১১ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং, ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
head banar ads here

ঈদে মিলাদুন্নবী সঃ পালন করা শরিয়তের দৃষ্টিতে কতটুকু বৈধ?

বৃহস্পতিবার, ৩০/১১/২০১৭ @ ১:৩৬ অপরাহ্ণ

Spread the love

ঈদে মিলাদুন্নবী সঃ পালন করা শরিয়তের দৃষ্টিতে কতটুকু বৈধ?

ইসলাম ডেস্কঃ ঈদে মিলাদুন্নবী সঃ শরিয়তের দৃষ্টিতে কতটুকু বৈধ ? কয়েক বছর পূর্বে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার এক মসজিদে উপস্থিত হলাম প্রতিদিনের মত এশার নামাজ আদায় করতে। দেখলাম আজ মসজিদ কানায় কানায় পূর্ণ। অন্য দিনের চেয়ে কম হলেও মুসল্লীদের সংখ্যা দশগুণ বেশী।

সাধারণত এ দৃশ্য চোখে পড়ে রমজান ওশবেকদরে। মনে করলাম হয়তো আজকারো বিবাহ অনুষ্ঠান কিংবাজানাযা। এত লোক সমাগমের কারণজিজ্ঞেস করলাম ইমাম সাহেবকে।তিনি বললেন আজ ১২ই রবিউলআউয়ালের রাত। মীলাদুন্নবীর উৎসবেররাত।সম্মানিত পাঠক!এ রাত ও পরবর্তী দিন ১২ ই রবিউলআউয়াল অত্যন্ত জাকজমকপূর্ণভাবে একসময় পালিত হত বৃহত্তর চট্রগ্রাম,নোয়াখালী,ও সিলেটের কিছু অঞ্চলে।দেশের অন্যান্য এলাকায়ও পালিত হততবে তুলনামুলক কম গুরুত্বে ।

এ রাতেখাওয়া-দাওয়া,আনন্দ উৎসবে মুখর হয়েউঠে অনেক পাড়া-মহল্লা। যারা এটাপালন করে তাদের উৎসব মুখরতা দেখলেমনে হবে নিশ্চয়ই এটা হবে মুসলিমদেরসবচেয়ে বড় উৎসবের দিন। আর এটাতাদের অনেকে বিশ্বাসও করে।তাইতো শ্লোগান দেয়, দেয়ালে লিখে“সকল ঈদের সেরা ঈদ, ঈদে মীলাদ।”কিন্তু বাস্তবে কি তাই?ইসলাম ধর্মে ঈদে মীলাদ বলতে কিকিছু আছে? ইসলামে ঈদ কয়টি? নবীকারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম এর জন্ম দিবস কি ১২ইরবিউল আউয়াল? নিশ্চিত ও সর্বসম্মতভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওফাত বা মৃত্যুদিবস কি ১২ই রবিউল আউয়াল নয়?

যেদিনে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকালকরলেন সে দিনে আনন্দ উৎসব করা কিনবী প্রেমিক কোন মুসলমানের কাজহতে পারে? শরীয়তের দৃষ্টিতে ঈদেমীলাদ পালন করা কি জায়েয? এটা কিবিধর্মীদের অনুকরণ নয়?এ সকল প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে এসংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম এর জন্ম দিবস কবে?কোন তারিখে রাসূলে আকরামসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামজন্ম গ্রহণ করেছেন তা নিয়েঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে।অনেকের মতে তার জন্ম দিন হল ১২ইরবিউল আউয়াল। আবার অনেকের মতে ৯ই রবিউল আউয়াল।

কিন্তু বর্তমানেআধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতিরফলে গবেষণা করে প্রমান করা সম্ভবহয়েছে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মদিনআসলে ছিল ৯ই রবিউল আউয়ালসোমবার। বর্তমান বিশ্বে সকলের নিকটসমাদৃত, সহীহ হাদীস নির্ভর বিশুদ্ধতমসীরাতগ্রন্থ হল ‘আর-রাহীক আল-মাখতূম’। নবী করীম সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্ম দিবসসম্পর্কে এ গ্রন্থে বলা হয়েছে‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৫৭১ খৃস্টাব্দে ৯ই রবিউলআউয়াল মোতাবেক ২০ এপ্রিল সোমবারপ্রত্যুষে জন্ম গ্রহণ করেন। এটাগবেষণার মাধ্যমে প্রমান করেছেনযুগের প্রখ্যাত আলেম মুহাম্মাদসুলাইমান আল-মানসূর ও মিশরেরপ্রখ্যাত জোতির্বিজ্ঞানী মাহমূদপাশা।আল্লামা শিবলী নোমানী ও সাইয়েদসুলাইমান নদভী রহঃ প্রণীত সাড়া-জাগানো সীরাত-গ্রন্থ হল‘সীরাতুন্নবী’।

