, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

Avatar admin

রাজ্জাক – মঞ্জুতে বিভ্রান্ত জামায়াত শিবির” এপ্রিলের শেষে নতুন দল

প্রকাশ: ২০১৯-০৪-২৪ ১১:২৭:৩৯ || আপডেট: ২০১৯-০৪-২৪ ১১:২৭:৩৯

Spread the love

নিউজ ডেস্কঃ ২০০১ সাল। চারদলীয় জোটের ভূমিধস জয়। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার সুযোগ আসে জামায়াতের সামনে। সরকারে যাওয়া উচিত হবে কি-না, গেলে মন্ত্রিসভায় যাবেন কারা, তা নিয়ে সেসময় দলটির ভেতরে বিতর্ক দেখা দেয়।

শেষ পর্যন্ত মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ দলের অনেকের আপত্তি উপেক্ষা করে মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। জরুরি জমানায় যুদ্ধাপরাধের বিচারের ইস্যুটি নতুন করে সামনে আসে। এরপর পানি অনেক দূর গড়িয়েছে। জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের প্রায় সবারই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

সামনে এসেছে নানা বিষয়, সংস্কার, নতুন দল, বিলুপ্তি সব মিলিয়ে বেকাদায় জামায়াত ইসলামী । তবে মিডিয়ায় বেশ কভার পাচ্ছে মিঃ মঞ্জু ।

এর আগে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের পদত্যাগ এবং মঞ্জুর সদস্যপদ বাতিল জামায়াতের বিভিন্ন স্তরে বেশ নাড়া দিয়েছে, আলোচিত বিষয় ছিল, ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দলে সংস্কারপন্থী হিসাবে পরিচিত একজন কেন্দ্রীয় নেতা, ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মজিবুর রহমান মঞ্জুর সাদস্যপদ বাতিল করা।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে পদত্যাগকারী, বহিষ্কৃত ও নিষ্ক্রিয় কয়েকজন নেতা ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন নতুন রাজনৈতিক দল করার। সংস্কারপন্থী এ গ্রুপটির পক্ষে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে একটি বার্তাও পাঠিয়েছেন অনেকের কাছে।

সেখানে বলা হয়েছে, ২৭ শে এপ্রিল নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়ে তারা একটি ঘোষণা দেবেন। তবে, নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, ২৭ শে এপ্রিল সেই ঘোষণাটি নাও আসতে পারে, এখনো তারা বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন।

এর আগে দলের সংস্কার চাওয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন বলে নিজেই জানান ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের টক-শো’তেও এ তথ্যটি দেন তিনি। এ পরিপ্রেক্ষিতে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ নেন শিবিরের এই সাবেক নেতা।

অবশ্য মঞ্জুকে বহিষ্কারের ক’দিন আগে জামায়াত থেকে পদত্যাগ করে ব্যাপক আলোচনা তৈরী করেন ইংল্যাণ্ড প্রবাসী নেতা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক।

মজার বিষয় হল, রাজ্জাক আর মঞ্জুকে নিয়ে বেশ হৈ চৈ বা তোলপাড় হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে খোদ দলটির নেতা কর্মীরা ।

সংস্কারপন্থীদের নিজেদের মধ্যে একটি বৈঠকে কেউ কেউ মত দিয়েছেন, নতুন দল করার আগে বুদ্ধিবৃত্তিক তৎপরতা চালানোর। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে তারা ‘সুশাসন, উন্নয়ন ও মানবাধিকার চাই’ এর আহবানে একটি পুস্তিকা ছেপেছে। এতে কোরআন-হাদীসের আলোকে জামায়াতের বর্তমান কর্মতৎপরতার ভুলগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে।

বইটির ভূমিকাতে বলা হয়েছে:
‘‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এদেশে আল্লাহর আইন ও সৎলোকের শাসন কায়েমের স্বপ্ন ও রাস্তা দেখিয়েছে লক্ষ কোটি জনতাকে। আমরাও সেই স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে অনেক রাস্তা পাড়ি দিয়েছি। কিন্তু চলার পথে অনেক বিষয়ে কোরআন এবং হাদীসের পরিপন্থী কাজ ও সিদ্ধান্ত আমাদের ব্যথিত করে।

বিভিন্ন মহলে হাজারো বার পরামর্শ দিয়েও কোন কাজ হয়না। কিছু কিছু সিস্টেম এ দলের নেতাদের স্বৈরাচারী করে তুলেছে, পরামর্শভিত্তিক সংগঠন বলে বারবার চিৎকার করলেও এখানে হক কথা, হক পরামর্শ দিতে গেলে তারা আর নেতৃত্বে আগাতে পারেনি, ছিটকে পড়েছে বহুদূর।…’’

সংস্কারপন্থীদের একজন শীর্ষনেতা জানিয়েছেন, “বিএনপির একজন প্রভাবশালী স্থায়ী কমিটির সদস্য যোগ দিচ্ছেন তাদের সঙ্গে।

শুধু তাই নয়, ছাত্রশিবিরের সাবেক তিনজন কেন্দ্রীয় সভাপতিও রয়েছেন। পাশাপাশি, সুশীল সমাজের একটি বড় অংশ তাদেরকে পরামর্শ দিয়েছে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে দেশের প্রথম সারির একটি পত্রিকার সম্পাদকের সহযোগিতা পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

জামায়াতে নিষ্ক্রিয়, বর্তমানে সংস্কারবাদী ওই নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরো জানান, নতুন রাজনৈতিক ফোরাম বাংলাদেশের জনগণের জন্য চমক নিয়ে আসবে। তৃণমূলের হাজার হাজার জামায়াত নেতারাও গোপনে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন নতুন দলে যোগদান করতে।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে জামায়াতের উচ্চপদস্থ দু’জন নেতাও তাদেরকে পুরোদমে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।”

