, রোববার, ৯ আগস্ট ২০২০

Avatar Maftun

সে আসবে। অন্য কোন চরিত্রে। অন্য কোন রূপে

প্রকাশ: ২০১৯-১০-০৯ ০৯:৪৬:০৩ || আপডেট: ২০১৯-১০-০৯ ০৯:৪৬:০৩

মাহমুদ কমল

কল্পিত চিত্রনাট্য………

==========♥♥♥============

দরজাটা সেই কবে থেকেই ঘুণে ধরা। নতুন কপাট সাড়ানোর দায়ও যেন নেই কারো। খোলাই ছিল। তবে ভেতরটা আজ কেমন আঁধারে। ওই তো এক কোণায় মাথাটা নিচু করে বসে আছে ছেলেটা। কি ব্যাপার! আমি এলাম তাতেও তার কোন বোধ নেই। অন্য সময় তো যেন মাথায় তুলে রাখে…

“আবরার, আবরার, আবরার…”

আবরারঃ “কেন এসেছেন স্যার?”

ষাটোর্ধ বয়সী অবসর নেয়া শিক্ষক বেচারা বড় রকম ধাক্কা খেলেনই বটে। সেই ছোটবেলা থেকে দেখে আসা। হাতের সামনে যে বড় হয়েছে আবরার। কখনও এতটা ক্রোধ তো তার মধ্যে দেখা যায় নি।

স্যারঃ “আবরার… কি হয়েছে বেটা? এই দেখ তোর জন্য নতুন একটা শার্ট নিয়ে এসেছি। অনেকদিন পর এলাম বলে অভিমান করে আছিস?”

আবরারঃ “রাখেন স্যার নতুন শার্ট। আমার গায়ের যে শার্টে রক্ত লেগে আছে। আগে সে রক্তটা মুছে দিন।”

স্যারঃ “কই দেখি..! একি! কিসের রক্ত বাবা? কি হয়েছে তোর? কই দেখি…?”

নড়তে কষ্ট হলেও টেবিলের কাছে যেয়ে কাছ থেকে দেখে আঁতকে উঠলেন আবরারের ছোট্টবেলার স্কুলের শিক্ষক। ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।

স্যারঃ “বাবা! কে করেছে এই নৃশংসতা? আমায় বল। কে থেতলে দিয়েছে তোর শরীর? বল আমায়..!”

আবরারঃ “আরে থামেন স্যার! বহুদ্দেখছি এমন লাফালাফি। অভিজিতের জন্যও দরদ উতলাইয়া পড়ছিল। ওই ফুটেজ আমারটার থেকেও তাজা ছিল। কোটি কোটি মানুষ দেখছে। কি হইছে? চাক্ষুশ সবার সামনেই তো ওদের অনেকে জামিন পাইয়্যা গেছে। কি করতে পারছেন? দুই দিন পর ওরাও আমার থেতলানো শরীরের ওপর উইঠা নাচবো। আপনারা শুধু তাকায়া দেখবেন। আর হায় হায় করে ঘরে বসে শোকের মাতম করবেন। সবাইরে চেনা হয়ে গেছে আমার।

জানেন স্যার! শরীরটা খুব ব্যাথা করছে এখনও। খুব মেরেছে ওরা। গগন বিদারী চিৎকার করে বাঁচার আকুতি জানিয়েছি। কেউ শোনেনি। বন্ধুরাও যেন কানে শীসা ঠেলে বসে ছিল। কেউ এলো না। ব্যাথায় শরীর নাড়াতে পারছি না স্যার। আমাকে একটু আস্তে আস্তে কবরে শুয়াইয়েন। ”

ততক্ষণে ছোট্ট লাশ ঘরে হাজারও মানুষের ভীড়। সবাই নিথর দেহটা জড়িয়ে ধরে কাঁদছে।

আবরারঃ”স্যার। যাবার সময় একটা কথা বলে যাই। বিপ্লব প্রতিবার একই রূপ নিয়ে আসে না। একের বার একেক চরিত্র ধারণ করে। তবে সব বিপ্লবের স্লোগান থাকে একটাই।

মুক্তি।। শান্তি।। সুস্থভাবে বাঁচার অধিকার।। সুন্দর স্বপ্ন দেখার অধিকার।। সুন্দর পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন।।

আপনারা তা আমাকে দিতে পারেন নি স্যার! তবে মনে রাখবেন। আজ আপনি পারেন নি বলে ভাববেন না অন্যজন তা পারবে না। কেউ না কেউ পারবে। হয়তো অন্য এক আবরার হারানো মা, বাবা, ভাই, বন্ধু কিংবা জানা অজানা মানুষের পুঞ্জিভুত কান্না আর ক্ষোভ সেদিন বিষ্ফোরিত হয়ে বিশাল আগুনের স্ফুলিঙ্গ হবে। পুড়িয়ে ছাই করে দেবে ওই দানবদের হাত-পা-মাথা-মগজ-শরীরের প্রত্যেকটা অঙ্গ।

সেদিন আসবে, আজ নয়তো কাল। বিপ্লব সেদিন জয়ী হবেই…।

আর হ্যাঁ। ভালো থাকবেন স্যার। আমাকে একটু আস্তে নামাবেন। শরীরে এখনও অনেক ব্যাথা। ওরা থেতলে দিয়েছে সব। ভাগ্যে থাকলে আপনার সাথে দেখাও হয়ে যেতে পারে দ্রুত। ওরা তো আপনাকেও থেতলে দিতে পারে, তাইনা…।”

বানান ভুল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ

Logo-orginal