এ গ্রন্থে বলা হয়েছে‘নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্ম দিবস সম্পর্কেমিশরের প্রখ্যাত জোতির্বিজ্ঞানীমাহমূদ পাশা এক পুস্তিকা রচনাকরেছেন। এতে তিনি প্রমাণ করেছেনযে,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম এর পবিত্র বেলাদত (জন্ম)৯ই রবিউল আউয়াল রোজ সোমবার,মোতাবেক ২০ এপ্রিল ৫৭১ খৃস্টাব্দ।মাহমূদ পাশা যে প্রমাণ-পত্র দিয়েছেনতা কয়েক পৃষ্ঠাব্যাপী বিস্তৃত।”তাদের গবেষণা বিষয়ের একটি দিক হলযে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম সহীহ হাদীসেনিজেই বলেছেন তার জন্ম সোমবারদিন হয়েছে। মাহমূদ পাশা গবেষণা ওহিসাব করে দেখিয়েছেন যে,সে বছর১২ রবিউল আউয়াল তারিখের দিনটাসোমবার ছিল না ছিল বৃহস্পতিবার। আরসোমবার ছিল ৯ই রবিউল আউয়াল।তাই বলা যায় জন্ম তারিখ নিয়েঅতীতে যে অস্পষ্টতা ছিল বর্তমানেতা নেই।

মাহমূদ পাশার গবেষণার এ ফলপ্রকাশিত হওয়ার পর সকল জ্ঞানীব্যক্তিরাই তা গ্রহণ করেছেন এবং কেউতার প্রমাণ খণ্ডন করতে পারেননি।অতএব নবী কারীম সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্ম দিবসহল ৯ই রবিউল আউয়াল। ১২ই রবিউলআউয়াল নয়। আর সর্বসম্মতভাবে তারইন্তেকাল দিবস হল ১২ই রবিউল আউয়াল।যে দিনটিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মোৎসবপালন করা হয় সে দিনটি মূলতরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইটিওয়াসাল্লামের মিলাদ (জন্ম) দিবসবরং তা ছিল তাঁর ওয়াত (মৃত্যু) দিবস।তাই দিনটি ঈদ হিসেবে পালন করারআদৌ কোন যৌক্তিকতা নেই।রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম এর জন্মদিন পালনসম্পর্কে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি:কোন ব্যক্তির জন্মদিবস পালন করাইসলাম সম্মত নয়। এটা হলখৃষ্টান,হিন্দু,বৌদ্ধসহ বিভিন্নঅমুসলিমদের রীতি। ইসলাম কারোজন্মদিবস পালন অনুমোদন করে না।এর প্রমাণ সমূহ নিম্নে তুলে ধরা হল:এক. দ্বীনে ইসলাম আজঅবিকৃত আছে এবং ইনশাআল্লাহথাকবে। ইসলামে সকল হুকুমআহকাম, আচার-অনুষ্ঠানসুনির্ধারিত ও কুরআন, সুন্নাহ,ইজমা ও কিয়াস দ্বারাপ্রমাণিত। কিন্তু নবী কারীমসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্ম দিবস বামীলাদ পালনের কথা কোথাওনেই। এমনকি নবী প্রেমেরনজীরবিহীর দৃষ্টান্তস্থাপনকারী সাহাবায়ে কেরামরাদিয়াল্লাহু আনহুমদের কেহ এধরনের কাজ করেছেন বলে কোনপ্রমাণ নেই। তাই ঈদে-মীলাদপালন করা নিশ্চয়ই একটিবেদআতকর্ম। আর বেদআত জঘন্যগুনাহের কাজ।দুই. ইসলামে কম হলেওচব্বিশ হাজার নবী, তারপরেখুলাফায়ে রাশেদীন ও অসংখ্যসাহাবা, মনীষি আওলিয়ায়েকেরাম জন্ম গ্রহণ করেছেন ওইন্তেকাল করেছেন। যদি তাদেরজন্ম বা মৃত্যু দিবস পালন ইসলাম-সমর্থিত হত বা সওয়াবের কাজহত তাহলে বছরব্যাপী জন্ম-মৃত্যুদিবস পালনে ঘূর্ণাবর্তে আবদ্ধহয়ে যেতে হত আমাদের সকলমুলমানদের। অন্যান্য কাজসর্মকরার ফুরসত মিলত থোরই।তিন. নবী কারীম সআলাইহি ওয়া সাল্লাম এরজন্মদিন পালনের প্রস্তাবসাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহুআনহুম কর্তৃক প্রত্যাখ্যাতহয়েছে।

