, শনিবার, ৬ জুন ২০২০

Avatar admin

মাত্র ৩০ সেকেন্ডে লিফটের ভিতর ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর মৃত্যু

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১২ ১৬:৪৮:২১ || আপডেট: ২০২০-০৫-১২ ১৬:৪৮:২২

Spread the love

মোঃ আব্দুল মতিন শেখ (৬৩) জন্ম শরীয়তপুরে পড়াশোনাটাও সেখানেই শেষ করেছিলেন। ধনাঢ্য পরিবারের জন্ম হলেও নিজের ভাগ্য নিজেই গড়ে নিয়েছেন। আশির দশকে ঢাকার উত্তরায় পাড়ি জমান, একে একে গড়ে তোলেন অনেকগুলো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বিত্ত বৈভব কম দেখেননি জীবনে। খোদ ঢাকা শহরে রয়েছে বেশ কয়েকটি সুউচ্চ অট্টালিকা, গার্মেন্টস সহ, এমব্রয়ডারি ফ্যাক্টরি। অনেকটা প্রচার বিমুখ খুবই সজ্জন ব্যক্তি, অমায়িক দানশীল এবং নিতান্তই ভালো মানুষ।

দিব্যি সুস্থ ছিলেন কিন্তু প্রায় এক সপ্তাহ যাবৎ ভুগছিলেন হালকা জ্বরে, লিভার ফাংসানেও কিছুটা গরমিল হচ্ছিল, মৃদু গলা ব্যথা ছিল। ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন অনেকটা নিরুপায় হয়েই, তাঁর দেয়া ওষুধ সেবন করছিলেন নিয়মিত। জ্বর ভালো না হওয়ায় ডাক্তার করোনা সন্দেহ করেন আর টেস্ট করতে ডেকে পাঠান রাজধানীর একটি সর্বোচ্চ মানের প্রাইভেট হাসপাতালে।

নিজেই গাড়ি চালিয়ে হাসপাতলে পৌঁছান, লিফটে ওঠেন। কিন্তু হায় আল্লাহ্তালার পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন, প্রচন্ড এক ঝাঁকুনি দেয় বুকের বাম দিকে প্রচন্ড ঘামাতে শুরু করেন এর পরেই ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে নিস্তেজ হয়ে যায় শরীর।

লিফট পৌঁছায় গন্তব্য ফ্লোরে, আর মতিন শেখ পৌঁছেন মালাকুল মউত এর কাছে।মেঝেতে লুটিয়ে পড়া ব্যক্তি কে দেখে ছুটে আসেন ডাক্তার নার্সরা। জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সব ধরনের যন্ত্রপাতি লাগিয়ে চেষ্টা করা হয়, কোন ভাবে চালু করা যায় কিনা হার্ট নামক সেই অঙ্গটিকে।

দুনিয়ার নামকরা সেই মেশিনগলো কোন কাজেই আসে না, এক সেকেন্ডের জন্য চালু করা যায়না খোদার তৈরি মাংসপিণ্ডটিকে! ঢাকার ওই হাসপাতালে দেশের শীর্ষ নামকরা প্রফেসরগণ উপস্থিত ছিলেন, ছিলেন টেকনিশিয়ান, অভিজ্ঞ নার্সরা, কেউ কিছুই করতে পারলেন না। মতিন শেখের টাকাপয়সা বিত্ত বৈভব কিছুই যেন কাজে আসলো না আজ। সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন রেখে গেলেন কিছু ভালো কাজের নমুনা। এই ঘটনা ঘটেছে গত ৮ই মে।

এলাকার বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেল মতিন শেখের অনেক দানের কথা। নিরবে মানুষের সেবা করে যেতেন অনেক সময় পরিবারের ঘনিষ্ঠজনরাও তা জানতেন না। বাড়িওয়ালা হওয়ার সূত্রে করোণাকালে সব ভাড়াটিয়ার প্রতি সদয় ছিলেন মতিন শেখ। হাসিমুখে ব্যবহার করতেন দেনাদারদের সাথে।আল্লাহর দরবারে এগুলোই সাথে করে নিয়ে গেলেন। রেখে গেলেন কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা আর সম্পদ। সুউচ্চ দালানগুলো ঠায় দাঁড়িয়ে আছে খালি নেই এর মালিক।

কথা হলো ছেলে ব্যবসায়ী মোঃ রাসেল শেখ এর সাথে। বাবার করুন মৃত্যুর বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে যান, বলেন আমরা দুই ভাই ও দুই বোন আজ পিতৃহারা হয়ে ইয়াতিম। শেষ সময়ে বাবার জন্য কিছুই করতে পারলাম না সেই আফসোস টুকু নিয়ে সারা জীবন বেঁচে থাকতে হবে। রাসেল জানান জানাজা দাফনের ব্যবস্থা করেছে মারকাজুল ইসলাম আজিমপুর গোরস্থানে।

শোকের ছায়া মাথায় নিয়ে এলাকাবাসী কিছুই করতে পারলেন না, মতিন শেখের জানাজায় অংশগ্রহণ তো দূরের কথা শেষবারের মতো মুখ দেখতে পারেননি কেউ।

আল্লাহ্ তাআলার এক ইশারাই কাফি হয়ে যায় গোটা কওমের জন্য। গজব নাজিল করেন তখনই যখন বান্দারা নাফরমানী করেন তাঁর সাথে। তাই কে কখন এই রোশের দাবানলে পিষ্ট হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন পৃথিবী থেকে তা আমরা কেউই বলতে পারি না। ভালো কাজ দানশীলতা আর অমায়িকতা একমাত্র রক্ষা করতে পারে ঐ পাড়ে। কেননা আল্লাহ নিজেই বলেছেন ভাল কাজের প্রতিদান আমি স্বয়ং দেব।
সুত্রঃ ইনকিলাব ।

Logo-orginal