, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০

Avatar admin

বৌদ্ধ ধর্মগুরু আড়ালে একজন ভূমিদস্যু জ্ঞান শরনংকর ভিক্ষু

প্রকাশ: ২০২০-০৭-১১ ১৬:৫১:১৩ || আপডেট: ২০২০-০৭-১১ ১৬:৫১:১৪

Spread the love

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধিঃ রাঙ্গুনীয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ফলাহারিয়া গ্রামে ২০১০ সালের শেষের দিকে বৌদ্ধ ভিক্ষু জ্ঞানশরনাংক ভিক্ষুর আগমন হয় ফলাহারিয়ার গ্রাম সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায়।

ফলাহারিয়ার গ্রাম সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় এই বৌদ্ধ ভিক্ষু জ্ঞান শরনংকর ভিক্ষু ধ্যান সাধনায় বসেন,স্থানীয়দের প্রশ্ন ধ্যান সাধনা কিংবা ধর্ম চর্চা করার জন্য পুরা পাহাড়ি অঞ্চলের প্রয়োজন কি..?? ধর্মের দোহায় দিয়ে,ধ্যান সাধনা কিংবা ধর্ম চর্চার নাম দিয়ে নিরীহ মানুষের জমি জায়গা দখল করে আত্মসাৎ করা কোন ধর্মে সমর্থন করে??

বৌদ্ধ ভিক্ষু জ্ঞান শরনংকর ভিক্ষু আগমনের পর যে জায়গাটিতে ধ্যান সাধনা কিংবা ধর্ম চর্চার জন্য অবস্থান করেছিলেন সেটা সরকারী বনবিভাগের জায়গা। এত বিশাল জায়গা নিজের দখলে থাকার পরও ফলাহারিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল গফুর নামক এক ব্যক্তির স্ত্রীর জায়গা অবৈধভাবে দখল করে নেন।
এমন কি সরকরি জায়গাতে বসাবাসকারি ভিটা বাড়িহীন সাধারণ নিরিহ জনগণের ঘরবাড়ী উচ্ছেদ করে দেন,ঠিক একইভাবে পাহাড়ী সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি করে চলেছেন,বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হচ্ছে.বিশেষ করে পাহাড়ী বন্য হাতি অরণ্যে অবস্থান করতে না পারায় লোকালয়ে হামলা করছে.ফসল নষ্ট করছে.মানুষের ওপর হামলা করছে, পাহাড়ি সরকারি সম্পদ কারো কিংবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সম্পত্তি না হওয়া সত্তেওজ্ঞান শরনংকর ভিক্ষু দখল করে নিচ্ছেন।
স্থানীয়রা বলেন এলাকার এতো ক্ষয়ক্ষতি করে ধর্মের নামে এসব ভন্ডামী কখনও মেনে নেয়া যায়না,প্রায় ৫শ থেকে ৬শ একর সরকারী জমি অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছেন এমনকি অনেক নিরীহ মানুষকে বাধ্য করেছেন কম দামে জমি বিক্রি করে দিতে,এলাকার অনেক মানুষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অনুরোধ করার পরও দখল কার্যর্ক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রায় একশো একর পাহাড়ি জায়গার সরকারি বনায়ন প্রকল্পের আওতাধীন এক লক্ষ গাছ কেটে সাবার করে দেন৷
গত ৯ জুন সুখবিলাস বনবিভাগের কর্মকর্তা আশরাফুল বাদী হয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন,মামলার প্রেক্ষিতে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম নিজেই সরেজমিন পরিদর্শ করে বলেন সরকারি জায়গাতে কোনরকম ভবন তৈরি করা যাবেনা নিষেধ করার পরও শুক্রবার দলবল নিয়ে জ্ঞান শরনংকর ভিক্ষু অবৈধভাবে জোরপূর্বক ভবন তৈরির কার্যকর্ম চালান।
বিষয়টি জানার পর রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থলে যান এবং ধৈর্য্যসহকারে বুঝানোর চেষ্টা করেন কিন্তু জ্ঞানশরনাংক ভিক্ষু পুলিশ ও বনকর্মকর্তাদের নানাভাবে হুমকি প্রদান করতে থাকেন৷
পুলিশের ধৈর্য্যশীল অবস্থানের কারণে অপ্রিতিকর ঘটনা না ঘটলেও বিষয়টি নিয়ে পুরো রাঙ্গুনিয়া তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে৷ করোনা প্রাদুর্ভাবে ফ্রন্ট যুদ্ধা হিসাবে পরিশ্রমী পুলিশদের সাথে খারাপ আচারণ কেউ মেনে নিতে পারছেনা তবে অনেকে মনে করছেন পুলিশকে আগ্রাসী করার লক্ষ্যে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা পুলিশের সাথে খারাপ আচারণ করেছেন যাতে করে পুলিশ এ্যাকশনে যায় যেটা দেখিয়ে আন্তজার্তিকভাবে বাংলাদেশ সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে৷

Logo-orginal