যেমন হিজরীক্যালেন্ডার প্রবর্তিত হওয়াসময় উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুসাহাবায়ে কেরামকে নিয়েবৈঠকে বসলেন। কোন একস্মরনীয় ঘটনার দিন থেকে একটিনতুন বর্ষগণনা পদ্ধতি প্রবর্তনকরা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়াহয়। কেউ কেউ প্রস্তাব করলেনরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মতারিখ থেকে সন গণনা শুরু করাযেতে পারে। উমর (রা:) এপ্রস্তাব বাতিল করে দিয়েবললেন যে এ পদ্ধতি খৃষ্টানদের।উমার রাঃ এর এ সিদ্ধান্তেরসাথে সকল সাহাবায়ে কেরামএকমত পোষণ করলেন। এবংরাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম এরহিজরত থেকে ইসলামী সন গণনাআরম্ভ করলেন।চার.আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরসাহাবাগন ছিলেনসত্যিকারার্থে নবীপ্রেমিক ওসর্বোত্তম অনুসারী। নবীপ্রেমের অতুলনীয় দৃষ্টান্ততারাই স্থাপন করেছেন।

তারাকখনো নবী কারীম সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম এরজন্মদিনে ঈদ বা অনুষ্ঠান পালনকরেননি। যদি এটা করা ভাল হতও মহব্বতের পরিচায়ক হত তবেতারা তা অবশ্যই করতেন। আরজন্মোৎসব পালন করার কালচারসম্পর্কে তাদের কোন ধারণাছিল না তা বলা যায় না। কেননাতাদের সামনেই তো খৃষ্টানরাঈসা আলাইহিস সালাম-এরজন্মদিন (বড়দিন) উদযাপন করত।পাচ. জন্ম দিবস কেন্দ্রিক উৎসব-অনুষ্ঠান খৃষ্টান, হিন্দু,বৌদ্ধ ওঅন্যান্য অমুসলিমদের ধর্মীয়রীতি। যেমন বড়দিন,জন্মাষ্ঠমী,বৌদ্ধপূর্ণিমাইত্যাদি। তাই এটা মুসলিমদেরজন্য পরিত্যাজ্য। বিধর্মীদেরধর্মীয় রীতি-নীতি, আচার-অনুষ্ঠান যতই ভাল দেখা যাক নাকখনো তা মুসলিমদের জন্য গ্রহণকরা জায়েয নয়। এ কথারসমর্থনে কয়েকটি দৃষ্টান্তউপস্থাপন করা হল:(ক) রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:« ﻣَﻦْ ﺗَﺸَﺒَّﻪَ ﺑِﻘَﻮْﻡٍ ﻓَﻬُﻮَ ﻣِﻨْﻬُﻢْ »“যে ব্যক্তি কোন জাতির সাদৃশ্যতাগ্রহণ করবে সে তাদের অন্তর্ভূক্ত বলেগণ্য হবে।”(খ) আজানের প্রচলনের সময় কেউ কেউরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে প্রস্তাব করলেন যেসালাতের সময় হলে আগুন জ্বালানোযেতে পারে। কেউ প্রস্তাব করলেনঘণ্টা ধ্বনী করা যেতে পারে। কেউবললেন বাঁশী বাজানো যেতে পারে।কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানকরলেন। বললেন, আগুন জ্বালানো হলঅগ্নিপুজারী পারসিকদের রীতি। ঘণ্টাবাজানো খৃষ্টানদের ও বাঁশী বাজানোইহুদীদের রীতি।(গ) মদীনার ইহুদীরা আশুরার দিনেএকটি রোযা পালন করত।

রাসূলেকারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি রোযা রাখতে নির্দেশদিলেন,যাতে তাদের সাথে সাদৃশ্যতানা হয়।(ঘ) হিজরী সনের প্রবর্তনের সময়অনেকে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মদিনথেকে সন গণনার প্রস্তাব করেন। কিন্তুতা প্রত্যাখ্যাত হয়,খৃষ্টানদের অনুকরণহওয়ার কারণে।ইসলামে ঈদ কয়টি? ইসলামে ঈদ হল দুটি।ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা।ﻋَﻦْ ﺃَﻧَﺲٍ ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺪِﻡَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ -ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪﻭﺳﻠﻢ- ﺍﻟْﻤَﺪِﻳﻨَﺔَ ﻭَﻟَﻬُﻢْ ﻳَﻮْﻣَﺎﻥِ ﻳَﻠْﻌَﺒُﻮﻥَ ﻓِﻴﻬِﻤَﺎ ﻓَﻘَﺎﻝَ ‏«ﻣَﺎ ﻫَﺬَﺍﻥِ ﺍﻟْﻴَﻮْﻣَﺎﻥِ ‏» . ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻛُﻨَّﺎ ﻧَﻠْﻌَﺐُ ﻓِﻴﻬِﻤَﺎ ﻓِﻰﺍﻟْﺠَﺎﻫِﻠِﻴَّﺔِ . ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ -ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪﻭﺳﻠﻢ – ‏« ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻗَﺪْ ﺃَﺑْﺪَﻟَﻜُﻢْ ﺑِﻬِﻤَﺎ ﺧَﻴْﺮًﺍ ﻣِﻨْﻬُﻤَﺎ ﻳَﻮْﻡَﺍﻷَﺿْﺤَﻰ ﻭَﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻔِﻄْﺮِ ‏» ﺭﻭﺍﻩ ﺃﺑﻮ ﺩﺍﻭﺩসাহাবী আনাস বিন মালিক রাঃ থেকেবর্ণিত তিনি বলেন,রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদীনায়আসলেন তখন দেখলেন বছরের দুটি দিনেমদীনাবাসীরা আনন্দ-ফুর্তি করছে।তিনি জিজ্ঞেস করলেন এ দিন দুটোকি? তারা বলল যে আমরা ইসলামপূর্বমুর্খতার যুগে এ দু দিন আনন্দ-ফুর্তিকরতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ“আল্লাহ তাআলা এ দু’দিনের পরিবর্তেএর চেয়ে উত্তম দুটো দিন তোমাদেরদিয়েছেন। তা হল ঈদুল আজহা ও ঈদুলফিতর। ( আবু দাউদ)ইসলামে ঈদ শুধু দু’ টি এ বিষয়টি শুধুসহীহ হাদীস দ্বারাই প্রমাণিত নয়,তারবং ইজমায়ে উম্মত দ্বারাওপ্রতিষ্ঠিত। যদি কেউ ইসলামে তৃতীয়আরেকটি ঈদের প্রচলন করে তবে তাকখনো গ্রহণযোগ্য হবে না। বরং তাদ্বীনের মধ্যে একটা বেদআত ও বিকৃতিবলেই গণ্য হবে। যখন কেউ বলে ‘সকলঈদের সেরা ঈদ- ঈদে মীলাদ’ তখনস্বাভাবিক ভাবেই এর অর্থ হয় ইসলামেযতগুলো ঈদ আছে তার মধ্যে ঈদেমীলাদ হল শ্রেষ্ঠ ঈদ। কিভাবে এটাসম্ভব? যে ঈদকে আল্লাহ ও তার রাসূলস্বীকৃতি দেননি। সাহাবায়েকেরাম,তাবেয়ীন ও ইমামগন যে ঈদকেপ্রত্যাখ্যান করেছেন তা ইসলামেশ্রেষ্ঠ ঈদ বলে বিবেচিত হতে পারেকি ভাবে? কোন ভাবেই নয়। আর যে ঈদআল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম প্রচলন করে গেলেন তাশ্রেষ্ঠ হবে না। এটা কিভাবে মেনেনেয়া যায়? কোন ভাবেই নয়।

