, বুধবার, ৩ জুন ২০২০

Avatar jamil Ahamed

৩ হাজার বন্দি মুক্তির উদ্যোগ তালিকায় চট্টগ্রামের ২৩৬ জন

প্রকাশ: ২০২০-০৪-০২ ১০:১৮:৪৯ || আপডেট: ২০২০-০৪-০২ ১০:১৮:৪৯

Spread the love

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে কারাগার সংরক্ষিত রাখতে দেশের ৩ হাজার কারাবন্দিকে জামিন দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। করোনায় সৃষ্ট দুর্যোগের কারণে কারাবন্দির সংখ্যা কমাতেই দেশের ৬৮ কারাগারে ছোটখাটো অপরাধ ও জামিনযোগ্য ধারায় বিচারাধীন ৩ হাজারের বেশি কারাবন্দিকে জামিন দিতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে কারা সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কয়েদি ও হাজতি মিলিয়ে ২৩৬ জনের একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে গত ২৪ মার্চ। নতুন একটি তালিকা ২/১ দিনের মধ্যে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. কামাল হোসেন।

বর্তমানে দেশের কারাগারগুলোতে বন্দি ধারণক্ষমতা ৪১ হাজার ৩১৪ জন। এর বিপরীতে বর্তমানে কারাবন্দির সংখ্যা ৯০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। ছোটখাটো অপরাধের কারণে এসব বন্দি আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় মাসের পর মাস কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। অধিক বন্দির কারণে সরকারের বিশেষ নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগ কারা অধিদফতরের এসব বন্দির তালিকা তৈরি করে পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছিল। কারা কর্তৃপক্ষ হাজতিদের এ তালিকা তৈরি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায়। অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক ও পাবলিক হেলথ বিশেষজ্ঞ কর্নেল আবরার হোসেন জানান, মন্ত্রণালয়ের আদেশে কোভিড-১৯ ভাইরাসের কারণে এ প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জামিনযোগ্য ছোটখাটো অপরাধে যারা কারাগারে আছেন, এ রকম তিন হাজারের সামান্য বেশি হাজতির নামও প্রস্তাব আকারে মন্ত্রণালয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে ওই প্রস্তাব যাবে আইন মন্ত্রণালয়ে। সেখানে আপত্তি না থাকলে পাঠানো হবে আদালতে।

শেষ পর্যন্ত বিচারকই সিদ্ধান্ত নেবেন জামিন দেয়া যায় কিনা। মুক্তির বিষয়টি বিচারকদের হাতে, আমাদের হাতে নয়। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. কামাল হোসেনের। তিনি আজাদীকে বলেন, আমরা আগে থেকেই সতর্ক আছি। একইসঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সব ধরনের আদেশ আমরা আগে থেকেই মেনে আসছি। এরইমধ্যে বন্দি মুক্তির বিষয়ে গত ২৪ মার্চ একটা প্রপোজাল পাঠানো হয়েছে। সেখানে তিন ভাগের দুই ভাগ সাজা ভোগ করেছে এরকম ৮১ জন কয়েদি, অচল অক্ষম ৪ জন কয়েদি এবং ছোটখাটো অপরাধে বন্দি আছে এমন ১৫১ জনসহ মোট ২৩৬ জনের একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে। নতুন আরেকটি নির্দেশনা আজ (১ এপ্রিল বুধবার) পেয়েছি। তাই নতুন তালিকা ২/১ দিনের মধ্যে পাঠিয়ে দেবো। জামিনযোগ্য ধারায় তাদের মুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। এরপর বিচারক জামিন দিলেই তাদের মুক্তি দেবে কারা কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত: করোনা পরিস্থিতিতে এই প্রথম কারা কর্তৃপক্ষ বন্দির সংখ্যাধিক্যের কথা বিবেচনা করে মুক্তির জন্য উদ্যোগ নিল। এই তিন হাজার ছাড়াও কারাবিধির ৫৬৯ ধারা অনুযায়ী আরও দেড় হাজার বন্দিকে মুক্তির কথা ভাবা হচ্ছে। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে যাদের সাজা খাাঁর হিসাব ২০ বছরের বেশি পার হচ্ছে, তারা ওই প্রক্রিয়ায় ছাড়া পাবেন। এ হিসাবে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোট সাড়ে চার হাজারের বেশি মুক্তি পেতে পারেন। কারাগারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, কারাবিধির ৫৬৯ ধারা অনুযায়ী এর আগে ২০১০ সালে এক হাজারের বেশি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
সূত্রঃ আজাদী ।

Logo-orginal