জামায়াতের মধ্যে এটিকে প্রতিবিপ্লব বলা যায় কী না, এ প্রশ্নের জবাবে ওই নেতা বলেন, “বিস্ময়করভাবে উত্থান ঘটবে নতুন দলটি। এত বিপুল সংখ্যক জামায়াত সমর্থকরা এখানে যুক্ত হবে, যা বর্তমান জামায়াত নেতাদের কল্পনার বাইরে চলে যাবে।”

এ বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জামায়াতের ব্যাপারে এখন আর কারো আগ্রহ নেই, তারা নতুন করে এলেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোন সাড়া ফেলতে পারবে না।’

বহিষ্কৃত জামায়াত নেতা মুজিবুর রহমান মঞ্জুর সেই ফেসবুক বার্তা: একটিনতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের ঘোষনা

১) পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ইসলামী আন্দোলনে সংস্কারের যে ধারা ৮০র দশকে শুরু হয়েছিল তার স্পন্দন বাংলাদেশেও সঞ্চারিত হয়। ঐতিহাসিক পথ পরিক্রমা পেরিয়ে আমরা সেই ধারারই প্রতিনিধিত্ব করছি।

২) একটা লম্বা সময় ধরে এই ধারার লোকেরা চেষ্টা করেছে ভেতর থেকে সংস্কার করার জন্য। আদর্শিক নীতি ও নিয়ম মেনে সেসব যথাযথ ফোরামে তুলে ধরা হয়েছে। কিছু গবেষণামূলক প্রবন্ধ, ডাটা ভিত্তিক তথ্য, সুনির্দিষ্ট পর্যালোচনা ও প্রস্তাবনা লিখিত আকারে বিভিন্ন ফোরাম ও নীতি নির্ধারকদের নিকট উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু কোন চেষ্টাই ফলপ্রসূ হয়নি।

বিভিন্ন সময় ও পর্যায়ে সংস্কারবাদী আখ্যা দিয়ে বরং এসবের প্রবক্তা ও সমর্থনকারীদের কোনঠাসা করা হয়েছে এবং ক্রমান্বয়ে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

৩) একটা সময়ে এসে এটা সুস্পস্ট হয়েছে যে ভেতর থেকে সংস্কারের কোন সুযোগ নেই। যারা সংস্কার চান তাদের কে হয় ধীরে ধীরে নিস্ক্রিয় হয়ে যেতে হবে অথবা সংগঠন থেকে বের হয়ে গিয়ে নিজেদের নতুন করে স্বতন্ত্র কোন পদক্ষেপ নিতে হবে।

৪) সংগঠন থেকে বের হয়ে গিয়ে নিজস্ব সংস্কার চিন্তার আলোকে নতুন ধারা তৈরী করা খুবই কঠিন একটি কাজ। অতীতে বিচ্ছিন্ন হয়ে কেউ কোন পদক্ষেপ নিয়ে সফল হননি এরকম একটা কথা সমাজে প্রায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। তাছাড়া বেরিয়ে যাওয়া লোকদের নানা অপবাদে অভিষিক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো এবং তাদের মনোবল ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টা করাটাও ছিল একটা কার্যকর অস্ত্র।

অতীতে যারা সংস্কারের কাজ করেছেন তারাও অনেকে সংগঠিত হয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেননি। ফলে বাস্তবিক পক্ষে সংস্কারমূলক কোন রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সফল ভাবে এগোয়নি।

৫) বর্তমানে আমরা যারা সংস্কা রবাদী হিসেবে কিছুটা আলোচিত-সমালোচিত তাদের নিয়ে এখন বেশ আশা-নিরাশার দোলা শুরু হয়েছে। আমরা কী করবো? কী করতে চাই? আদৌ কিছু করতে পারবো কিনা? আমাদের সুনির্দিষ্ট চিন্তা ভাবনা কী? কারা আসবে আমাদের ডাকে? আমাদের কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা কাঠামো বা লিখিত বক্তব্য আছে কিনা? অর্থনৈতিক সামর্থ্য কী ইত্যাদি নিয়ে ব্যাপক কথাবার্তা হচ্ছে।

৬) আমরা এখন পর্যন্ত দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের চিন্তাশীল জনগণের কাছ থেকে যে সাড়া পেয়েছি তা অভূতপূর্ব। প্রতিদিন বিভিন্ন ব্যাক্তি বা গ্রুপের কাছ থেকে আমরা আলোচনার আহবান পাচ্ছি। কিন্তু বেশীরভাগ লোকই হচ্ছে তারা সফল কিছু করতে পারলে আমাদের সাথী হতে চায়। তারা পেছন থেকে আমাদের সাহায্য করতে চায়। আমরা যদি নিজেদের পথ ঘোষনা করতে পারি, সেই পথের উপর দাঁড়াতে পারি তাহলে তারা আমাদের সাথে শামীল হবার ইচ্ছা পোষন করেন।

৭) জনসাধারণের এই অভিপ্রায় ও ইচ্ছা খুবই স্বাভাবিক। তবে তারা যে উদ্যোক্তা না হয়ে অনুসারী, সাহায্যকারী হতে চায় সেটাও বা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

৮) বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা কী করতে পারি এ বিষয়ে আলাপ করতে গিয়ে আমরা যে সকল পরামর্শ পেয়েছি সেগুলোর সারসংক্ষেপ হলো
ক) মানুষ পরিবর্তনের জন্য মুখিয়ে আছে। তারা নতুন কোন পরিবর্তনমূলক পদক্ষেপ চায়।

Logo-orginal