তবে শুধুএকদিক থেকে মেনে নেয়া যায়,আর তাহল যত ভূয়া ও ভেজাল ঈদ আছে তারমধ্যে শ্রেষ্ঠ হল এই ঈদ!তা সত্ত্বেও যদি ঈদ পালন করতেই হয়তবে তা ১২ ই রবিউল আউয়াল তারিখেনা করে ৯ ই রবিউল আউয়ালে করাযেতে পারে। তাহলে অন্তত সাইয়েদুলমুরসালীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকাল দিবসে ঈদ পালনকরার মত ধৃষ্ঠতা ও বেয়াদবির পরিচয়দেয়া হবে না। অবশ্য এটাও কিন্তুবেদআত বলে গণ্য হবে।সার কথা ১২ই রবিউল আউয়ালে ঈদে-মীলাদ উদযাপন করা শরীয়ত বিরোধীকাজ। এ ধরণের কাজ হতে যেমননিজেদের বাঁচাতে হবে তেমনি অন্যকেবিরত রাখার চেষ্টা করতে হবে।যে সকল কারণে ঈদে মীলাদুন্নবীপালন করা যাবে না:প্রথমতকুরআন ও হাদীসের কোথাও ঈদে-মীলাদ পালন করতে বলা হয় নি।রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম এরসাহাবায়ে কেরাম বাতাবেয়ীনগন কখনো এটা পালনকরেননি। তাই এটা বেদআত ওগোমরাহী।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ – ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ – ﻗَﺎﻟَﺖْ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُﺍﻟﻠَّﻪِ – ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ – ‏« ﻣَﻦْ ﺃَﺣْﺪَﺙَ ﻓِﻰﺃَﻣْﺮِﻧَﺎ ﻫَﺬَﺍ ﻣَﺎ ﻟَﻴْﺲَ ﻓِﻴﻪِ ﻓَﻬُﻮَ ﺭَﺩٌّ ‏» – ﺃﺧﺮﺟﻪﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ﻭﻣﺴﻠﻢ“আমাদের এ দীনে যে নতুন কোন বিষয়প্রচলন করবে তা প্রত্যাখ্যাতহবে।” (বুখারী ও মুসলিম।)তিনি আরো ইরশাদ করেন:ﻭَﺇِﻳَّﺎﻛُﻢْ ﻭَﻣُﺤْﺪَﺛَﺎﺕِ ﺍﻷُﻣُﻮﺭِ ﻓَﺈِﻥَّ ﻛُﻞَّ ﻣُﺤْﺪَﺛَﺔٍ ﺑِﺪْﻋَﺔٌﻭَﻛُﻞَّ ﺑِﺪْﻋَﺔٍ ﺿَﻼَﻟَﺔٌ ‏» ﺭﻭﺍﻩ ﺃﺑﻮ ﺩﺍﻭﺩ ﻭ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱﻭﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﻪ ﻋﻦ ﻋﺮﺑﺎﺽ ﺑﻦ ﺳﺎﺭﻳﺔ .“সাবধান! দীনের মধ্যে প্রবর্তিত নতুনবিষয় থেকে সর্বদা দূরে থাকবে।কেননা নব-প্রবর্তিত প্রতিটি বিষয় হলবেদআত ও প্রতিটি বেদআত হলপথভ্রষ্ঠতা।” (আবু দাউদ, তিরমিজী,ইবনে মাজা, মুসনাদে আহমাদ)দ্বিতীয়তঃ ঈদে মীলাদুন্নবী হখৃষ্টানদের বড় দিন,হিন্দুদেরজন্মাষ্ঠমী ও বৌদ্ধদের বৌদ্ধ-পূর্ণিমার অনুকরণ। ধর্মীয় বিষয়েতাদের আচার-অনুষ্ঠানেরবিরোধিতা করা ঈমানের দাবী।অথচ ঈদে-মীলাদ পালনেরমাধ্যমে তাদের বিরোধিতা নাকরে অনুসরণ করা হয়।তৃতীরবিউল আউয়াল নবী আকরামসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকাল দিবস।এতে কারো দ্বিমত নেই ও কোনসন্দেহ নেই। এ দিনে মুসলিমউম্মাহ ও সাহাবায়ে কেরামআল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম এরইন্তেকালের শোকে পাথর হয়েহয়ে গিয়েছিলেন। এসব জেনে-শুনে ঠিক এ দিনটিতে ঈদ তথাআনন্দ-উৎসব পালন করা চরমবেঈমানী ও নবীর শানেবেয়াদবী ভিন্ন অন্য কিছু হতেপারে না।চতুর্থতঃ মীলাদুন্নবী পালন করেঅনেকে মনে করে নবী কারীমসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি তাদেরদায়ীত্ব-কর্তব্য আদায় হয়েগেছে।

তাই তারা রাসূলেকারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম এর সীরাত ওআদর্শের প্রতি কোন খেয়ালরাখেন না। বরং তারাসীরাতুন্নবী নামের শব্দটাওবরদাশ্ত করতে রাজী নয়।পঞ্চমতঃ আল্লাহ ও তসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নির্ধারিতইসলামের দু’ঈদের সাথে তৃতীয়আরেকটি ঈদ সংযোজন করাইসলাম-ধর্ম বিকৃত করার একটাঅপচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লামের যথার্থ অনুসরণ করাহল ভালবাসার দাবি:আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লামকে কেন রাসূলহিসাবে প্রেরণ করলেন? তার প্রতিআমাদের করণীয় কি? আল্লাহ তাআলারাসূলকে এ জন্য পাঠিয়েছেন আমরাযেন তার অনুসরণ করি। তার নির্দেশনামত আল্লাহর হুকুম মান্য করি। আল্লাহরাব্বুল আলামীন বলেন:ﻭَﻣَﺎ ﺃَﺭْﺳَﻠْﻨَﺎ ﻣِﻦْ ﺭَﺳُﻮﻝٍ ﺇِﻟَّﺎ ﻟِﻴُﻄَﺎﻉَ ﺑِﺈِﺫْﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ“আমি রাসূলকে এ জন্যই পাঠিয়েছিযে,আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে তারআনুগত্য করা হবে।” (সূরা আন-নিসা: ৬৪)আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লামকে ভালবাসা ও তাকেমুহাব্বত করা হবে ঈমানের দাবী। যারমধ্যে রাসূলের ভালবাসা নেই সেঈমানদার নয়। রাসূলের ভালবাসারপরিচয় দেবেন কিভাবে? এর দুটি পদ্ধতিরয়েছে।

