, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০

Avatar admin

জ্ঞানচর্চা ও ইসলামী সাহিত্য চর্চায় ড. আহমদ আলী স্যারের অবদান

প্রকাশ: ২০২০-০৫-২০ ১২:৫৪:৫৯ || আপডেট: ২০২০-০৫-২০ ১২:৫৯:৩০

Spread the love

মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীন: বাংলাদেশের প্রথম সারির ইসলামী লেখক ও গবেষকদের অন্যতম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. আহমদ আলী স্যার।

তিনি একজন সফল আরবীবিদ, শিক্ষাবিদ, ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক। একজন সুক্ষ্ম বিশ্লেষকও বঠে। দক্ষিন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান গ্রামে এক মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম তাঁর। তাঁর পিতার নাম হাজী ফযল করিম মাতার নাম সারা খাতুন। তিনি আরেক বিখ্যাত আলেম ইসলামী চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদ ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের ভগ্নিপতি ।
আলহামদুলিল্লাহ! স্যার আমার সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তাঁর সাথে আমার তেমন বেশী ঘনিষ্ঠতা না থাকলেও তাঁকে দেখেছি হাস্যোজ্জল, সদালাপী ও পরিশ্রমী আলোকিত মানুষ হিসেবে। তিনি সব দিক দিয়ে একজন উঁচু মাপের আলেমেদ্বীন, জাতি গড়ার কারিগর,আদর্শ শিক্ষক। স্যার যখন ক্লাসে পাঠদান দিতে শুরু করেন, পুরো ক্লাস তখন নিরবতা বিরাজমান করে মুগ্ধ হয়ে শ্রবণ ও নোট করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে সবাই।তিনি বিশ্লেষণাত্মক এবং তথ্যবহুল আলোচনার মাধ্যমে পুরো ক্লাস কিংবা যে কোন কনফেরেন্স হল ঘন্টার পর ঘন্টা মনোমুগ্ধকর করে রাখতে পারেন। স্যার পড়ানো খুবই উপভোগ করেন। পড়ানোর ব্যাপারে স্যারের মাঝে কখনো ক্লান্তি দেখিনি। ড. আহমদ আলী স্যার তাঁর দায়িত্বে সব সময় সচেতন ছিলেন এখনো আছেন।আমার জানা মতে স্যার বিশেষ কারণ ছাড়া কোনদিন ক্লাস মিস করেন নাই। আমার মতো যারা স্যারের কাছে পড়েছি আমরা সবাই তাঁর কাছে ঋণী।এ ঋণ কোন দিনও শোধ হওয়ার নয়। এমনকি কোন প্রতিদানও। তাঁর কাছে যারা পড়েছেন কিংবা দরস নিয়েছেন তাদের সংখ্যা এত বেশি যে তাদেরকে সংখ্যায়িত করা এখানে সম্ভব নয়। বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে যে প্রতিষ্ঠানে খেদমত হচ্ছে, সেখানেই তাঁর ছাত্র আছে। বিভিন্ন মাদরাসা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ মুহাদ্দিস, প্রফেসর হিসেবে অনেক ছাত্রই আজ নিয়োজিত। তিনি আজও আমার মনের গহীনে আছেন। স্যারের জ্ঞানের আলোতে আলোকিত আমরা।
প্রফেসর ড. আহমদ আলী স্যার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগ থেকে ১৯৮৯ সালে অনার্সে ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট, ১৯৯০ সালে মাস্টার্সে ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট ও ২০০২সালে পিএইচডি করে কৃতিত্ব অর্জন করেন। একই সাথে বাংলাদেশের অন্যতম দ্বীনী প্রতিষ্ঠান চুনতী হাকিমিয়া আলিয়া মাদরাসা হতে ১৯৮৭ সালে কামিল পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জন করেন। তিনি ২০০৭ সালে কিং সাউদ ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চতর ডিপ্লোমা অর্জন করেছেন। ছাত্রজীবন থেকেই তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী স্যার একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে পেশাগত জীবনে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। শিক্ষকতাকেই