, শনিবার, ৩০ মে ২০২০

Avatar Maftun

বনসাই একটি জীবন্ত শিল্পকর্ম

প্রকাশ: ২০১৯-১০-০৭ ০০:০০:৩৮ || আপডেট: ২০১৯-১০-০৭ ০০:০০:৩৮

রাকিব উদ্দিন,  বিশেষ প্রতিবেদন

ইটের পর ইট মাঝে মানুষের কীট’ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রেখা এ উক্তি আজকের দুনিয়ায় প্রতিফলত হয়েছে।ক্ষুদ্র বাড়ি ক্ষুদ্র পরিসরের মধ্যে প্রকৃতির অনাবিল সৌন্দর্যরাশি, প্রকৃতির নির্মল ন্সেহ ছায়া ফিরিয়ে আনতে চীন ও জাপানের কিছু সুন্দর চিন্তর মানুষ তৈরী করল বনসাই। এটা সারা বিশ্বে স্বীকৃত একটা জীবন্ত শিল্প।

বনসাই জাপানি শব্দ।বন মানে ছোট পাত্র আর সাই মানে গাছ। একটি গাছের অগভীর পাত্রে লাগিয়ে নিদির্ষ্ট সীমার মাঝে স্বাভাবিক ভাবে তৈরী করাকে বনসাই বলে। চীনে বনসাইকে পেনজাই বা পানসাই বলে।

প্রকৃতির একটি গাছের ক্ষুদ্র সংস্করণ হচ্ছে বনসাই। একজন চিত্র শিল্পী এক টুকরো কাগজে বা কাপড়ে তুলির টানে নিজের মনের কথা রেখাই, রং-এ সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেন,তেমনি একজন বনসাইবিদও মন দিয়ে,চোখ দিয়ে, ভালবাসা দিয়ে,অনেক সময় নিয়ে ভক্তি শ্রদ্ধাসহ প্রকৃতির গাছের অনুরুপ ক্ষুদ্র সংস্করণ তৈরী করেন। বনসাই শিল্পের মূল উপকরণ জীবন্ত গাছ। একজন শিল্প এ গাছকে তার শিল্প স্বত্ত্বার মাধ্যমে নিজের চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটান। তাই একে জীবন্ত শিল্প বলা হয়।

ভাস্কর্য বা চিত্রাংকনের কাজ এক সময় শেষ হয়ে যায় কিন্ত বনসাই শিল্পের কাজ কখনো শেষ হয় না।কারণ গাছ জীবন্ত, তার নিয়ম অনুযায়ী সে বেড়েই চলবে। তাই বনসাই কে নিদিষ্ট আকারে রাখতে প্রতিনিয়ত কাজ করতে হয়। এজন্যই বনসাই এক অসমাপ্ত মিল্পকর্ম তবুও সে রূপসী বৃক্ষ।

“দাও ফিরে স অরণ্য লও এ নগর” কবির আক্ষেপের সাথে কন্ঠ মিলিয়ে নাগরিক মানুষও সবুজ অরণ্য কামনায় ব্যাকুল।সবুজের প্রতি মানুষেরর এ অকৃত্রিম ভালবাসার ফলে আজ দূষিত এনগরে মানুষ সৃষ্টি করছে ছাদ বাগান।ইট পাথরের এ শহরে জীবনে কিছুটা সবুজের ছোঁয়া পেতে মানুষ বাগান করছে। বাগান করার পাশাপাশি বনসাই চর্চাও করা যেতে পারে। বনসাই আপনাকে বাড়তি আনন্দ দিবে। বনসাই চর্চা এক ধরনের মেডিটেশন। নিস্প্রাণ নগরে সভ্যতার রুক্ষতায় ভরা সমাজ একজন মানুষে প্রকৃতির সান্নিধ্যে ফিরিয়ে দিবে।বনসাই চর্চার মাধ্যমে একজন মানুষ প্রকৃতির অনুরূপ প্রতিকৃতি সৃষ্টির মাধ্যমে প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকার আনন্দ উপভোগ করতে পারবে।

Logo-orginal