, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০

Avatar admin

আমেরিকায় বিয়ের ভোজ চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে

প্রকাশ: ২০২০-০৭-০৪ ১৯:২৮:৪২ || আপডেট: ২০২০-০৭-০৪ ১৯:২৮:৫৯

Spread the love

থাকেন আমেরিকায়। দিলেন মেয়ের বিয়ে। আর সেই বিয়ের ভোজন হলো চট্টগ্রামের করোনা হাসপাতালে। শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, আয়াসহ ৫০০ করোনা যোদ্ধা এই বিয়ে ভোজে ঢেকুর তোলেন। রাতেও ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরো ৪০০ রোগীর জন্য খাবার তৈরী চলছে চট্টগ্রাম ক্লাবে। সেই সাথে চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালেও যাচ্ছে বিয়ে ভোজের খাবার। ব্যতিক্রমী এই আয়োজনের পেছনে যাদের অবদান বেশি তারা হলেন নগরীর দামপাড়ার ব্যবসায়ী আরিফ চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুমানা হায়াতের। আরিফ চৌধুরী জানান, সন্দ্বীপ উপজেলার কাদের চৌধুরী আমেরিকায় বসবাস করেন। সেখানে ব্যবসা করেন তিনি।

বিয়ে করেন আমার বোন ইসরাত চৌধুরীকে। তাদের পরিবারে এখন দুই মেয়ে, এক ছেলে। এদের সবার জন্ম, বেড়ে ওঠা ও লেখাপড়া আমেরিকায়। বর্তমানে তারা লং আইল্যান্ডে থাকে।এদের মধ্যে বড় মেয়ে ফাইজা চৌধুরী মাস্টার্স করার পর এখন অস্টেওপ্যাথিক মেডিসিন নিয়ে পড়াশোনা করছে। তার আকদ হয়েছে আমেরিকায় শুক্রবার বিকেল ৪টায়, বাংলাদেশ সময় রাত দুইটায়। বর মোহাম্মদ রাহিল মহিউদ্দিন। তার বাবা-মা ভারতের হায়দ্রাবাদের। তারও জন্ম আমেরিকায়। সেখানেই তার বেড়ে ওঠা, লেখাপড়া। তারাও আমেরিকার স্থায়ী বাসিন্দা। আরিফ চৌধুরী বলেন, ফাইজার বিয়ে উপলক্ষে চট্টগ্রামে আত্নীয়-স্বজন, বন্ধু সবাইকে খাওয়ানোর জন্য আমার বোন এবং ভগ্নিপতি অনুরোধ করেন।

চট্টগ্রামের ঐতিহ্য অনুসারে সর্বোচ্চ মানের খাওয়া-দাওয়া করানোর কথা বলেন। আমি ও আমার স্ত্রী রুমানা হায়াত অনেক ভেবে তাদের জানাই, এই মহামারিতে বিয়ের অনুষ্ঠান করা ঠিক হবে না। পরে সকল আত্নীয়ের বাসায় খাবারের প্যাকেট পাঠানোর জন্য বলা হয়। কিন্তু তাতেও আমরা সায় দিইনি। আমরা বোনকে বোঝাতে সক্ষম হই, বিয়ের অনুষ্ঠান কিংবা আত্নীয়দের বাড়িতে খাবার পৌঁছানোর চেয়ে করোনা রোগীদের নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের খাওয়ালে ভালো হবে। তাতে আমার ভাগ্নিও সমর্থন দেয়। করোনায় যারা মাঠে কাজ করছেন তাদেরকে নিজের স্বজন বলে আখ্যা দেয় সে। এরপর সিদ্ধান্ত হয়, যে বাজেট বিয়ের খাবারের জন্য ব্যয় হতো সেই বাজেটের পুরোটা করোনা আক্রান্ত রোগী, তাদের চিকিৎসা ও সেবায় নিয়োজিতদের একদিনের যাবতীয় খাবার সরবরাহ করা হবে। ভাগ্নির বিয়ে উপলক্ষে আমাদেরও দায়িত্ব রয়েছে, বাজেট রয়েছে। বোনের কাছ থেকে পাওয়া টাকার সাথে আমাদের টাকা মিলিয়ে বড় বাজেট হয়। আরিফ চৌধুরী বলেন, আমরা আলোচনা করে চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল ও ফিল্ড হাসপাতালে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিই। কারণ করোনাকালে মা ও শিশু হাসপাতাল অসাধারণ কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। রোগীদের আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে।

হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির কাছে আমাদের এই অভিপ্রায় জানালে তারা সম্মত হয়। তাই শনিবার দুপুরে ৫০০ জনের খাবার দেওয়া হয়। রাতে আরো ৪০০ জনের খাবার হাসপাতালে পাঠাব। চট্টগ্রাম ক্লাবে এসব খাবার তৈরী হচ্ছে। সেখান থেকে স্বাস্থ্যবিধি মোতাবেক প্যাকেট করে খাবার পাঠানো হবে।
সেই সাথে চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালেও রোগী ও চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের একদিনের খাবার দেয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মা-শিশু ও জেনারেল হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির ট্রেজারার রেজাউল করিম আজাদ বলেন, এটা ব্যতিক্রমী আয়োজন।

চট্টগ্রামে বিয়েসহ নানা অনুষ্ঠান উপলক্ষে অনেকে বিপুল অর্থ খরচ করেন। এ ধরনের খরচ সেবামূলক কাজে ব্যয় করলে মানুষ উপকৃত হবে। এই আয়োজনের জন্য তিনি আরিফ চৌধুরী ও রুমানা হায়াতকে ধন্যবাদ জানান এবং নব দম্পতির সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। তিনি বলেন, এর আগেও আরিফ চৌধুরী মা ও শিশু হাসাপাতালে সহায়তা করেছেন। নিজের মা-বাবার নামে ডায়াবেটিক হাসপাতালে দুটি বেড দিয়েছেন। তাঁর স্ত্রী রুমানা হায়াতও সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডে জড়িত। তিনি চিটাগাং ক্লাবের কমিটি মেম্বার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

Logo-orginal