একমাত্র পেশা হিসেবে গ্রহন করেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত সহজ-সরল,স্বল্পভাষী এবং আকর্ষনীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সাবেক সফল চেয়ারম্যান ড. আহমদ আলী স্যার পেশাগত জীবন শুরু করেন বিখ্যাত দ্বীনি প্রতিষ্ঠান চুনতি হাকিমিয়া আলিয়া মাদরাসার শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে। তিনি এই দ্বীনী প্রতিষ্ঠানে ১৯৯৪ সাল হতে ১৯৯৬ পর্যন্ত মুহাদ্দিস ও উপাধ্যক্ষ পদে কৃতিত্ব সাথে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়েও প্রাধান্য দিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকতাকে। তাই একই সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবী ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদানের সুপারিশ প্রাপ্ত হয়ে মার্চ ১৯৯৬ সাল হতে মার্চ ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত সেখানেই যুক্ত হন। তিনি ১৯৯৯ সালে সহকারী অধ্যাপক পদে এবং ২০০৩ সালে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তিনি ২০০৮ সালে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করে বর্তমান পর্যন্ত কর্মরত আছেন। তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম’র ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে প্রফেসর পদে এবং চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনী প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম আলিয়া মাদরাসায় মুহাদ্দিস পদে বেসরকারিভাবে পার্ট টাইম কৃতিত্ব সহিত দায়িত্ব পালন করেন।
দেশ বিদেশের বিভিন্ন জার্নাল ও ম্যাগাজিনে ড. আহমদ আলী স্যারের গবেষণাধর্মী লেখা প্রকাশিত হয়েছে।যা এখনো হচ্ছে। তাছাড়া তিনি অসংখ্য কিতাব রচনা করেন। বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক ড. আহমদ আলী স্যারের লিখিত বইসমূহ:
১.মুসলিম লিপিকলা : উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ
২.বিদআত (১-৬ খণ্ড)
৩.ইসলামের শাস্তি আইন
৪.ইসমাতুল আম্বিয়া
৫.গণতন্ত্র : ইসলামি দৃষ্টিকোণ
৬.সার্বভৌমত্ব : ইসলামি দৃষ্টিকোণ
৭.ইসলামের দৃষ্টিতে পোশাক পর্দা ও সাজসজ্জা
৮.ইসলামের আলোকে বাসস্থানের অধিকার ও নিরাপত্তা
৯.তাযকিয়াতুন নাফস
১০.আধুনিক আরবি কাব্য সাহিত্যের ইতিহাস
১১.খলীফাতুর রাসূল আবু বাকর আস সিদ্দিক ( রা.)
১২.ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা
১৩. জঙ্গিবাদের উত্থান বনাম ইসলামের শ্বাশত শিক্ষা।
১৪.তাসাউফের স্বরুপ
১৫. নামাজে চেয়ার ব্যবহার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
অপ্রকাশিত:
১. বিদআত (৭ম খন্ড ও ৮ম খন্ড)
২.সালাতুত তারাবীহ।
আজও স্যারের লিখিত বই সহ স্যোসাইল মিডিয়ায় প্রতিটা লেখা আমি মনোযোগ দিয়ে এখনো পড়ি।স্যারের লেখা মানুষকে শিখায় শিরক ও বিদআত মুক্ত সমাজ গড়তে ।স্যারের মতো শিক্ষক শুধু আমাদেরকে জ্ঞান ই দান করেন না, একজন সচেতন দ্বীনদার ও দ্বীন ইসলামের দায়ী হতে শিখিয়েছেন।সমাজ, রাষ্ট্র ও দ্বীনের প্রতি দায়িত্ববান হতে শিখিয়েছেন।স্যারের লেখাতে কোন অতি বাড়াবাড়ি নাই।বহু প্রতিভাবন ব্যক্তিত্ব ড. আহমদ আলী স্যার আলেম সমাজ এবং লেখক ও গবেষক সমাজের অহংকার। আল্লাহ পাক তাঁর এই দ্বীনী খেদমতকে কবুল করুক। একই সাথে তাঁকে দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য দান করুক।
লেখক : কলামিস্ট।

Logo-orginal