এক. আল্লাহর নির্দেশ মতজীবনের সর্বক্ষেত্রে তার অনুসরণ করেও এর জন্য যে কোন ত্যাগ ও কুরবানীস্বীকারে প্রস্তুত থেকে। দুই. তাঁকেঅনুসরণ না করে তার গুণগান ওপ্রশংসাকীর্তনে ব্যস্ত থেকে,মীলাদপড়ে,মীলাদুন্নবী উদযাপন করে।আসলে ভালবাসা প্রমাণ করার কোনপদ্ধতিটি সঠিক? আমার মনে হয়মতলববাজ ব্যতিত সকল মানুষ উত্তরদেবে সঠিক হল প্রথমটিই।আবু তালেবের কথা কারো অজানা নয়।আল্লাহর রাসূলের একেবারে শৈশবথেকে পঞ্চাশ বছর বয়স পর্যন্ত তাকেনিজ সন্তানের মত ভালবেসেছেন।লালন-পালন করেছেনআদর,স্নেহ,মমতা,ভালবাসা দিয়ে। আরএ ভালবাসতে গিয়ে অনেক কষ্টস্বীকার করেছেন। দীর্ঘ তিন বছরখেয়ে না খেয়ে উপোষ থেকে শোআবেআবু তালেব উপত্যকায় নির্বাসিতজীবন-যাপন করেছেন তাঁরই জন্য।ছায়ার মত সাথে থেকেছেন বিপদ-আপদে। রাসূল মুহাম্মাদের অনুসরণ করাদরকার এটা মুখে স্বীকারও করেছেন।কবিতাও রচনা করেছেন তাঁর উদ্দেশ্যে।কিন্তু অনুসরণ করলেন না তাঁর আনীতদাওয়াত ও পয়গামের। ফলে সব কিছুইবৃথা গেল।

তার জন্য দুআ-প্রার্থনাকরতেও নিষেধ করা হল।পশ্চিমা বহু লেখক ও চিন্তাবিদরামুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠমহামানব বলে স্বীকার করেন। কিন্তুতিনি যে সকল মানুষের জন্য অনুসরণীয়-অনুকরণীয় নির্ভুল আদর্শ,তাঁর নির্দেশিতপথই একমাত্র মুক্তির পথ,এ বিষয়টিতাদের কাছে বোধগম্য হয়ে উঠে না।গ্যেটে কারলাইল থেকে শুরু করেঅদ্যাবধি অতি সাম্প্রতিক মাইকেলহার্ট (দি-হান্ড্রেড লেখক) পর্যন্ত বহুলেখক,গবেষক,চিন্তাবিদ ও রাজতৈনিকনেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম সম্পর্কে অনেক সপ্রশংস-উক্তি,সীমাহীন ভক্তির নৈবদ্য পেশকরেছেন,অকুণ্ঠ চিত্তে স্বীকারকরেছন,আবহমান পৃথিবীর সর্বকালীনপ্রেক্ষাপটে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লামই সর্বোত্তমব্যক্তি।কিন্তু প্রশ্ন হল তাদের এ প্রশংসাওভালবাসার দাবি কি কোন কল্যাণেআসবে?আজকে যারা নবী মুহাম্মাদসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামেরমুহাব্বত ও ভালবাসার দাবি নিয়ে তাঁরইনির্দেশ লংঘন করে বিভিন্ন বেদআতিকাজ-কর্মের প্রসারে লিপ্ত। তার ধর্মেযা তিনি অনুমোদন করে যাননি তাযারা অনুমোদন করতে ব্যস্ত তাদেরপরণিতি কি হবে? এর আলোকে বিষয়টিবিবেচনা করার দাবি অসংগত হবে না।এ ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি বাণীপেশ করা যেতে পারে। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামবলেছেন:« َﺇِﻧِّﻰ ﻓَﺮَﻃُﻜُﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﺤَﻮْﺽِ ﻭَﺃُﻛَﺎﺛِﺮُ ﺑِﻜُﻢُ ﺍﻷُﻣَﻢَ ﻓَﻼَﺗُﺴَﻮِّﺩُﻭﺍ ﻭَﺟْﻬِﻰ ﺃَﻻَ ﻭَﺇِﻧِّﻰ ﻣُﺴْﺘَﻨْﻘِﺬٌ ﺃُﻧَﺎﺳًﺎ ﻭَﻣُﺴْﺘَﻨْﻘَﺬٌﻣِﻨِّﻰ ﺃُﻧَﺎﺱٌ ﻓَﺄَﻗُﻮﻝُ ﻳَﺎ ﺭَﺏِّ ﺃُﺻَﻴْﺤَﺎﺑِﻰ . ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺇِﻧَّﻚَﻻَ ﺗَﺪْﺭِﻯ ﻣَﺎ ﺃَﺣْﺪَﺛُﻮﺍ ﺑَﻌْﺪَﻙَ ‏» . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﻪ،ﻭﺻﺤﺤﻪ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ﻓﻲ ﺻﺤﻴﺢ ﺳﻨﻦ ﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﻪ“শুনে রাখো! হাউজে কাউছারের কাছেতোমাদের সাথে আমার দেখা হবে।তোমাদের সংখ্যার আধিক্য নিয়ে আমিগর্ব করব। সেই দিন তোমরা আমারচেহারা মলিন করে দিওনা। জেনেরাখো! আমি সেদিন অনেক মানুষকেজাহান্নাম থেকে মুক্ত করার চেষ্টাচালাব। কিন্তু তাদের অনেককে আমারথেকে দূরে সরিয়ে নেয়া হবে। আমিবলব: হে আমার প্রতিপালক! তারা তোআমার প্রিয় সাথী-সংগী, আমারঅনুসারী। কেন তাদের দূরে সরিয়েদেয়া হচ্ছে? তিনি উত্তর দেবেন:আপনি জানেন না,আপনার চলে আসারপর তারা ধর্মের মধ্যে কি কি নতুনবিষয় আবিস্কার করেছে। (ইবনেমাজাহ)অবশ্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লামকে ভালবাসতে হবে। তারজন্য বেশী বেশী করে দরূদ ও সালামপেশ করতে হবে। তার প্রশংসা করতেহবে। সর্বোপরি তাঁর সকল আদর্শ ওসুন্নাতের অনুসরণ অনুকরণ করতে হবে।কিন্তু এগুলো করতে যেয়ে তিনি যানিষেধ করেছেন আমরা যেন তার মধ্যেপতিত না হই। যদি হই তাহলে বুঝে নিতেহবে ভাল কাজ করতে গিয়ে শয়তানেরফাঁদে আমরা পা দিয়েছি।একটি সংশয় নিরসন:যারা বেদআতে লিপ্ত তারা অনেক সময়তাদের বেদআতি কাজকে সঠিক বলেপ্রমাণ করার জন্য কুরআন বা হাদীসথেকেও উদ্ধৃতি দেন, যদিও তার পন্থা-পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য নয়।

