, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০

Avatar admin

আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন, এই দায় কে নিবে?

প্রকাশ: ২০২০-০৭-১২ ২২:৪৪:৩৯ || আপডেট: ২০২০-০৭-১২ ২২:৪৪:৪১

Spread the love

কায়সার সিকদার (মুক্তমত)ঃ পোশাক শিল্পের পরের ধাপে প্রবাসী শ্রম বাজার নির্ভর দেশের অর্থনীতি। দেশের জিডিপির অনেকাংশ টার্গেট রচিত হয় প্রবাসী শ্রমিকদের ঘিরে।করোনার দিনে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে এই খাতে।অথচ সেই খাতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ইতালি থেকে দুই দিনে দুটি ফ্লাইটে বাংলাদেশি যাত্রীদের ফেরত পাঠায় দিল সেই দেশের সরকার।ফলে আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইতালির জাতীয় দৈনিক ইল মেসাজেরোর প্রথম পাতার ছয় কলামজুড়ে প্রধান শিরোনামে বাংলাদেশিদের ভুয়া কোভিড–১৯ পরীক্ষার রিপোর্ট।
দেশে এবং বিদেশে অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন । বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতের দুর্নীতিতে এমনই ঘটনা উঠে এসেছে।যার পরিপেক্ষিতে বিশ্ব নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশী শ্রমিকদের ফিরে নেওয়া নিয়ে(যারা ছুটিতে এসেছেন তাদের)।

বৈদেশিক আয় নির্ভর দেশগুলো নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেছে বাংলাদেশীদের নিয়ে।তার ওপর ইতালির প্রধানমন্ত্রীর যে কথিত বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের খবর বের হয়েছে, তা সত্য হলে সেটা দুর্ভাগ্যজনক ও নিন্দনীয়। এই খবর শুধু ইতালি পত্রিকাতে সীমাবদ্ধ ছিলো না,যুক্তরাজ্যের দৈনিক দ্য টাইমস এবং যুক্তরাষ্ট্রের দ্য নিউইয়র্ক টাইমস–এও খবরটি একই ধরনের শিরোনামে হয়েছে।

ভুয়া পরীক্ষার কেলেঙ্কারিতে এখন পর্যন্ত দুটি প্রতিষ্ঠানের কথা জানা গেছে: জেকেজি আর রিজেন্ট হাসপাতাল। কিন্তু আর কোথাও যে ভুয়া পরীক্ষা হচ্ছে না, সে কথা বিশ্বাস করা কঠিন। নামীদামি হাসপাতালের বিরুদ্ধেও এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু তদন্ত হয়নি, র‌্যাব বা পুলিশও কোনো অভিযান চালায়নি।

দোষ চাপাচাপি দেশের আমলাদের নতুন নয়।আমজনতার ঘরের চুলায় পানি ঢেলে সরকার কীভাবে এই দায় এড়াতে পারে! স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে রিজেন্ট হাসপাতালকে করোনা পরীক্ষা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। আবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভিন্ন সুর। এটি শুধু ভুক্তভোগী কিংবা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেনি, ক্ষুণ্ণ করেছে বিদেশি শ্রমিকের শ্রমবাজার।

সবচেয়ে বড় ভাবনা, আমাদের দেশের করোনার আক্রান্ত এবং মৃত্যুর পরিসংখ্যানের যৌক্তিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে। ইতালির বিমানবন্দরে ১১২ জন যাত্রীর ওপর পরীক্ষা চালিয়ে ৩৭ জনকে পাওয়া গেল সংক্রমিত; এর মানে সংক্রমণের হার প্রায় ৩৫ শতাংশ। ঢাকায় ওয়ারী লকডাউন করার পর যে সীমিত সংখ্যায় পরীক্ষা চালানো হয়েছে, তাতে সংক্রমণের হার প্রায় ৫০ শতাংশ। অথচ জাতীয়ভিত্তিক পরিসংখ্যানে সংক্রমণের হার প্রায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ (ওয়ার্ল্ডোমিটারস, ৯ জুলাই ২০২০)।

এসব অনিয়ম এবং দুর্নীতি দায় সরকার কোনো ভাবে এড়াতে পারে না। এই দেশ স্বাধীন দেশ,এই দেশ ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগে এবং ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে পাওয়া দেশ।
আমরা বাঙালি, আমরা মাথা নিচু করতে শিখি নাই।এসব অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ে আবার বিশ্বের দরবারে মাথা তুলে দাঁড়াবো।

Logo-orginal