১১ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং, ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
head banar ads here

আওয়ামী নেতা জাফরুল্লাহর ইচ্ছেমত নিয়োগ হবে বিসিএস কর্মকর্তা”

মঙ্গলবার, ০৫/১২/২০১৭ @ ১১:০৩ অপরাহ্ণ

Spread the love

আওয়ামী নেতা জাফরুল্লাহর ইচ্ছেমত নিয়োগ হবে বিসিএস কর্মকর্তা”

নিউজ ডেস্কঃ ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে বিসিএস পরীক্ষার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করার অভিযোগ এসেছে। তিনি তার পছন্দের পরীক্ষার্থী যাতে প্রথম শ্রেণীর এই চাকুরী পায় সেজন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রী বরাবর চিঠি লিখেন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ সম্প্রতি ৩৭ তম বিসিএসে অংশগ্রহণ করা এক পরীক্ষার্থীর কথা উল্লেখ করে চিঠি দিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে। চিঠিতে তিনি উক্ত পরীক্ষার্থী একজন একনিষ্ঠ আওয়ামী পরিবারের সদস্য উল্লেখ করে তাকে রাষ্ট্রের এই সর্বোচ্চ শ্রেণীর চাকুরী দিতে অনুরোধ করেন।

এই পরীক্ষার্থী ৩৭ তম বিসিএসে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। আগামী ৭ ডিসেম্বর তার মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরণের অনৈতিক চর্চা পুরোপুরি বন্ধ হওয়া উচিত। তারা সাবধান করে দিয়ে বলেন, এই ধরণের চর্চা বন্ধ না হলে অচিরেই বাংলাদেশের সিভিল প্রশাসনের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে।

কাজী জাফরুল্লাহ তার এই চিঠি ২৭ নভেম্বর মন্ত্রী বরাবর পাঠিয়েছেন দলীয় প্যাড ব্যবহার করে। চিঠির একটি কপি আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে।

চিঠিতে কাজী জাফরুল্লাহ বলেছেন, “৩৭ তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে হয়েছে। আমার প্রার্থী পরীক্ষায় পাশ করেছে। সে আমার এলাকার একান্তভাবে আওয়ামী পরিবারের এক মেধাবী শিক্ষার্থী এবং ৭ ডিসেম্বর মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে । সে আগেও পিএসসির একটি মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে কিন্তু চাকুরী পায় নি। আমি এই প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।”

এই ব্যাপারে জানতে চাইলে কাজী জাফরুল্লাহ বলেন, ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসনে তার গ্রামের প্রার্থীকে বিসিএস ক্যাডার নিয়োগের জন্য জন প্রশাসন মন্ত্রীকে তিনি সুপারিশ করেছেন।

তিনি আরো বলেন, “আমি একজন রাজনৈতিক নেতা তাই আমি প্রায়ই এ ধরনের সুপারিশ করে থাকি। তবে কোনও নিশ্চয়তা নেই যে এই ধরনের সুপারিশে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা হয়ে যাবে “।

“তাছাড়া ইদানিং কেউ এই ধরনের সুপারিশ ছাড়া চাকুরী পায় না। তাই আমি রাজনৈতিক বিবেচনায় আমার লোকদের জন্য সুপারিশ করি”।

এই বিষয়ে বিপিএসসির চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ সাদিকের সাথে কথা বললে তিনি জানান, সব প্রার্থীকেই লিখিত পরীক্ষা এবং মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়মানুযায়ী বাছাই করা হবে।

তিনি আরো বলেন, “নির্বাচিত পরীক্ষার্থীদের বাছাই করার জন্য আমরা রাজনৈতিক সুপারিশ কখনোই গ্রহণ করি না। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীরা এই ক্যাডার চাকুরী পেতে পারে “

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিসিএস ক্যাডারের চাকরির জন্য একজন প্রার্থী নিয়োগের ব্যাপারে রাজনৈতিক নেতার সুপারিশ অনৈতিক, অসাংবিধানিক এবং অগ্রহণযোগ্য।

তিনি আরো বলেন, “সব সরকারি চাকুরীর নিয়োগ হওয়া উচিত প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে, রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়”

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের চাকরির লিখিত পরীক্ষা ‘ভালো করে’ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছিলেন, ‘তোমাদের লিখিত পরীক্ষায় ভালো করতে হবে। তারপরে আমরা দেখব।’

তিনি আরও বলেছিলেন ‘তোমরা কি মনে কর নেত্রীর (শেখ হাসিনার) চেয়ে তোমাদের জন্য কারও বেশি দরদ আছে? নেত্রীর সঙ্গে কথা হলে তিনি সব সময় বলেন, কীভাবে আমাদের ছেলেদের জন্য ব্যবস্থা করা যায়।’ এইচটি ইমামের এ বক্তব্যে তখন সামাজিক মাধ্যমে ব্যপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সুত্রঃ বাংলামেইল৭১।