২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং, ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
ads here

সৌদির ক্রোধে নিহত আলোচিত সাংবাদিক খাসোগিকে নিয়ে তুর্কি মেয়ের আবেগময় লেখা

মঙ্গলবার, ১৬/১০/২০১৮ @ ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

সৌদির ক্রোধে নিহত আলোচিত সাংবাদিক খাসোগিকে নিয়ে তুর্কি মেয়ের আবেগময় লেখা সৌদির সাংবাদিক জামাল খাসোগির গতকাল শনিবার ছিল জন্মদিন। দিনটি ঠিকই এল, কিন্তু কোনো উৎসব হলো না। ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেট ভবনের ভেতরে ঢোকেন। আর ফেরেননি। সেখানে তিনি খুন হন। জন্মদিনে নিউইয়র্ক টাইমসে জামাল খাসোগিকে নিয়ে এক আবেগঘন কলাম লিখেছেন  তার প্রেমিক হাটিজে জেংগিস। সেই চিঠি পড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আপ্লুত হয়েছেন বলেও সমালোচিত। ট্রাম্পের সঙ্গে দেখাও করতে চান হাটিজে।

জামালের বিষয়টি বিশ্ব মিডিয়ায় এখন আলোচিত ইস্যু। তুরস্ক বলছে, কনস্যুলেট ভবনের ভেতরে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যায় অংশ নিয়েছে সৌদি থেকে তুরস্কে আসা ১৫ সদস্যের স্কোয়াড।

খাসোগির ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান, রাজনৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করার সাহস মুগ্ধ করে হাটিজেকে। একসময় তাঁদের মধ্যে আবেগী একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা দুটি মানুষের ভাগ্য একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।

গতকাল নিউইয়র্ক টাইমসে জামাল খাসোগিকে নিয়ে এক আবেগঘন কলাম লিখেছেন হাটিজে জেংগিস। তাতে জানা যায়, গত মে মাসে ইস্তাম্বুলে একটি সম্মেলনে পরিচয় হয় দুজনের। খাসোগির লেখার বিষয় সম্পর্কে আগে থেকে পরিচিত ছিলেন হাটিজে। তাই মধ্যপ্রাচ্য ও ওই অঞ্চলের রাজনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা আলাপ হয় তাঁদের। জামাল তাঁর জন্মভূমির সাম্প্রতিক রূপান্তর নিয়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। তবে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন তিনি।

সৌদি সাংবাদিক জামালের পরিবারের শিকড় ছিল তুরস্কে। তবে সৌদি আরবই ছিল তাঁর জন্মভূমি। ৩০ বছর ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত তিনি। সৌদি গেজেটসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদক ছিলেন তিনি। সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন আরব নিউজ ও আল ওয়াতান পত্রিকায়। টেলিভিশন মিডিয়াতেও কাজ করেছেন তিনি। ছিলেন কলাম লেখক। সৌদি আরবের অন্যতম নেতা ও নীতিনির্ধারকসহ সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান প্রিন্স তুর্কি আল-ফয়সালের উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন খাসোগি। ওয়াশিংটন পোস্টে তিনি কলাম লিখতেন। সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের কড়া সমালোচক খাসোগি গ্রেপ্তার আতঙ্কে নিজ দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসিত হন।

হাটিজে জানান, খাসোগির সততা ও আন্তরিকতা মুগ্ধ করে তাঁকে। একে অপরকে যখন জানলেন হাটিজে অবাক হয়ে দেখলেন খাসোগি কেবল একজন তীক্ষ্ণ বুদ্ধির পরিপূর্ণ সাংবাদিক ও চিন্তাবিদই নন বরং একজন সংবেদনশীল মানুষ। যিনি নিজের দেশের জন্য এক তীব্র বেদনা নিয়ে জীবন পার করছেন। পরিবার, স্বজন, ধর্মীয় সংস্কৃতি ছেড়ে বিদেশ বিভুঁইয়ে পালিয়ে থাকা খাসোগির জন্য একরকম বোঝা ছিল। সামান্য একটা ইচ্ছে ছিল খাসোগির। মদিনার রাস্তায় শঙ্কাহীনভাবে হেঁটে বেড়ানোর। বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করার। প্রাণখোলা হাসিতে মেতে ওঠার, যা হয়তো আর কখনই পূরণ হওয়ার নয়।

হাটিজে তাঁর কলামে খাসোগির চরিত্রের মানবিক কিছু দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিশ্বের অনেক দেশ ভ্রমণ করেছেন খাসোগি, তবে হৃদয়ে সব সময় ধারণ করেছেন সৌদি আরবকে। অথচ নিজের এই দেশেই ঠাঁই ছিল না তাঁর। সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচনা করায় দেশ ছাড়তে হয় তাঁকে। সালমানের ক্রোধের মুখে দুটি স্যুটকেস নিয়ে দেশান্তরী হন খাসোগি। তবে দেশপ্রেমিক খাসোগি প্রাণভয়ে দেশ ছাড়েননি। নিজের চিন্তাভাবনা ও মতামতগুলো নিয়ে আরও বেশি করে লেখার জন্যই চলে আসেন। যখন কষ্ট হতো তখন তিনি ভাবতেন তাঁর কারাবন্দী বন্ধুদের কথা। আর নিজেকে সান্ত্বনা দিতেন এই বলে যে তিনি তো অন্তত মুক্তভাবে লিখতে পারছেন।

