, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২০

Avatar admin

মহামারীও শিক্ষক হতে পারল না”

প্রকাশ: ২০২০-০৭-০৮ ২৩:৪৫:৪১ || আপডেট: ২০২০-০৭-০৮ ২৩:৪৫:৪৪

Spread the love

কায়সার সিকদারঃ মহামারীও শিক্ষক হতে পারল না!~কায়সার সিকদার।

বাঙালি তো অনন্য। কবে কলকাতায় কংগ্রেসের কোনো একটা সম্মেলনে অতিথি গোপালকৃষ্ণ গোখলে বলেছিলেন, আজ বাংলা যা ভাবে, সারা ভারত সেটা ভাবে কাল। গেরস্তের বাড়িতে দাওয়াত খেয়ে অতিথি কখনোই বলবেন না যে রান্না খারাপ হয়েছে। খাবার স্বাদ না হলেও তার তারিফ করবেন। এটাই সাধারণ ভদ্রতা। এটা ভেবে গেরস্ত যদি মনে করেন, তাঁর বাড়ির রান্না জগদ্বিখ্যাত, তাহলে একটু বেশি হয়ে যায় না? গোখলের কথা ধরেই বসে আছে নাক-উঁচু বাঙালি—আমরাই সেরা!

সেই বাঙালি বলেই,তাহাদের ঘরে করোনা নামক মহামারীও ছেদন করতে পারলো না। আমাদের মন্ত্রীরাতো গলা ফাটায় বলে আমরা বাঙালি অনন্য আর আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা সিংগাপুরকে হার মানাবে।
তবে দিনশেষে সেই মন্ত্রীরাই সিংগাপুরের ফ্লাইট ধরে।বাংলাদেশে কোনো ক্ষেত্রে ব্যর্থতার দায় নিয়ে কোনো দিন কোনো মন্ত্রী পদত্যাগ করেননি। পরিস্থিতি যত নাজুকই হোক না কেন, আমাদের মন্ত্রীরা কখনো ব্যর্থ হন না।

করোনার দিনে কতো আর্তনাদ আর কত মা-বাবার ছেলের লাশের বোঝা কিংবা সন্তানরা রাস্তায় ফেলে দিয়ে যাচ্ছে করোনা সন্দেহে বৃদ্ধ মা-বাবাকে এসব নেক কার দৃশ্যও আমাদের শিক্ষক হতে পারলো না।কোন দিন কোন নতুন মহামারী শিক্ষক হয়ে বাঙালির মনে ছেদন লাগাবে তা বলাটা দুষ্কর।

অনেকে তো শুনেছেন কিংবা ফেসবুকে টু মারলে দেখতে পেয়েছিলেন করোনার দিনে ইতালীর শুরুর দিকের অবস্থা। কড়ি কড়ি অর্থ রাস্তায় কিংবা নর্দমায় ছুড়ে ফেলেছেন অর্থ এই মহামারীতে অমূল্য মনে করে।কিন্তু ভিন্ন দৃশ্যপট বাঙালির ঘরে, মহামারীর একেকটা ভাইরাস বাঙালির লুটেপুটে খাওয়ার একেকটা সুযোগ। আমলারা হাত পাতলে অর্থের ঝনঝনানি।

আজ আলোচিত আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা।এতোদিন আমাদের মন্ত্রীরা যে সিংগাপুরের চিকিৎসার চাপাই গাইয়েছিলেন তার সুর প্রতিদিন নতুনত্বের সুরে কানে বাজছে। কাল থেকে নতুনত্বে সংযোজন রিজেন্ট হাসপাতালের কর্মকাণ্ড। কতটা নির্মম হয়ে দেশের দুর্দিনে আমলার হাত লম্বার সুযোগে কাটার উপর নুনের ছিটা দিয়েছে। সরকারের সঙ্গে চুক্তি ছিল ভর্তি রোগীদের তারা কোভিড পরীক্ষা করবে বিনা মূল্যে। কিন্তু তারা আইইডিসিআর, আইটিএইচ ও নিপসম থেকে ৪ হাজার ২০০ রোগীর বিনা মূল্যে নমুনা পরীক্ষা করিয়ে এনেছে।অথচ প্রতিটি পরীক্ষার জন্য ৩৫০০ টাকা নেওয়া হতো। পাশাপাশি নমুনা পরীক্ষা না করেই আরও তিন গুণ লোকের ভুয়া করোনা রিপোর্ট তৈরি করে।আর রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দিয়েছে এই মর্মে সরকারের কাছে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার বেশি বিল জমা দেয়।
আমলার পকেটে কিছু ডুকে হয়তো এই টাকা হাসপাতালটি হাতিয়ে নিতেও যদি আজ র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম না পৌঁছত। এরকম কান্ড প্রতিটি দপ্তরে চলমান। হয়তো অন্য একদিন তার সন্ধান পাবে জগৎ।

ক্যাসিনো কারবারি বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা পুরান ঢাকার দুই ভাই এনামুল হক ভূঁইয়া ওরফে এনু ও রুপন ভূঁইয়ার দুই বাসা থেকে নগদ টাকা পাওয়া গেছে প্রায় ৩২ কোটি। আর দুই ভাইয়ের নামে ব্যাংকে পাওয়া গেছে ১৯ কোটি ১১ লাখ টাকা। এ ছাড়া এই দুই ভাইয়ের ফ্ল্যাট পাওয়া গেছে ১২৮টি। পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্তে এই তথ্য উঠে এসেছে।কথা হচ্ছে এসব কি ওরা রাতারাতি গড়ে তুলেছে। তবে সরকার দলীয় নেতা বলতে বাড়ি, গাড়ি,অর্থের ঝনঝনানি।

দিনশেষে একরাশ হতাশা নিয়ে বলতে হয় “হে আঠারো কোটির জননী, সভ্য এবং শৈল্পিক করেছ কিন্তু মানুষ করেনি।

করোনার প্রতিটি দিন,প্রতি সেকেন্ড হয়ে উঠুক শিক্ষক, যার হাত ধরে থমকে যাক অরাজকতা।।

Logo-orginal