, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২০

Avatar admin

সাদ্দাম বাহিনী’র কুয়েত দখল” আজ ভয়াল ২ আগস্ট

প্রকাশ: ২০২০-০৮-০২ ১১:৩৯:৩০ || আপডেট: ২০২০-০৮-০২ ১১:৩৯:৩৩

Spread the love

আবুল কাশেমঃ ১৯৯০ সালের ২ আগস্ট ইরাক তার প্রতিবেশী দেশ কুয়েতের ওপর দুইদিনব্যাপী “কুয়েত আক্রমণ” অপারেশন পরিচালনা করে।

সেদিন রাতে পুরো কুয়েত দখল করে নেয় ইরাকী বাহিনী ।

ইতিহাসের পাতায় ইরাকী প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম কতৃক কুয়েত দখল ছিল বর্বর ঘৃণিত এক মহাযজ্ঞ, জাতিসংঘ ও বিশ্ব নেতাদের অনুরোধ উপেক্ষা করে কুয়েতে পুতুল সরকার প্রতিষ্ঠা করে সাদ্দাম ।

এর ফলে দীর্ঘ সাত মাসব্যাপী দেশটি ইরাকের অধীনে ছিল। এছাড়া ইরাকের জাতিসংঘের বেঁধে দেয়া সময়সীমার মধ্যে কুয়েত থেকে তাদের সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

১৯৯০ সালে কুয়েত দখল করে ব্যাপক লুট চালায় ইরাকি বাহিনী । কুয়েতের রাজকীয় পরিবারে বিভিন্ন সদস্যের ঘরে হামলা করে ইরাকি সেনারা ।

সেদিন তাদের হামলায় শহীদ হন মরহুম আমীর শেখ জাবেরের ভাই তৎকালীন কুয়েত ক্রীড়া বোর্ডের প্রধান ও অলিম্পিক কমিটির চেয়ারম্যান শেখ ফাহাদ আল আহমদ আল জাবের আল সাবাহ ।

ইরাকি আগ্রাসনের ফলে কুয়েত থেকে দলে দলে পালাতে থাকে নাগরিক ও প্রবাসীরা, কুয়েতিরা আরব দেশসমুহে আশ্রয় নেয়, তবে অধিকাংশ কুয়েতি আশ্রয় নেয়া পার্শবর্তী দেশ সৌদিআরবে ।

বিদেশী নাগরিকরা ইরাক হয়ে জর্দান ও তুরস্কে আশ্রয় গ্রহণ করে এবং নিজ দেশের সরকার তাদের উদ্ধার করে দেশে নিয়ে যায় ।

ঐ সময় কুয়েতে প্রায় ৯০ হাজার বাংলাদেশীদের মধ্যে ৭০ হাজার বাংলাদেশী বিভিন্ন দেশ হয়ে কুয়েত ত্যাগ করে ।
কুয়েতের সাবেক আমির মরহুম শেখ জাবের, সাবেক আমীর মরহুম সাদ আব্দুল্লাহ ও তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রী বর্তমান আমীর শেখ সাবাহ আল আহমদের দক্ষ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে জাতিসংঘের সম্মিলিত সামরিক জোট সামরিক হস্তক্ষেপ করে।

এর ফলশ্রুতিতে প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং ফলাফলস্বরূপ ইরাকি বাহিনী কুয়েত থেকে বিতাড়িত হয়।

পিছু হটার সময় ইরাকিরা কুয়েতের ৬০০ টি তেলকুপে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ব্যাপক ধ্বংস লীলা চালায় ।

রাষ্ট্র বিজ্ঞানীদের অভিমত, কুয়েত দখল ছিল সাদ্দামের চরম ভুল সিদ্ধান্ত, যার ফলে তাকে চরম মুল্য দিতে হয়েছে ।

ইরাক বিরোধী উপসাগরীয় যুদ্ধে অংশগ্রহণ ছিল তৎকালীন বাংলাদেশী প্রেসিডেন্ট এরশাদের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত, যুদ্ধ পরবর্তী কুয়েত পুনঃঘটনে ব্যাপক ভুমিকা রাখে বাংলাদেশী আর্মিরা ।

ভাল থাকুক প্রিয় কুয়েত, সুস্থ হয়ে উঠুক করোনা মহামারী থেকে, ফিরে পাক স্বাভাবিক জীবন , আমিন ।

লেখকঃ কুয়েত প্রবাসী ।

Leave a Reply

Logo-orginal