, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২০

Avatar admin

তারুণ্যের চোখে মুখে অন্ধকার!

প্রকাশ: ২০২০-০৬-২৫ ১৩:৩৯:০৩ || আপডেট: ২০২০-০৬-২৫ ১৩:৩৯:০৭

Spread the love

কায়সার সিকদার: থমকে গেছে বিশ্ব,থমকে গেছে সপ্ন।হাজারো তারুণ্যের চোখে ভবিষ্যৎ বলতে অন্ধকার।তাদের মধ্যে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী। যারা গ্রেজুয়েট শেষ করে চাকরি করে মা-বাবার দুঃখ গোছাবে বলে বুক বেঁধে ছিল,আজ তাদের চোখে হতাশা।

করোনা নামক মহামারী সবকিছু উলোটপালোট করে দিলো।কেউ কি কখনো ভাবছিল এমন কিছু? আজ কল্পনার বাইরের জগতে বাস করতে হচ্ছে বিশ্বকে।যে বিশ্ব কেউ কখনো চাই নি।
চট্রগ্রাম কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র মহসিন।৪র্থ বর্ষ বলতে ৩য় বর্ষের পরীক্ষা শেষ হয়তে না হয়তে করোনার হানা দেশে।অনেক ডিপার্টমেন্টে তো পরীক্ষা বাকি রয়েছে।তার বাবা একজন কৃষক। পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৭জন।সে শহরে টিউশন করে নিজের লেখাপড়া আর থাকা খাওয়ার খরচ চালাত এবং পাশাপাশি বাবাকে কিছু টাকা পাঠাতো।যে টাকায় তার ভাই-বোনের পড়ালেখা চলত।বলতে গেলে তার বাবার উপর বাড়তি চাপ ছিল না।আজ তার আয়ের উৎস বন্ধ। ফলে কষ্টে পড়েছে নিজে এবং চাপ হয়ে পড়েছে তার বাবার উপর। যে সপ্ন ছিল সে গ্রাজুয়েট শেষ করে বাবার পাশে দাঁড়াবে আজ সেই সপ্নের ভবিষ্যৎ বলতে অন্ধকার। একইভাবে আরও কতশত শিক্ষার্থী এরকম সপ্ন ভাঙার গল্প লিখিতেছে।

সন্ধ্যার দিকে দেখা হয়েছিল জাফর ভাইয়ের সাথে। জিজ্ঞেস করলাম কেমন আছেন ভাই, তাতেই উত্তর -কি আর ভালো।মাস শেষে বাসা ভাড়া, খাওয়া ইত্যাদিতে আজ খুব ক্লান্ত। বাসা জবাব দিয়ে দিছি।তোর ভাবিদের গ্রামের বাড়ি পাঠাই দিচ্ছি।এরকম হাজারো মধ্যবিত্তের আজ পিট দেওয়ালে ঠেকে গেছে।

কখন পৃথিবী সুস্থ হয়ে আবারও তারুণ্যের গিটারের তারে ঝনঝনাবে তা কেউ বলতে পারে না।কখন আগের মতো পরীক্ষা, ক্লাস ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে তাও কেউ জানে না।বলতে গেলে ভবিষ্যৎ বলতে অন্ধকার অর্থাৎ দুদু মরুভূমি।

সবারই একটা সুর পৃথিবী হাসুক আগের মতো।নগরে বাজুক গাড়ির হর্ণ, আড্ডাহোক জামাল খান মোড়ে কিংবা সিআরবিতে।তারুণ্য সপ্ন বুনুক তার বালিশে মাথা গুঁজে।

Leave a Reply

Logo-orginal