ঈদে মীলাদেরব্যাপারে তাদের অনেকে বলেন ঈদেমীলাদ বা রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্ম দিনপালন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।হাদীসটি হল:ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻗَﺘَﺎﺩَﺓَ ﺍﻟْﺄَﻧْﺼَﺎﺭِﻱِّ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻋَﻨْﻪُ ،} ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺳُﺌِﻞَ ﻋَﻦْﺻَﻮْﻡِ ﻳَﻮْﻡِ ﻋَﺮَﻓَﺔَ ، ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﻳُﻜَﻔِّﺮُ ﺍﻟﺴَّﻨَﺔَ ﺍﻟْﻤَﺎﺿِﻴَﺔَﻭَﺍﻟْﺒَﺎﻗِﻴَﺔَ ﻭَﺳُﺌِﻞَ ﻋَﻦْ ﺻَﻮْﻡِ ﻳَﻮْﻡِ ﻋَﺎﺷُﻮﺭَﺍﺀَ ، ﻓَﻘَﺎﻝَ :ﻳُﻜَﻔِّﺮُ ﺍﻟﺴَّﻨَﺔَ ﺍﻟْﻤَﺎﺿِﻴَﺔَ ﻭَﺳُﺌِﻞَ ﻋَﻦْ ﺻَﻮْﻡِ ﻳَﻮْﻡِ ﺍﻟِﺎﺛْﻨَﻴْﻦِ، ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﺫَﻟِﻚَ ﻳَﻮْﻡٌ ﻭُﻟِﺪْﺕ ﻓِﻴﻪِ ، ﻭَﺑُﻌِﺜْﺖ ﻓِﻴﻪِ ﻭَﺃُﻧْﺰِﻝَﻋَﻠَﻲَّ ﻓِﻴﻪِ { ﺭَﻭَﺍﻩُ ﻣُﺴْﻠِﻢٌসাহাবী আবু কাতাদাহ রা. থেকেবর্ণিত যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সোমবারেরোযা রাখার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করাহল। তিনি বললেন, “এ দিনে আমার জন্মহয়েছে এবং এ দিনে আমাকে নবুওয়াতদেয়া হয়েছে বা আমার উপর কুরআননাযিল শুরু হয়েছে।” (বর্ণনায় : মুসলিম)তারা এ হাদীস পেশ করে বলতে চানযে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লামসোমবার দিনেজন্ম গ্রহণ করেছেন বলে ঐ দিনে রোযাপালন করে তা উদযাপন করাকে সুন্নাতকরেছেন। তাই জন্মদিন পালন এ হাদীসদ্বারা প্রমাণিত।জওয়াব:এক. আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু জন্মদিনের কারণে সোমবার রোযারাখতে বলেননি। বরংবৃহস্পতিবারও রোযা রাখাকেসুন্নাত করেছেন। সেটা তাঁরজন্মদিন নয়। হাদীসে এসেছে:« ﺗُﻌْﺮَﺽُ ﺍﻷَﻋْﻤَﺎﻝُ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻻِﺛْﻨَﻴْﻦِ ﻭَﺍﻟْﺨَﻤِﻴﺲِ ﻓَﺄُﺣِﺐُّﺃَﻥْ ﻳُﻌْﺮَﺽَ ﻋَﻤَﻠِﻰ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﺻَﺎﺋِﻢٌ ‏» ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ﺭﻭﺍﻩﻣﺴﻠﻢ ﺑﻐﻴﺮ ﺫﻛﺮ ﺍﻟﺼﻮﻡআবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত যেরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,“সোমবার ওবৃহস্পতিবার বান্দার আমল আল্লাহরদরবারে পেশ করা হয়। কাজেই আমিপছন্দ করি যখন আমার আমল পেশ করাহবে তখন আমি রোযাদারথাকব।” (বর্ণনায়: মুসলিম ও তিরমীজি)উল্লেখিত হাদীস দ্বারা কয়েকটিবিষয় স্পষ্টভাবে বুঝে আসে। তা হল:দুই. যদিরোযা রাখার বিধান হত তাহলেশুধু সোমবারে রোজা রাখাসুন্নাত হত। কিন্তু তা হয়নি, বরংবৃহস্পতিবার ও সোমবার সপ্তাহেদুদিন রোযা রাখাকে সুন্নাতকরা হয়েছে। তাই এ রোযারকারণ শুধু জন্ম দিবস নয়।