, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০

Avatar rtm

চিঠি আলাপন

প্রকাশ: ২০১৯-০৪-০৮ ০৯:৫৫:৪৩ || আপডেট: ২০১৯-০৪-০৮ ০৯:৫৫:৪৩

Spread the love

তানভীর সিকদার

একটি চিঠি লিখার ছিলো তোমাকে।
নিউজপ্রিন্ট খাতার মতো ধূষর, আবার–
শরতের আকাশের চেয়েও সুন্দর হবে যে চিঠি।
অথচ লিখতে বসলেই স্মৃতিগুলো কাঠঠোকরা হয়ে
জর্জরিত করে ফেলে হৃদয়।
আমার সমস্ত রক্ত হিম হয়ে আসে নিমিষে,
অজান্তেই দুঃখগুলো ঝরে পড়ে কবিতার খাতায়।
নাগরিক শহরে যেমন ডোবার উপর দাঁড়িয়ে যাচ্ছে দালান
তেমনি–
তোমাকে লিখা চিঠিগুলোর উপরও দাঁড়িয়ে যাচ্ছে কবিতা।

তোমাকে লিখতে গেলেই মনে পড়ে যায়
ডলুর হাতধরে চলে যাওয়া একটি শৈল্পিক মেঠোপথের কথা,
ভাঙার অপজিটে বাঁশের কিঞ্চিতে তৈরি মাচান,
ক্ষুধার্ত পেট নিয়ে তোমার প্রতীক্ষায় থাকা বেহিসাবি বিকেল,
মনে পড়ে যায় পাশাপাশি হাঁটার প্রতিযোগিতা।
নতজানু হয়ে ভিক্ষুকের মতো হাতপাতা সেই প্রেমিকের কথাও
কেনো যে মনে পড়ে যায় আমি নিজেও জানি না!
তোমাকে চিঠি লিখতে গেলেই
সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো অগণিত স্মৃতি এসে
আঘাত হানে মনের উপকূলে।
তখন চিঠি আর চিঠি থাকে না।
উল্টো কবিতা হয়ে আমার কাছে জানতে চায়
কেমন আছে সিকদার পাড়ার তিলোত্তমা সেই কিশোরীটি?

ভাঙনের কথামালা

ছুঁয়ে দিলে ভেঙে যাই চুপিসারে যেনো,
তবু তুমি দূরে গিয়ে মন ভাঙো কেনো?

বিভোরতা খেলা করে খুব অভিমানে,
তুমি মানে শুধু ‘তুমি’ প্রেম অভিধানে।

বুঝে নিও অধিকার ইঞ্চি বা ফুটে
ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁলে পরে দেবদারু ফোটে।

যতটুকু দূরে গেলে মন পিছু ডাকে —
তারও বেশি কাছে আছি, স্মৃতিময় বাঁকে।

মন ভেঙে সুখ নয়, শোক নিরবধি,
দুই চোখে ঢেউ খেলে পাড়ভাঙা নদী।
অন্যরকম স্বার্থপর
তানভীর সিকদার

বেদনার খেলায় লিপ্ত নগ্ন দু’টি চোখ মুছতে মুছতে
ইদানীং বড়বেশি ইচ্ছে করে
আজ থেকে আমিও হয়ে উঠি স্বার্থপর।
অশুদ্ধ প্রেমের কূপ থেকে হৃদয় ফিরিয়ে নিই।
বিশুদ্ধ নগরীর নিষিদ্ধলোকালয়ে চোখ গেলে
যেমন করে চোখ ফিরিয়ে নেয় পবিত্র তরুণ।

জরির বোরখা, রাঙ্গানো ঠোঁট, চিরচেনা বিমুগ্ধ হাসি,
শীতলকন্ঠের কথামালায় ভরপুর-
নারীর স্বচ্ছ অভিনয়ে নীরব দর্শক হয়ে নয়,
হেমন্তের কোনো পাতাঝরা বিকেলে প্রেয়সীর পাশে দাঁড়িয়ে
অচেনা পথিক হয়ে উঠবো নিরবে, অভিমানে।
তবুও পারি না। পারে না কেউ লুকিয়ে রাখতে ‘ভালোবাসি’ শব্দটা। একঝাঁক বৃষ্টিভেজা কদম যেমন লুকাতে পারে না নিজেদের ঘ্রাণ।

বিরহের ম্যাচ টোকে এই হৃদয় পোড়ার
নিঃশব্দ আওয়াজে তুমি পাও পৈশাচিক উল্লাস।
অবশেষে ওই অঙ্গারে কাজল মাখা চোখে;
সাঁঝের বেলা যেভাবে একটি সোনার থালা
ডুবে যেতে দেখো, ঠিক সেভাবে আজ-কাল
আমিও দেখতে শিখে গেছি ভালো থাকার পথ।

একই পৃথিবী,
একই আকাশের নিচে,
কবি মন সমুদ্র শঙ্খের ভেতর,
ফাল্গুনের দিশেহারা সোঁ সোঁ হাওয়ায়,
কিংবা নোঙর তোলার ধাতব শব্দে
প্রিয়তমার কন্ঠ শ্রবণে
আর কান পাতবে না কোনো কালে।
অবহেলা, অন্ধপ্রেম
আজ করে তুলেছে স্বার্থপর, নির্দয়
জোদা করে দিয়েছে তোমাকে-আমাকে।

Logo-orginal