, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

Avatar admin

সিগারেট খাওয়ায় আটক,ক্রস ফায়ারের হুমকি দিয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা আদায় করল পুলিশ

প্রকাশ: ২০২০-০৮-১২ ১৬:৫৩:৫৭ || আপডেট: ২০২০-০৮-১২ ১৬:৫৩:৫৯

Spread the love

রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা সোহেল মীর (৫৫)। কেরানীগঞ্জে কাপড়ের ব্যবসা করেন তিনি। তার মেয়ে থাকনে বসুন্ধরা এলাকায়। গেল ২ আগস্ট বিকেলে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন মেয়ের কাছে যাবেন। কিন্তু যেতে হয় কারাগারে।

অভিযোগ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ভিতরে তিনি সিগারেট খেয়েছেন। এজন্য তাকে গ্রেফতার করে থানায় নেয়া হয়। এর পর পরিবারকে ডেকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে নেয়া হয় সাড়ে তিন লাখ টাকা।

এমন অভিযোগে রাজধানীর কোতোয়ালি থানার ওসি মিজানুর রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে মামলা হয়েছে। মামলাটি করেছেন ভুক্তভোগী সোহেল মীর।

সোমবার (১০ আগস্ট) করা মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। আদালতের নির্দেশের কপি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) বিপ্লব বিজয় তালুকদার।

মামলায় অন্য আসামিরা হলেন-কোতোয়ালি থানার এসআই পবিত্র সরকার, এসআই খালিদ শেখ, এএসআই শাহিনুর রহমান, কনস্টেবল মিজান ও পুলিশের সোর্স মোতালেব।

এদিকে সোহেল মীরকে গ্রেফতারের বিষয়ে কিছুই জানেন না মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী মো. রশিদ–উন নবী। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ঈদের পরদিন (২ আগস্ট) হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ছাড়া সবকিছু বন্ধ ছিল। আর মেডিকেল কলেজ তো আগে থেকেই বন্ধ। তার হাসপাতাল থেকে সেদিন কাউকে গ্রেফতার করার কথা তিনি জানেন না। কোতোয়ালি থানা পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে কিছুই জানানো হয়নি।

সোহেল মীর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিন মেয়ের বাসায় যাওয়ার জন্য বিকেলে বাসা থেকে বরে হন। নৌকায় করে কালীগঞ্জ থেকে সদরঘাটে নামেন। সেখানে আম্বিয়া টাওয়ারের নিচে আসলে তাকে ঘিরে ধরে কোতোয়ালি থানার এসআই পবিত্র সরকার, এসআই খালিদ শেখ, এএসআই শাহিনুর রহমান, কনস্টেবল মিজান ও পুলিশের সোর্স মোতালেব সোহেল।

সোহেলের দাবি, তার কাছে থাকা নগদ ২ হাজার ৯০০ টাকা নিয়ে নেয় এসআই খালিদ। পরে তাকে থানায় নিয়ে আটকে রাখা হয়। রাতে তার মোবাইল থেকে স্ত্রী সাবিনা খাতুনকে ফোন করে থানায় আসতে বলেন এসআই খালিদ। তিনি থানায় গেলে বলা হয়, স্বামীকে ছাড়িয়ে নিতে হলে তিন লাখ টাকা নিয়ে আসতে হবে। না হলে ক্রসফায়ারে দেব। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাবিনা ২ লাখ টাকা দেন। ২ লাখ টাকা নেন এসআই পবিত্র সরকার ও এসআই খালিদ। উপস্থিত ছিলেন এসআই শাহীন।

পরে খালিদ বলেন, আরও দেড় লাখ টাকা সকালের মধ্যে দিতে হবে। তাহলে সোহেলকে পাঁচআনি (ডিএমপি অ্যাক্ট) মামলা দিয়ে কোর্টে পাঠানো হবে। পুলিশই উকিল দিয়ে ছাড়য়ে আনবে। পরে সকালে দেড় লাখ টাকা দিলে কথা মত কাজ করেন খালিদ। কোর্টে দিয়ে নিজের দেয়া উকিলে ছাড়িয়ে আনেন সোহেলকে।

এ বিষয়ে সাবিনা বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। আদালত তদন্ত করার জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি। আমরা নিরাপত্তা চাই। আমরা সুবিচার চাই।

ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) বিপ্লব বিজয় তালুকদার গণমাধ্যমেক বলেন,‌ এ রকম একটি মামলা হয়েছে জেনেছি। তবে আমরা এখনো অফিশিয়ালি কাগজটা হাতে পাইনি। অফিশিয়ালি কাগজটা হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সুত্রঃ সময় নিউজ।

Logo-orginal