, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২০

Avatar admin

নীতিহীন শিক্ষিতরাই হচ্ছে আজকের সাহেদ সাবরিনা এবং শারমিন

প্রকাশ: ২০২০-০৭-২৮ ১৫:৩১:৪৬ || আপডেট: ২০২০-০৭-২৮ ১৫:৩১:৪৭

Spread the love

কায়সার সিকদার, চট্টগ্রামঃ রাহাত্তারপুল থেকে নতুনব্রীজ যাচ্ছিলাম ৪নং বাস ধরে।হঠাৎ দেখি এক যাত্রীর সাথে বাস কন্ডাক্টরের তর্ক লেগে গেছে।উঠে দেখলাম, দেখে যা বুঝলাম সত্যি তো।কন্ডাক্টর লোকটাকে বলল আমরা আনপড়া হয়েও ২ টাকা ৫ টাকা বাড়ায় নিচ্ছি, শিক্ষিতদের মতো কলম ঘুরায় লাখ টাকা পকেট ভারি না।

ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী ছিলেন একজন কার্ডিয়াক সার্জন, দেড় হাজার কোটি টাকা নিয়ে কানাডায় পালানো পি কে হালদার বুয়েট থেকে পাস করা একজন ইঞ্জিনিয়ার, রূপপুর বালিশকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন একজন নির্বাহী প্রকৌশলী, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পর্দা কেলেঙ্কারির মূল হোতাদের চারজনই হলেন চিকিৎসক। জুম মিটিংয়ের অস্বাভাবিক খরচ দেখানো আর রুপার দামে বঁটি কিনতে যাওয়া মানুষগুলো সবাই প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মেধাবী দুর্নীতিবাজ আর প্রতারকে বাংলাদেশ এখন জেরবার।

রিজেন্ট গ্রুপের সাহেদ করিম ও জেকেজির আরিফ আর ডাক্তার সাবরিনা—এই তিন মহাপ্রতারক, ভয়াবহ মহামারি নিয়েও যে প্রতারণার ফাঁদ পেলে করোনার দিনে মহামানব এবং টকশোবাদী হয়ে দেশকে টকিয়ে সম্পদের হার বাড়িয়েছে, তা অধিকাংশ মানুষেরই কল্পনার বাইরে । যদি জীবাণুদের অনুভূতি আর বোধশক্তি থাকত, সাহেদ-সাবরিনাদের দেখে করোনাভাইরাস নিজেও বোধ হয় লজ্জিত হতো।

২৬শে জুলাই কলেরকণ্ঠের শিরোনাম এত মেধাবী হয়েও অপরাধীচক্রে ওরা!অর্থাৎ সাবরিনা,শারমিন এবং তৃণা!
দ্রুত বড়লোক হওয়ার প্রলোভনে মেধাবী ও প্রতিষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও এরা অপরাধীচক্রে জড়িয়ে পড়ছেন।

দুদকের চেয়ারম্যান গত বছর বলেছিলেন বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্নীতিপ্রবণ খাতগুলোর একটি হলো শিক্ষা খাত। যাদের মেধা নিয়ে কারও কোনো সন্দেহ নেই, তাদের নীতি-নৈতিকতায় সন্দীহান,এমনটি হওয়ার কারণটা কী?

দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এমনিই, নিজেদের চেয়ে বড় আকারের ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে ছোট্ট কোমলমতি শিশুদের স্কুলে যাওয়া-আসা শুরু করতে হয়।যেখানে নীতিকথার চেয়ে বড় লোক হওয়ার শিক্ষা দেয় বেশি।আর আমাদের অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের রাতারাতি পড়ালেখায় আইনস্টাইন, চিত্রাঙ্কনে পাবলো পিকাসো, খেলাধুলায় সাকিব আল হাসান, সংগীতে রুনা লায়লা বানিয়ে ফেলতে চান। শেখার আনন্দের চেয়ে এসব বাচ্চার কাছে সাফল্যের গুরুত্বকে বড় বানিয়ে ফেলেন বাবা-মায়েরা। সর্বনাশের এইতো শুরু।

সর্বনাশের বীজটা আর-ও জ্বালিয়ে দেয় যখন সন্তানকে এ প্লাস এবং গোল্ডেন পাওয়ার নেশায় অন্ধ অভিভাবকেরা মৌলিক নৈতিক শিক্ষার ব্যাপারে উদাসীনতা দেখাতে শুরু করেন। কিশোর বয়সে সন্তানদের আচরণগত ভুলত্রুটিগুলো অনেক মা-বাবা তাঁদের ছেলেমানুষি ভেবে এড়িয়ে যান, যদি সেই সন্তানদের পরীক্ষার ফল ভালো হয়। ক্লাসে ভালো ফল একধরনের সাফল্য, কিন্তু একজন ভালো মানুষ হওয়াটাই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা। সাফল্য আর সার্থকতার এই পার্থক্য নিরূপণে বেশির ভাগ অভিভাবক আগ্রহী নন। আর এই অবহেলা থেকেই জন্ম হয় বুয়েটের আবরার ফাহাদের খুনিদের আর আজকের সাবরিনা,শারমিন, তৃণা এবং দূর্নীতিগ্রস্ত সরকারি আমলা। এরা সবাই মেধাবী ছিল, কিন্তু হয়তো আশপাশের সবাই ওদের যেভাবে পরীক্ষায় ভালো করতে বলেছে, জীবনে ভালো মানুষ হতে সেভাবে বলেনি।

অবশ্য অনেক সময় চাইলেও শেখানো যায় না। কারণ, শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। যে সন্তান জন্ম থেকে দেখে আসে তার অভিভাবকটি সীমিত আয়ের চাকরি করেও অঢেল ধনসম্পদের মালিক, তার কোমল মন এটাকেই স্বাভাবিক বলে ধরে নেবে। সে যদি পরবর্তী সময়ে তার সৎ উপার্জন করা অপেক্ষাকৃত অসচ্ছল আত্মীয়টিকে সম্মান দিতে না শেখে, তবে তার এই নৈতিক মূল্যহীনতার দায়ভার কার ওপর বর্তাবে?

Leave a Reply

Logo-orginal