জীবনের সব দুঃখ–কষ্ট–আনন্দ ভাগ করে নিতেই ভালোবেসেছিলেন হাটিজেকে। বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। খাসোগির স্বপ্ন ছিল, যেন একদিন ঘুম থেকে উঠে মনে হবে না এই পৃথিবীতে তিনি একা। তাই বিয়েসংক্রান্ত কিছু কাগজপত্র আনার জন্যই ২ অক্টোবর কনস্যুলেট ভবনে যান তিনি।

জামাল খাসোগি ও হাটিজে জেংগিসওই কলামে হাটিজে লেখেন, ২ অক্টোবর চমৎকার একটি দিন ছিল। কনস্যুলেট ভবনে ঢোকার আগে সারা দিনের কর্মপরিকল্পনা করে নিয়েছিলেন তাঁরা। ভবনে ঢোকার আগমুহূর্তে খাসোগি হাটিজেকে বলে রাখেন তিনি ফিরে না এলে তুর্কি কর্তৃপক্ষকে দ্রুত বিষয়টি জানাতে। এরপর হেঁটে হেঁটে ভবনের দরজা দিয়ে ঢুকে যান খাসোগি, সেই দরজা দিয়ে আর তিনি ফিরে আসেননি। আর ওই দিন খাসোগির সঙ্গে সঙ্গে যেন হাটিজের জীবনের সব আনন্দও হারিয়ে গেল।

গত ১২ দিনে (২ থেকে ১৩ অক্টোবর) হাটিজের জীবনের সবকিছু ওলট–পালট হয়ে গেছে শুধু এই ভাবনায়, খাসোগি কি বেঁচে আছেন? বেঁচে থাকলে কেমন আছেন? এই ১২ দিনের প্রতিটি দিন হাটিজের ঘুম ভেঙেছে তাঁর কণ্ঠস্বর শোনার অপেক্ষায়।

হাটিজে শুনেছেন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেদিন ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটের অভ্যন্তরে যা ঘটেছে, তা প্রকাশ করার প্রচেষ্টায় যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট সত্যিকারের চেষ্টা করেন, তবে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চান হাটিজে।

হাটিজে জেংগিস মনে করেন, খাসোগিকে যদি সৌদি সরকার হত্যাই করে, তবে এই শেষ, এটা ভাববার কোনো অবকাশ নেই। নিঃসঙ্গ এই দেশপ্রেমিককে হত্যা করার মধ্য দিয়ে সব শেষ হয়নি। হাজার হাজার খাসোগি জন্ম নেবে। খাসোগির চিন্তা, তাঁর বক্তব্য তুরস্ক থেকে সৌদি পর্যন্ত প্রতিফলিত হবে। কতজনের মুখের ভাষা রুখে দেবে সৌদি সরকার? #সংগৃহীত।

ছবি, Almay একজন মরোক্কান নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে তিনি
ফাইল ছবি। কুয়েত সিটিঃ হাওয়ালী জেলার জাবরিয়া এলাকার রাস্তায় এক
ছবি, নিউইয়র্ক টাইমস। অাফগা‌নিস্তা‌নে ঈ‌দে মিলাদুন্নবী( সা)অনুষ্ঠা‌নে বোমা হামলায় ৫০ জন
মধ্য তুরস্কে কিরশেহির শহরের ‘হামিদিয়া জামে মসজিদে’ প্রবেশ করলে আপনি হতভম্ব হয়ে পড়তে পারেন যে,
ছবি, বিবিসি। ১৯৫৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ঘটনা। শিকাগোর লিঙ্কন পার্ক চিড়িয়াখানার

[caption id="attachment_71010" align="alignleft" width="400"] ছবি, Almay[/caption] একজন মরোক্কান নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে তিনি
[caption id="attachment_68030" align="alignleft" width="500"] ফাইল ছবি। [/caption] কুয়েত সিটিঃ হাওয়ালী জেলার জাবরিয়া এলাকার রাস্তায় এক
[caption id="attachment_70942" align="alignleft" width="1024"] ছবি, নিউইয়র্ক টাইমস।[/caption] অাফগা‌নিস্তা‌নে ঈ‌দে মিলাদুন্নবী( সা)অনুষ্ঠা‌নে বোমা হামলায় ৫০ জন
মধ্য তুরস্কে কিরশেহির শহরের ‘হামিদিয়া জামে মসজিদে’ প্রবেশ করলে আপনি হতভম্ব হয়ে পড়তে পারেন যে,
[caption id="attachment_70832" align="alignleft" width="400"] ছবি, বিবিসি।[/caption] ১৯৫৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ঘটনা। শিকাগোর লিঙ্কন পার্ক চিড়িয়াখানার

অনলাইন জরিপ

?????
22 Vote

Cricket Score

Poll answer not selected