, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২০

Avatar admin

এনজিওর লোন শোধ করতে না পেরে ট্রেনে ঝাপ দিয়ে লাশ হল বাবা ও মেয়ে

প্রকাশ: ২০১৯-১০-২২ ১৬:১১:১৮ || আপডেট: ২০১৯-১০-২২ ১৬:১১:১৮

Spread the love

“আজ রেললাইনের উপর দুইটা লাশ পাবা “স্ত্রী’র মোবাইলে স্বামীর ম্যাসেজ” দিয়ে নিজ কন্যাকে কোলে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে ৩ টুকরো হলো পিতার দেহ।

সোমবার (২১ অক্টোব) দুপুর সোয়া দুইটার সময় খুলনাগামী কপোতাক্ষ ট্রেনের নিচে তিন বছরের কন্যা শিশু রুবাইয়াকে কোলে ঝাঁপ দিয়েছে রুবেল (২৬) নামের এক অটো-চালক। সাথে সাথে তিন টুকরো হলো পিতার দেহ। আর মেয়ে রুবাইয়ার শরীর হলো ক্ষত বিক্ষত। পরে স্থানীয়রা শিশুটিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নগরীর বারিন্দ্র মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে থাকা কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত: ঘোষনা করেন। নিহত রুবেল রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানাধিন ধরমপুর দক্ষিন পাড়া এলাকার মৃত মাখনের ছেলে।

 
নিহত রুবেলের স্ত্রী আলেয়া জানায়, তার স্বামী একজন অটো-রিক্সা চালক। সংসারে তাদের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে নিহত রুবাইয়া তার বাবার প্রিয়। তিনি আরো বলেন, আমাদের দাম্পত্য জিবনে কোন কলোহ নাই। তবে আমার স্বামী’র ৭টি লোন নেয়া ছিলো। তার একমাত্র টেনশান হলো সপ্তাহে ৩/৪টি এনজিও’র কিস্তি।  সোমবারও তার ১৭০০ টাকার দুইটা কিস্তি ছিলো। টাকা সংগ্রহ করতে না পেরে তাকে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে প্রান দিয়েছে।

 
তার স্ত্রী আরো বলে, দুপুর সোয়া ২টায় আমার মোবাইলে ম্যাসেজ দিয়েছে। সেই ম্যাসেজে লিখা আছে, আজ রেললাইনের উপর দুইটা লাশ পাবা! একাধিক স্থানীয়রা জানায়, কিস্তির টাকা দিতে না পারলে অফিস থেকে লোক আসে বাড়িতে। বিভিন্ন ধরনের ঝামেলা হৈচৈ করে থাকে তারা। এমনকি ঘরের টিন খুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়। এবং অসংলগ্ন কথাবার্তা বলে থাকে এনজিও’র লোকজন।

 
আজ সোমবার এনজিও’র লোক বাড়িতে কিস্তি নিতে আসার আগেই রুবেল তার প্রিয় মেয়ে রুবাইয়াকে নিয়ে চলে যায় পরলোকে।

জানতে চাইলে শিরোইল জিআরপি থানার ওসি মোঃ সাহিদ হোসেন জানান, পিতা-কন্যার মরদেহ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জিআরপি থানায় একটি (ইউডি) অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে।এ বিষয়ে জিআরপি থানায় একটি (ইউডি) অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

Logo-orginal