, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২০

Avatar admin

সাহেদ সাবরিনা মতো প্রতারক” চিকিৎসার নামে খুন করেছে অনেককে

প্রকাশ: ২০২০-০৭-১৯ ১২:০৮:৫৯ || আপডেট: ২০২০-০৭-১৯ ১২:০৯:০১

Spread the love

কায়সার সিকদার, মুক্তমত ডেস্কঃ পেটে অসুখ বেঁধেছে,নামি দামি হাসপাতাল ঘুরে রোগ সারে না,কত বিদেশি ঔষধও গিলেছি কিন্তু পরিবর্তন লক্ষণীয় নয়।কিন্তু এখন আমি বুঝেছি,কেন পরিবর্তন দেখছি না।
সতর্কতার সময়ে, বারবার সাবান–পানিতে হাত ধুয়ে হাতের চামড়া কুমিরের চামড়া বানিয়ে ফেলেছি; বাইরে যাই না, ফোটানো পানি ছাড়া খাই না,দুধ চায়ের বদলে আদা-লেবুযুক্ত রঙ চা খাই ,তারপরও আমাকে জীবাণু কাবু করতে পারল কীভাবে? কারণ, আমি দেশি-বিদেশি নানান ভিটামিন এ শহরের নামী ওষুধের দোকান থেকে কিনে এনে খেয়েছিলাম! আর বিদেশি ভিটামিনগুলো আসলে বিদেশি নয়, মেড ইন নকল কারখানা। ভাড়াবাড়িতে নাকি কাজের মহিলারা ক্যাপসুলে মাটি ভরেন, আটা ভরেন আর তা বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে বলে সরবরাহ করা হয় শহরের নামীদামি ওষুধের দোকানে। আমার পেটে নিশ্চয়ই মাটিভরা ক্যাপসুলই পড়েছিল! কী সর্বনাশ, ভাবুন! ডাক্তার আপনাকে ওষুধ লিখে দিল, আপনি ওষুধ খাচ্ছেন ভেবে নিশ্চিত আছেন, আর আপনি খাচ্ছেন বাংলার উর্বর মাটি! সমকাল পত্রিকার ১২ জুলাইয়ের খবর, ‘কোটি টাকার নকল ওষুধ জব্দ, ১৬ জনের জেল, দুই ফার্মেসিকে জরিমানা।
করোনার শুরুর দিকে কত হারি হারি ডাক্তার নার্স আক্রান্ত হয়েছিল। মৃত্যুেতে ঝরে পড়েছিল কত শত প্রাণ,আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল ডাক্তার নার্স থেকে শুরু করে তাদের পরিবার পর্যন্ত। প্রথম আলোর ১৬ জুলাইয়ের খবর, ‘এন-৯৫ মাস্কের নামে প্রতারণা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। এন-৯৫ মাস্কের নামে নিম্নমানের সাধারণ মাস্ক সরবরাহের ঘটনাকে “পরিকল্পিত প্রতারণা ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ” হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠন করা তদন্ত কমিটি। কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের কমিটির এই প্রতিবেদনের আলোকে মাস্ক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জেএমআই এবং মালামাল গ্রহণ, বিতরণ বা অন্য যেকোনোভাবে এ বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে বলেছে মন্ত্রণালয়।কিন্তু আমাদের মহামান্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদে গলা উচু করে বলছিল শুরুর দিকে ডাক্তার নার্সরা সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার বিধি জানত না বলে আক্রান্ত সংখ্যা বেশি ছিল।কতটা হাস্যকর কথাগুলো।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কি ঘটতাছে আল্লাহ মালুম।

এরপর একে একে বের হয়ে আসছিল রিজেন্ট হাসপাতাল এবং জেকেজির প্রতারণা।রিজেন্ট হাসপাতাল খালি করোনার নমুনা পরীক্ষা না করে প্রতিবেদন দিত তা–ই নয়, সেটি একটি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানও বটে। প্রতারণা কত প্রকার ও কী কী, সবই দেখিয়ে দিয়েছেন সাহেদ নামের লোকটি এবং জেকজির আরিফ-সাবরিনা।

আমরা জাতিগতভাবে কত রক্ষণশীল এবং দায়িত্ববান তা পূর্বের যেকোন দাবি দেওয়ায় ফুটে উঠছিল। ধরুন মুক্তিযুদ্ধের মুক্তিকামী জাতিসত্বার কথা।আর বর্তমানে আমরা বিচ্ছিন্ন জাতিসত্তাতে পরিণত হয়ে পড়েছি।
এ অবস্থা কেন হলো? বাংলাদেশের মানুষ আমরা এত দুর্নীতিগ্রস্ত এবং প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছি কেন? আমাদের সিস্টেম খারাপ বলে আমরা খারাপ, নাকি আমরা খারাপ বলে সিস্টেম খারাপ!

টিকা আবিষ্কারে একদিন করোনা নামক মহামারীর অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটবে। কিন্তু সাহেদ সাবরিনাদের মতো প্রতারক ভাইরাসের টিকা আমরা কবে পাবো?আজকাল শরীরে অসুখ বাঁধলে হাসপাতাল যেতে এবং ঔষধ গিলতে ভয় হয়।কারণ দামি ঔষধ নামক দেশের উর্বর মাটি পেটে যাচ্ছে না তো!

Logo-orginal