন ১০ উইকেট। বিসিবি তার এ পারফরম্যান্স দেখে কী বলবে কে জানে! তবে এটাও ঠিক মাশরাফিকে টি-২০ ছাড়া যে তাদের বিশাল বড় ভুল ছিল সেটা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।

কারণ বল হাতে যেমন দুর্দান্ত, ব্যাটিংয়েও জ্বলে ওঠেন ইদানীং আরো পরিণতভাবেই। এটাই নিয়ম। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারেরা প্রথম টেস্ট ম্যাচ ছেড়ে দেয় এরপর ওয়ানডে। টি-২০ খেলে যায় যত দিন পারেন তত দিন। এরপর সেখান থেকেও বিদায়। কিন্তু ইনজুরির জন্য টেস্ট ম্যাচ ছেড়ে দেয়া মাশরাফি ওয়ানডে অধিনায়ক বাংলাদেশের। অথচ এ ক্রিকেটারকে টি-২০ ছাড়া করে দিলো বিসিবি কোন পরামর্শে!

ম্যাচ শেষে মাশরাফি বলেন, ‘আসলে আমাদের সর্বশেষ পাঁচটি ম্যাচ খুব ক্লোজ হয়েছে এবং আমরা জিতেছিও। আসলেই এভাবে জেতা টাফ।’ তিনি বলেন, ‘তবে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় যে, ছেলেরা এ থেকে অনেক শিক্ষাও পাচ্ছে। কারণ চাপের মধ্যে খেলে সাফল্য পাওয়া এটা অনেক শিক্ষণীয়।’ রংপুরের অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে ১০ পয়েন্ট অর্জন করেছি। এখন বোধ হয় কিছুটা রিল্যাক্স হতে পারছি। কিন্তু ক’দিন আগেও আমরা সেটা পারিনি। কিছুটা টেনশন তো ছিলই।’ ৯ ম্যাচে ওই পয়েন্ট অর্জন তাদের। পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে রয়েছেন এখন তারা এবং শিরোপা লড়াইয়েই যথারীতি তারা বিপিএলের এ আসরে। এটা তো গেল দলের কথা।

-২০ছাড়া হওয়ার পর থেকে বিপিএলে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে জানান দিলেন তিনি এখনো তিনি আগের মতোই আছেন। বিসিবি অনুতপ্ত কি না সেটা জানা না গেলেও মাশরাফি রিল্যাক্স। যে পারফরম এখনো তিনি করতে পারছেন ঠিক আগেও যেটা করতেন!সুত্রঃ নয়া দিগন্ত।