তিন. এ দু দিনে রোযাহওয়ার কারণ হল আল্লাহ রাব্বুলআলামীনের কাছে আমল পেশহওয়া।চার.কারণে। জন্মদিন ও নবুওয়াতপ্রাপ্তি বা কুরআন নাযিল। শুধুজন্ম দিন হিসেবে নয়।সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্মদিন সোমবারেঈদ পালন করতে বলেননি বরংঈদের বিরোধীতা করে রোযারাখতে বলেছেন।ছয়. রোযা হল ঈদেরোযা রাখলে সে দিন ঈদ করাযায় না, ঈদ ও রোযা কোন দিনএক তারিখে হয় না। হাদীসেরদাবি হল রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্মদিনে রোযারাখা। কিন্তুরোযা না রেখেতার বিপরীতে পালন করারপেছনে কি যুক্তি থাকতেপারে?সাত. তর্কের খাতিরে যদি ধরনেয়া যায় যে এ হাদীসটিতেরাসূলের জন্মদিন পালনেরইঙ্গিত রয়েছে। তাহলে হাদীসঅনুযায়ী প্রতি সোমবার কেন ঈদপালন করা হচ্ছে না?সোমবারেও নয় বরং ঈদ পালনকরা হচ্ছে বছরে একবার রবিউলআউয়াল মাসের ১২ তারিখে। সেদিন সোমবার না হলেও পালিতহয়। এ হাদীসে কি ১২ই রবিউলআউয়ালে জন্মদিন পালন করতেবলা হয়েছে?আট. যদি তর্কের খাতিরেনেয়া হয় উল্লেখিত হাদীসটিরাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্মদিন পালন করতেউৎসাহিত করা হয়েছে তা হলেআমি বলব হ্যাঁ, হাদীসটিতেজন্মদিবস কিভাবে পালন করতেহবে তাও বলে দেয়া হয়েছে। তাহল ঐ দিনে রোযা রাখা। কিন্তুঐ দিনে রোযা না রেখে বেশীখাওয়া দাওয়া করা হয়।

ঈদ নামদিয়ে রোযা রাখার বিরোধিতাকরা হয়। তা হলে তাদের কাছেরোযা রাখার সুন্নাতের চেয়েখাওয়া-দাওয়া বেশী প্রিয়? মনেরাখা উচিত প্রেম মুহাব্বাতেরসত্যিকার প্রমাণ হল ত্যাগ ওকুরবানী করা, উপোস থাকা, কষ্টস্বীকার করা। খাওয়া-দাওয়া ওআমোদ-ফুর্তি নয়। মুখে নবীপ্রেমের দাবি ও কাজ-কর্মেতার আদর্শের বিরোধিতা করারনাম কখনো মুহাব্বাত হতে পারেনা। বরং বলা চলে ধোকাবাজি।আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরসকলকেই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতিভালবাসা এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রেতাদের আনুগত্য করার তাওফীক দানকরু।

লেখক : আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান। ( সংগৃহিত )