, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০

Avatar admin

সাতকানিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও’র দিকে তেড়ে গেলেন এমপি নদভী

প্রকাশ: ২০২০-০২-২৬ ০০:৫৫:২৯ || আপডেট: ২০২০-০২-২৬ ০০:৫৫:২৯

Spread the love

প্রধান ফটকে গিয়ে স্বাগত না জানানোয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতিকে গালাগালি এবং তাদের দিকে তেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দীন নদভীর বিরুদ্ধে।

খবর দৈনিক সমকালের।

মঙ্গলবার বিকেলে সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মাসিক আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা ও মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় এ ঘটনা ঘটে। দফায় দফায় বাক-বিতণ্ডার পর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে সভাটি শেষ হয়।

সভায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী মঙ্গলবার নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা পর যোগ দেন উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়। তিনি যখন সভাটিতে প্রবেশ করেন তখন উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা নুরে আলম সভার সভাপতির সমাপনী বক্তব্য রাখছিলেন। এ সময় সভাকক্ষে প্রবেশ করেই এমপি তেড়ে যান উপজেলা ইউএনও’র দিকে।

ইউএনও কেন ছুটে গিয়ে এমপিকে স্বাগত জানাননি সেজন্য অকথ্য ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এমপি। এ সময় ইউএনও নিজে ‘সভাপতির বক্তব্য রাখার কারণে স্বাগত জানাতে পারেননি’ জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেও এমপি তাকে উপর্যুপরি ভর্ৎসনা করতে থাকেন। তিনি প্রকাশ্যেই বলতে থাকেন- ‌‘কে আপনাকে ইউএনও বানিয়েছে, কে যোগ দিতে বলেছে।’

এমপির এমন আচরণে সভায় উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেওয়া নিকটবর্তী সংসদীয় এলাকার এমপি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। এরপর উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভা শুরু হয়। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এমএ মোতালেব সিআইপি পূর্ববর্তী সভায় এমপির ইতিপূর্বের আচরণের বিষয়ে বক্তব্য শুরু করতেই তার ওপরও ক্ষিপ্ত হন এমপি নদভী। গালি দিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আমাকে রাজনীতি শেখাবেন না, আমার বিরুদ্ধে খেলতে আসবেন না।’ এমন অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেতা মোতালেব পাল্টা কিছু বলতে চাইলে এমপি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে মারমুখো হন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এমপি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও পৌর মেয়র মোহাম্মদ জুবায়েরের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলেও ১৭টি ইউনিয়নের ১২টির চেয়ারম্যান সভাস্থল ত্যাগ করেন। পরে তাদের বুঝিয়ে ফের সভায় যোগ দেয়ানোর পর সন্ধ্যায় সভাটি শেষ হয়।

এমপি নজরুল সমকালকে বলেন, ‘তেমন বড় ধরনের কিছু হয়নি। টুকটাক বাক্য বিনিময়, ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। সভা শেষে উপজেলা চেয়ারম্যান ও এমপি কোলাকুলি করেছেন। ইউএনও এমপিকে রিসিভ না করায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। পরে সভা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।’

উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ মোতালেব সিআইপি বললেন, ‘সভায় এমপির বক্তব্যে যাতে ইউএনওসহ সরকারী কর্মকর্তারা কেউ কষ্ট না পান, সেজন্য আমি কিছু কথা বলতে চেয়েছিলাম। এটি এমপির বিরুদ্ধে কোনও কথা ছিল না। তবুও তিনি ভুল বুঝলেন। পরে এমপি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর মধ্যস্থতায় বিষয়টি শান্তিপূর্ণ সমাধান হয় এবং আমরা কোলাকুলিও করেছি।’

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দীন নদভী সমকালকে বলেন, ‘নতুন ইউএনও, জয়েন করেছেন মাত্র সপ্তাহখানেক আগে। এমপি উপজেলা পরিষদে গেলে আগের সব ইউএনও বাইরে বের হয়ে সম্মান জানাতেন। এই ইউএনও সম্মান তো জানাননি, আবার ভেতরে ঢুকে দেখি, এমপির চেয়ারে উপজেলা চেয়ারম্যান মোতালেব সাহেব বসে আছেন। আমি দুই-তিন মিনিট দাঁড়িয়েছিলাম। আমি বিব্রত হয়েছি। সেজন্য ইউএনও সাহেবকে বলেছি, আপনি আমাকে রিসিভ করলেন না কেন? আদবকায়দার একটা বিষয় আছে। তিনি অবশ্য ভুল স্বীকার করে মাইকে ক্ষমা চেয়েছেন। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান মোতালেব সাহেব হঠাৎ ফ্যাসাদ শুরু করেন। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের ওয়াক আউট করার আহ্বান জানাতে থাকেন। তিনি উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকলে আমি বলি, আপনি এমন করছেন কেন? তিনি আমার সঙ্গে বেয়াদবি করেন। আমি বললাম, আপনি আওয়ামী লীগের উপজেলা চেয়ারম্যান হয়ে এমন আচরণ করছেন। অতীতে জামায়াতের চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান ছিল। তারাও কোনোদিন আমার সঙ্গে বেয়াদবি করেনি। আমি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের বললাম, তোমাদের সবার ইউনিয়নে আমি ৫০-৬০ কোটি টাকা করে দিয়েছি। ভবিষ্যতে এক টাকাও দেবো না।’

ইউএনও নুরে আলমের সরকারি ফোন নম্বারে কল দেয়া হলে কল রিসিভ করেন সাতকানিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি)) দীপংকর তঞ্চঙ্গ্যা।

তিনি জানান, ‘ইউএনও স্যার মিটিং শেষে ছুটিতে গেছেন। আজ সভায় এমপি মহোদয়ের জন্য একটি চেয়ার রাখা হয়েছিল। মিটিং চলাকালীন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নুরুল আকতার চৌধুরী চেয়ারে বসা ছিলেন। এমপি সাহেব আসলেও তিনি চেয়ার না ছাড়াতে এমপি মহোদয় ক্ষিপ্ত হন।’

উল্লেখ্য, এমপি নদভী প্রতি সম্প্রতি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার পরীক্ষা চলাকালীন সময় মাইক লাগিয়ে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিলে সেখানেও অসন্তোষ তৈরি হয়। এর আগে জামায়াতে ইসলামী পরিচালিত একটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত এই এমপির সঙ্গে জামায়াতের আমির গোলাম আজমসহ বিভিন্নজনের সখ্যতার বিষয়ে আপত্তি ওঠে। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগে যুক্ত হয়ে চট্টগ্রাম-১৫ আসন থেকে নৌকার মাঝি হন।

Logo-orginal