, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২০

Avatar admin

এটিএম আজহারের রিভিউ আবেদন শুনানির জন্য নিয়মিত আদালতে

প্রকাশ: ২০২০-০৭-২০ ১৩:৩০:১২ || আপডেট: ২০২০-০৭-২০ ১৩:৩০:১৪

Spread the love

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা বাতিল চেয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের রিভিউ আবেদন শুনানির জন্য নিয়মিত আদালত উপস্থাপন করতে বলেছেন আপিল বিভাগের ভার্চুয়াল বেঞ্চ।

সোমবার (২০ জুলাই) অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম রিভিউ আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করলে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ভার্চুয়াল আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।

আপিল বিভাগ নিয়মিত আদালত চালুর পর আজহারের রিভিউ আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করতে বলেন।

এর আগে রোববার আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেন এটিএম আজহারুল ইসলাম।

রোববার আজহারুল ইসলামের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিভিউ আবেদন করেন। তিনি বলেন, আপিল বিভাগের রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি হাতে পেয়ে রিভিউ আবেদনটি দাখিল করা হয়েছে।

১৪টি যুক্তিতে তার রিভিউ আবেদন করা হয়েছে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছে। আইনজীবী শিশির মনির বলেন, এটিএম আজহারুল ইসলাম আমাদের রিভিউ আবেদন করার নির্দেশনা দিয়েছেন। সেভাবেই আমরা রিভিউ আবেদন প্রস্তুত করেছি।

এটিএম আজহারের আইনজীবীরা জানান, ১৪টি যুক্তিতে রিভিউ আবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম যুক্তি হলো- আপিল বিভাগ সর্বসম্মতভাবে এটিএম আজহারকে মৃত্যুদণ্ড দেয়নি। চার বিচারপতির মধ্যে তিনজন তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন। আর একজন বিচারপতি (কয়েকদিন আগে অবসরে যাওয়া বিচারপতি জিনাত আরা) তিনটি অভিযোগের মধ্যে দুটিতেই খালাস দিয়েছেন, আর একটিতে মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। সুতরাং যেসব অভিযোগ বিচারকের দৃষ্টিতেই সন্দেহজনক, তাতে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা সঠিক হবে না।

এটিএম আজহারের পক্ষে তুলে ধরা যুক্তির মধ্যে রয়েছে- ‘চার্জ গঠন আদেশ অনুযায়ী ২ নম্বর চার্জের ঘটনাস্থল মোকসেদপুর গ্রাম। অথচ রাষ্ট্রপক্ষের ৩ নম্বর সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেছেন যে, ঘটনাস্থল হল উত্তর রামনাথপুর। আপিল বিভাগ ঘটনাস্থল সংক্রান্ত পরস্পরবিরোধী এই বক্তব্যের সন্তোষজনক সমাধান না করেই আজহারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।’

‘রাষ্ট্রপক্ষের ৩ ও ৬ নম্বর সাক্ষীর দাবি অনুযায়ী তারা ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী। অথচ তাদের জবানবন্দী পর্যালোচনায় দেখা যায়, ওই সময় ৩ নম্বর সাক্ষী ৫/৬ কিলোমিটার ও ৬ নম্বর সাক্ষী ৩/৩.৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিলেন। আপিল বিভাগ সাক্ষীদের বক্তব্যের এই বৈপরীত্য বিবেচনায় না নিয়ে আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।’

‘রাষ্ট্রপক্ষের ৪ নম্বর সাক্ষী জেরায় স্বীকার করেছেন যে, ঝাড়ুয়ার বিলের ঘটনায় আজহারুল ইসলাম জড়িত নন। আপিল বিভাগ মতামত প্রদান করেছেন যে, ট্রাইব্যুনাল ভুলবশতঃ ‘ইহা সত্য নহে’ শব্দসমূহ উল্লেখ করতে পারেনি এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন। মামলার নথিপত্রে উল্লিখিত সাক্ষ্যপ্রমাণ অনুযায়ী তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।’

‘রাষ্ট্রপক্ষের দাখিলকৃত প্রদর্শনী নম্বর ২৫ অনুযায়ী আজহারুলের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের মতো কার্যক্রমে জড়িত থাকার কোনো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের এই দালিলিক প্রমাণ বিবেচনায় না নিয়েই তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন।’

‘আপিল বিভাগ রায়ে উল্লেখ করেছেন, আজহারুল ইসলাম রাষ্ট্রপক্ষের ৯ নম্বর সাক্ষীর জবানবন্দীতে আপত্তি জানাননি। নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৯ নম্বর সাক্ষীর জবানবন্দীতে সুনির্দিষ্টভাবে আপত্তি জানানো হয়েছে।’

‘রাষ্ট্রপক্ষের ১০ নম্বর সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেছেন যে, তিনি আজহারুল ইসলামকে ১৯৭১ সালে চিনতেন কারণ আজহারুল ইসলাম তখন কারমাইকেল কলেজের ছাত্রনেতা ছিলেন। অথচ তিনি কারমাইকেল কলেজের তৎকালীন ছাত্রলীগ কিংবা ছাত্র ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের নাম জানেন না। এমনকি কারমাইকেল কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষের নামও জানেন না। রায়ে আপিল বিভাগ সাক্ষ্যের এই অংশ বিবেচনায় না নিয়েই তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন।’

‘স্বীকৃত মতে আজহারুল ইসলাম ১৯৭১ সালে ১৮ বছর বয়সে উচ্চ মাধ্যমিকের একজন ছাত্র ছিলেন। অথচ সকল হত্যাকাণ্ডের দায় তার উপর চাপানো হয়েছে। আপিল বিভাগ তৎকালীন তার এই সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় না নিয়েই তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন।’

নিয়ম অনুযায়ী, আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী রিভিউ আবেদন করতে গত ১৬ মার্চ থেকে ১৫দিন সময় পান এটিএম আজহার। কিন্তু আদালত বন্ধ থাকায় এ সময়ের মধ্যে তিনি রিভিউ আবেদন করতে পারেননি। আর আপিল বিভাগে শুনানি না হওয়া পর্যন্ত দণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে।

২০১৪ সালের ৩০ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি আপিল করেন এটিএম আজহার। এই আপিলের ওপর শুনানি শেষে গতবছর ৩১ অক্টোবর আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডর সাজা বহাল রাখেন। গত ১৫ মার্চ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। উৎসঃ নয়া দিগন্ত।

Logo-orginal