, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২০

Avatar jamil Ahamed

বাংলাদেশে করোনা: সচেতনতা বনাম মরণফাঁদ

প্রকাশ: ২০২০-০৪-১৫ ১৯:০৯:০২ || আপডেট: ২০২০-০৪-১৫ ১৯:০৯:০৫

Spread the love

বর্তমান বিশ্ব নিরবতায় নিমজ্জিত। ক্ষমতার মোহে যারা রাত দিন জাগ্রত, তারা আজ পথহরা- করোনা থেকে দেশকে মুক্ত করতে। চীনের উহান প্রদেশে সৃষ্ট করোনা শুধু চীন নয়, আজ মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সারা বিশ্বের।

সমুদ্রের জলের মত বেয়েই চলছে সারাবিশ্বে Covid-19 ভাইরাস নিয়ে। এদের বণ্যার পানির মত থামানোর কোন পথই দেখছে না বিশ্ব নেতারা। এদিখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেন বিবৃতি দিয়েই তাদের দায়িত্ব পূরণ করছে, সব আবিষ্কারের পথ যেন চারিদিকে বন্ধ। অন্যদিকে টাকার বাহার নিয়ে অনেকে ঘোষণা দিচ্ছে, করোনা নিরাময় কারী ভ্যাকসিনের পিছনে টাকা উড়াতে। কিন্তু নিয়তি বড়ই দূর্ভাগ্য। কোন ক্রমেই সম্ভব হচ্ছে না, করোনাকে আটকানো।

যেখানে করোনা সারাবিশ্বের মহাদেশ গুলোকে করছে আক্রান্ত, ঠিক তেমনি বাংলাদেশের মত ক্ষুদ্র দেশও এর ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। উন্নত দেশের রাষ্ট্রনেতা যখন মলিন মূখ নিয়ে বিশ্ববাসীকে জানান দেই- তারা ব্যর্থ, সেখানে বাংলাদেশের কি করারই আছে? সরকার বাহাদুর প্রাণপণ যুদ্ধ করে যাচ্ছে করোনা মোকাবেলা করতে, আর অন্যদিকে লুটপাটের দল মাটির গর্তে লুকিয়ে রাখছে ত্রাণের বস্তা। এ যেন মুক্তিযুদ্ধের আরেকটি রূপ। প্রতীয়মান হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধা-রাজাকার কি? এ ক্রান্তিলগ্নে COVID-19 অস্ত্রের মুখে যুদ্ধ করছে দেশের ডাক্তার-স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা। যদিও বা নিরাপত্তার ভয়ে তারা প্রথমে পিছপা হয়েছিল। তবে স্বীকার করতে হবে, এ যুদ্ধে প্রথম শ্রেণীর সৈনিক কিন্তু তারাই। সরকারের উচ্চমহল প্রথমে করোনা নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করলেও এখন করোনা মোকাবেলায় বদ্ধ পরিকর।

সরকারের ঘোষণা লকডাউন বাস্তবায়নে কঠোরভাবে কাজ করছে সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা। সরকার বলছে, ঘরে থাকুন। কে শুনে কার কথা! অবশ্যই এজাতীর করারও কিছু নাই। যার নুন আনতে পান্তা ফুরানোর দশা, তারা আবার করোনার ভয়ে ঘরে থাকবে নাকি! যার পরিনাম ত কদিন আগে দেখলামই। ত্রাণের গাড়ি আটকিয়ে ত্রাণ লুটে নিল অভুক্তরা। এভয়টি সবারই, করোনার ছেয়ে অভুক্ত থেকে মানুষ মরবে নাকি আবারও। সরকার বাহাদুর চাল দিচ্ছে, নেতারা লুটে খাচ্ছে। পরিনাম-ধরা পড়লেই বহিষ্কার, জেলের ভাত। তবে ধরা না পড়লেই অবৈধ টাকার পাহাড়। তাই পাহাড়ের খুঁজে হালকা রিস্ক ত তারা নিবেই।

দুঃসময়ে এগিয়ে আসতে হবে সমাজের বিত্তশালীদের, তাহলেই দেশ রক্ষা পাবে মরণফাঁদ থেকে। চিকিৎসায় বসুন্ধরা গ্রুফ তাদের হল ছেড়ে দিচ্ছে, চট্টগ্রামে স্বাস্থ্যবীদ বিদ্যুৎ বড়ুয়ার উদ্যোগে জনতার টাকায় হচ্ছে ফিল্ড হসপিটাল। এটা অবশ্যই খুশির খবর, উহানের ছেয়েও বড় অস্থায়ী হসপিটাল হচ্ছে বাংলাদেশে। স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি খাদ্যের দিখেও সবাইকে নজর দিতে হবে। খাদ্য ছাড়া ত আর জীবন বাঁচবে না। মহামারী থেকে বাঁচার চেষ্টার পাশাপাশি দূর্ভিক্ষে যেন না পড়ি, সেটা খেয়াল রাখতে হবে।

তাই সরকারের ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা, বিত্তশালীদের সহায়তা, মানুষের সচেতনতা, সরকারের নির্দেশনা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরী। পরিশেষে প্রভুর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এক্ষুদ্র দেশকে তার রহমত দিয়ে হেফাজত রাখে। খুব শীগ্রই এ মহামারী থেকে আমরা পরিত্রাণ পাব, একটি সুস্থ পৃথিবী উন্মোচিত হবে, ইনশাআল্লাহ।

লেখক- আবদুল্লাহ আল মামুন সভাপতি-জ্ঞানগৃহ ।

চরম্বা, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম ।

Logo-orginal