বিতর্কিত লাল কার্ড ও আপিলের সীমাবদ্ধতা
ফোলারিন বালোগুনকে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে দেখানো লাল কার্ড নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে, বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী এর বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো সুযোগ নেই। ম্যাচ চলাকালীন রেফারির নেওয়া সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা যায় না, যা বিশ্বকাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম। এই নিয়মের কারণে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ফরোয়ার্ডের লাল কার্ডের বিরুদ্ধে কোনো আপিল করতে পারবে না।
বৃহস্পতিবার ভোরে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্র শেষ ষোলোতে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করে। এই ম্যাচে বালোগুন প্রথমে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এবং পরে মালিক টিলম্যান আরেকটি গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। তবে ম্যাচের ৬৪তম মিনিটে একটি ঘটনা ঘটে, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বলের দখল নিতে গিয়ে বালোগুন বসনিয়ার ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের গোড়ালিতে বুটের স্টাড লাগিয়ে ফেলেন। প্রাথমিকভাবে রেফারি শুধু ফাউলের বাঁশি বাজালেও, ভিডিও সহকারী রেফারির পরামর্শে ঘটনাটি পুনরায় পর্যবেক্ষণ করে সরাসরি লাল কার্ড দেখান বালোগুনকে।
এই লাল কার্ডের ফলে বালোগুন শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে পারবেন না। অনেক সমর্থক ভেবেছিলেন যে, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আপিল করতে পারবে, কারণ এর আগে আর্জেন্টিনার উদ্বোধনী ম্যাচে একই ধরনের একটি চ্যালেঞ্জের জন্য লিওনেল মেসি শাস্তি পাননি। তবে বিশ্বকাপের নিয়মে স্পষ্ট বলা আছে যে, কোনো ফুটবলার সরাসরি লাল কার্ড বা দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে মাঠ থেকে বহিষ্কৃত হলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকবেন। শৃঙ্খলা কমিটি প্রয়োজনে অতিরিক্ত শাস্তিও দিতে পারে, তবে বালোগুনের ক্ষেত্রে এক ম্যাচের স্বাভাবিক নিষেধাজ্ঞাই দেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত কোনো শাস্তি যোগ করা হয়নি।
কোচের প্রতিক্রিয়া ও ম্যাচের প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মৌরিসিও পচেত্তিনো রেফারির এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার মতে, বালোগুনের লাল কার্ড প্রাপ্য ছিল না, কারণ এটি ছিল একটি ‘অনিচ্ছাকৃত’ ফাউল। পচেত্তিনো বলেছেন, “এটা কখনও লাল কার্ড ছিল না। টিভিতে দেখে যা মনে হয়েছে, প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের পা মাড়ানোর কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না।” তিনি আরও যোগ করেন, “ওটা ছিল ফুটবল খেলার একটি সাধারণ ঘটনা। দুর্ভাগ্যবশত এটা ঘটেছে, ইচ্ছাকৃত ছিল না কখনও। তার আমার কাছে, এটা কোনোভাবেই লাল কার্ড না।”
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়লাভ করে যুক্তরাষ্ট্র ২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচ জিততে সক্ষম হয়। এই জয়ের ফলে তারা শেষ ষোলোতে উঠেছে, যা পচেত্তিনোর জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। তবে বালোগুনের লাল কার্ড নিয়ে তার ক্ষোভ ছিল স্পষ্ট। তিনি দলের দৃঢ়তায় মুগ্ধ হয়েছেন, কারণ দ্বিতীয়ার্ধের বেশিরভাগ সময় একজন কম খেলোয়াড় নিয়ে খেলতে হয়েছিল। পচেত্তিনো দলের পরিপক্বতার প্রশংসা করে বলেছেন, “গত পাঁচ-ছয় সপ্তাহ আমরা যেভাবে উন্নতি করেছি, আমার মনে হয় দলের পরিপক্বতা অসাধারণ।”
লাল কার্ড পাওয়ার পর বালোগুন জার্সিতে মুখ ঢেকে ১৫-২০ সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থেকে ধীরে ধীরে মাঠ ছাড়েন। তার সতীর্থরা তাকে সান্ত্বনা দেন। পচেত্তিনো জানিয়েছেন, ড্রেসিংরুমেও বালোগুনকে বিষণ্ণ দেখা গেছে। তবে কোচ তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, ফুটবলে এমন ঘটনা ঘটতেই পারে এবং দল পরের ধাপে উঠতে পেরেছে বলে সে খুশি। পচেত্তিনো আশা প্রকাশ করেছেন যে, বালোগুন ভবিষ্যতে আবারও দলকে সাহায্য করতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতামত ও নিয়মের ব্যাখ্যা
সাবেক প্রিমিয়ার লিগ রেফারি মার্ক ক্ল্যাটেনবার্গ এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তার মতে, ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ দুর্ঘটনাবশত এবং ভিডিও সহকারী রেফারির হস্তক্ষেপে লাল কার্ড দেখানো ঠিক হয়নি। ক্ল্যাটেনবার্গ বিশ্বাস করেন যে, এই সিদ্ধান্ত ম্যাচের গতিপথও বদলে দিয়েছে। অন্যদিকে, বসনিয়া কোচ সের্গেই বার্বারেস বালোগুনের লাল কার্ডকে ন্যায্য বলে মনে করেছেন।
বিশ্বকাপের নিয়মে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, খেলার সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনায় রেফারির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো আপিল গ্রহণ করা হয় না। যেহেতু বালোগুনের ক্ষেত্রে এক ম্যাচের স্বাভাবিক নিষেধাজ্ঞাই দেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত কোনো শাস্তি যোগ করা হয়নি, তাই যুক্তরাষ্ট্রের আপিল করার কোনো সুযোগ নেই। আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকালে কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র।
Read Also
Source: bd-pratidin.com