, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০

Avatar admin

চসিকে মনোনয়ন পাওয়া রেজাউল করিমের সম্বর্ধনায় যাননি মেয়র নাছির

প্রকাশ: ২০২০-০২-২০ ০০:৩৬:২৯ || আপডেট: ২০২০-০২-২০ ০০:৩৬:২৯

Spread the love

মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে চট্টগ্রামে ফিরে এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচিত হলে নির্মোহ থেকে চট্টগ্রামের হারানো গৌরব ফেরাতে কাজ করে যাবেন।

বুধবার বিকালে ঢাকা থেকে ফেরার পর চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশ সংবর্ধনায় পুরনো রেল স্টেশন চত্বরে কয়েক হাজার নেতাকর্মী জড়ো হন।

আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে লড়তে নৌকার হাল রেজাউল করিমের হাতে তুলে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আগামী ২৯ মার্চ এই সিটিতে ভোটের দিন রেখেছে নির্বাচন কমিশন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “সমাবেশে দাঁড়িয়ে বলতে চাই, নেত্রী শেখ হাসিনা আমার উপর যে আস্থা রেখেছেন চট্টগ্রামের প্রয়াত নেতাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সেই আস্থা শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও আমি পালন করব। একটা কথা দিতে পারি, অর্থবিত্তের প্রতি আমার কোনো মোহ নাই।

“এম এ আজিজ, জহুর আহমদ চৌধুরী ও মহিউদ্দিন চৌধুরীরা যে পথে গিয়েছেন আমিও সে পথে যাব।”

তিনি বলেন, “এই চট্টগ্রামের মেয়র নির্বাচনে আমরা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ যারা মনোনয়ন চেয়েছি, সবাই যোগ্য প্রার্থী। নেত্রী আমার হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দিয়েছেন। আমি শেখ হাসিনার প্রতিনিধি, এই ছাড়া আর কিছু নই।”

রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “এই চট্টগ্রামের হৃত গৌরব ফিরিয়ে দিতে চাই। এই চট্টলা একসময় সৌন্দর্যের রানি ছিল। আজ পাহাড় কাটায় চট্টলা ধ্বংসের মুখে, নদী দূষণে কর্ণফুলী আজ মরে যেতে বসেছে।

“আপনাদের ভোটে যদি নির্বাচিত হতে পারি এই চট্টগ্রামকে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, দুর্নীতিমুক্ত, র্নিমল, পরিবেশবান্ধব একটি পরিকল্পিত করে গড়ে তুলব।”

এলক্ষ্যে চট্টগ্রামের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে পরামর্শ করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, “চট্টগ্রামকে একটি পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়তে চাই যদি আমাকে নির্বাচিত করেন। একজনের পক্ষে নগরী গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। আমি চট্টগ্রামের সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, পেশাজীবী, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল রাজনৈতিক দল এবং প্রগতির পক্ষে, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে ও বঙ্গবন্ধুর আর্দশের পক্ষে সেই সর্বস্তরের জনগণকে নিয়ে পরামর্শ করে কাজ করব।”

রেজাউল বলেন, “এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ১৭ বছর এই চট্টলবাসীর সেবা করেছেন। এই চট্টগ্রামকে সমগ্র বাংলাদেশে একটা মডেল সিটি হিসেবে উপহার দিয়েছেন। তার পরে পাঁচ বছর আমাদের হাতে ছিল না। আবার ২০১৫ সালে এই সিটি করপোরেশন আমাদের হাতে এসেছিল।

“মহিউদ্দিন চৌধুরী যে উন্নয়ন করেছেন বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির সে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছেন। আমি যদি আপনাদের ভোটে মেয়র নির্বাচিত হতে পারি সেই ধারা বহমান রাখব।”

মেয়র নির্বাচিত হলে প্রথম কাজ কি হবে জানতে চাইলে রেজাউল বলেন, “বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এই লালদিঘীর মাঠে বলেছিলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব আমি নিজ হাতে নিয়েছি। জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য তিনি আট হাজার কোটি টাকার প্রকল্প সিডিএকে দিয়েছেন। এটা যদি সফল হয় তাহলে অনেকাংশে আমরা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি লাভ করব। এই কাজ সম্পন্ন করার জন্য যেটা যেটা করা দরকার আমি করব।”

বক্তব্যের শুরুতে তিনি চট্টগ্রামের প্রয়াত রাজনীতিবিদ শেখ মোজাজফর আহমদ, এম এ আজিজ, জহুর আহমদ চৌধুরী, এম এ হান্নান, এম এ মান্নান, কাজেম আলী মাস্টার, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, আতাউর রহমান খান কায়সার, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু এব সদ্য প্রয়াত চট্টলবীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে স্মরণ করেন।

নগর কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ইফতেখার সাইমুলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নগর কমিটির সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, দক্ষিণ জেলার সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহম্মদ ও উত্তর জেলার সভাপতি এম এ সালাম।

উপস্থিত ছিলেন নগর কমিটির উপদেষ্টা সফর আলী, সহ-সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল ও আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, যুগ্ম সম্পাদক বদিউল আলম ও এম এ রশিদ, কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য চন্দন ধর ও মশিউর রহমান চৌধুরী এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন।

তবে মনোনয়নবঞ্চিত নগর কমিটি সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন সংবর্ধনায় যাননি।

এরআগে বেলা তিনটার দিকে ঢাকা থেকে ট্রেনে করে চট্টগ্রামে ফেরেন রেজাউল করিম।
সুত্রঃ সিপ্লাস।

Logo-orginal