, রোববার, ৯ আগস্ট ২০২০

Avatar admin

পানি উন্নয়ন নামে কোটি টাকার বরাদ্দ, জনগণ কি সুফলপাচ্ছে!

প্রকাশ: ২০২০-০৭-০৫ ২২:১৫:৫০ || আপডেট: ২০২০-০৭-০৫ ২২:১৫:৫১

Spread the love

কায়সার সিকদারঃ বাংলাদেশ একটা বদ্বীপ। হিমালয় থেকে নেমে আসা জলের সঙ্গে পলি জমে জমে তৈরি হয়েছে এ দেশের অনেকটা অংশ। এটি এখনো নিচু। এটাকে তাই বলা হয় প্লাবনভূমি।ঋতু চক্রে এই দেশে বর্ষায় প্রচুর বৃষ্টি হয়। আবার ওই সময় হিমালয়ে গলে বরফ। দুইয়ে মিলে নদীতে জলের প্রবাহ বাড়ে। হঠাৎ করে বেশি জল এলে নদী তা ধরে রাখতে পারে না। দুকূল ছাপিয়ে পানি উপচে পড়ে। ডুবিয়ে দেয় প্লাবনভূমি। বদ্বীপ অঞ্চলে এটা অতি স্বাভাবিক। এটা প্রকৃতি থেকে পাওয়া।

বাংলাদেশ ছোট,তবে তার জনসংখ্যা অনেক। ফলে প্লাবনভূমির যে অংশটি বরাদ্দ থাকার কথা শুধু জলের জন্য, সেখানে হানা দিয়েছে মানুষ। বসতি গড়েছে, চাষবাস করছে। হঠাৎ বেশি পানি এলে তারা পড়ে যায় বিপদে। এটাই বন্যা।পানিপ্রবাহের জন্য যা স্বাভাবিক, মানুষের কাছে তা শেষ আশ্রয় স্থল।

হিসাবমতে-আমাদের দেশের আয়তন দেড় লাখ বর্গকিলোমিটারের মতো। এ অঞ্চলের তিনটি বড় নদী গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র আর মেঘনা অববাহিকার মোট আয়তন ১৫ লাখ ৩৬ হাজার বর্গকিলোমিটার। আমাদের দেশের প্রায় ১০ গুণ। এই নদীগুলো দিয়ে যে পরিমাণ জল বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে যায়, তা যদি ধরে রাখা যেত, তাহলে বাংলাদেশ থাকত ৩৫ ফুট জলের নিচে। প্রায় সবটা জল গড়ায় চাঁদপুর হয়ে মেঘনা দিয়ে। বন্যা হবে না তো কী হবে?

এখন আর জলের সাথে পলি আসে না,আসে বালু আর মাটি।যা নদীর গভীরতা কমিয়ে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত।আর শিল্পনগরীর ছোঁয়ায় নদীতে প্রতিদিন পতিত হচ্ছে হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য।যেখানে রয়েছে অপচনশীল দ্রব্য। যে দ্রব্য নদীর স্রোতে বাধা সম্মুখীন করে।ভরাট করে দেয় নদীর ভূতল।ফলে নদীর পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গেছে।

এ ক্ষেত্রে ড্রেজিংয়ের বিকল্প নেই। সর্বশেষ ডেল্টা প্ল্যানে ড্রেজিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সরকার । ড্রেজিং বাবদ কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।তবে কর্তাদের নজর নদী খনন থেকে ড্রেজার কেনাকাটায় বেশি। এ নিয়ে কতই কাণ্ড-কারখানা চলছে। আমাদের যে পরিমাণ ড্রেজিং দরকার এবং তা করতে হবে নিয়মিত, প্রতিবছর, সে জন্য এ দেশে ড্রেজার তৈরির কারখানা থাকা উচিত। কিন্তু সেদিকে কারও মন নেই। আমদানি করলে পকেট ভারী হয়।

আজ বন্যায় তলে গেছে দেশের উত্তর অঞ্চলের অনেক উপজেলা। অভাব দেখা দিয়েছে খাদ্য ও নিরাপদ পানির।বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে শত গ্রাম। অথচ বাঁধ সংস্কার বাবদ পানি উন্নয়ন বোর্ডে কোটি টাকার বরাদ্দ।এতো বরাদ্দের পরে-ও বাঁধের নাজুক অবস্থা কেন? সুদূর পরিকল্পনা নেই কেন?পানির চাপ বাড়লে বাঁধ ভেঙে যাই কেন??এসব উত্তর কে দিবে।এই দেশ আমার আপনার সত্যি, তবে বলতে হয় দিনশেষে দেশত সরকারি আমলার।।

করোনা থমকে দিয়েছে বিশ্ব। থেমে গেছে কর্ম,ফলে বেকরত্বের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার মধ্যে বন্যা,এই যেনো কাঁটার উপর নুনের ছিটা। যতদিন দূর্নীতি নামক মহামারী দেশ থেকে বিলুপ্ত হবে না ততদিন কোটি টাকার বরাদ্দের সুফল জনগণ ভোগ করতে পারবে না।

Logo-orginal