রোনালদোর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের ইঙ্গিত দিল পরিবার

রোনালদোর অবসরের সময় জানাল তার পরিবার

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়

পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে খুব শিগগিরই বিদায় নিতে পারেন। তার বোন কাতিয়া আভেইরো এই ইঙ্গিত দিয়েছেন। পর্তুগাল দলের নকআউট পর্বে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারানোর পর এই খবর সামনে আসে। এই জয় পর্তুগালকে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নিশ্চিত করেছে।

কাতিয়া আভেইরো পর্তুগিজ গণমাধ্যম স্পোর্ত টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, এই মুহূর্তগুলো উপভোগ করা উচিত, কারণ ক্রোয়েশিয়াপর্তুগাল উভয় দলের দুই কিংবদন্তি ফুটবলারের জন্য এটি শেষ নৃত্য হতে পারে। তিনি আরও বলেন, গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যা দেখা হয়েছে, জেতা হয়েছে এবং যে পথ পাড়ি দেওয়া হয়েছে, এখন সেটি উপভোগ করার সময়।

ইউরো ২০২৮-এ রোনালদোকে অধিনায়ক হিসেবে দেখা যেতে পারে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে আভেইরো বলেন, তার কাছে যে তথ্য আছে, তাতে তারা বিদায় জানাবে। তিনি ফুটবলপ্রেমীদের যতদিন সম্ভব খেলা উপভোগ করার আহ্বান জানান। আভেইরো বিশ্বাস করেন, এটিই তাদের বিদায়ের আসর, যদিও তারা আজই বিদায় বলছেন না, তবে খুব শিগগিরই জাতীয় দলকে বিদায় জানাবেন।

ক্রীড়া সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো, রোনালদোর বোন কাতিয়ার বরাত দিয়ে জানিয়েছেন যে, বিশ্বকাপের পর রোনালদো আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চিরতরে বিদায় জানাবেন। এই ঘোষণা রোনালদোর ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, কারণ অনেকেই তাকে আরও কিছুদিন আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেখতে চেয়েছিলেন।

বিশ্বকাপে রোনালদোর কীর্তি ও ভবিষ্যৎ

চলতি বিশ্বকাপে রোনালদো তার শেষ বিশ্বকাপ উপভোগ করছেন বলে জানা গেছে। তিনি প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা ৬টি বিশ্বকাপে গোল করার নজির গড়েছেন। নকআউট পর্বে গোল না পাওয়ার হতাশা ছিল তার, তবে ৬৮তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে পাওয়া গোলে সেই অতৃপ্তি ঘুচিয়েছেন এবং ম্যাচসেরার পুরস্কারও পেয়েছেন।

কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে মাঠে নেমে পর্তুগিজ সুপারস্টার নতুন এক ইতিহাস গড়েছেন। ৪১ বছর ৪ মাস ২৭ দিন বয়সে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে শুরুর একাদশে খেলা সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড খেলোয়াড় এখন তিনি। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার এদিন জেকোর দখলে। চলতি বিশ্বকাপে জেকোকে টপকে রোনালদো এই নতুন কীর্তি নিজের করে নিয়েছেন। এই তালিকায় তার ঠিক পরেই আছেন ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদ্রিচ, যার বর্তমান বয়স ৪০ বছর ২৯৬ দিন। তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা জেকোর বয়স ছিল ৪০ বছর ১০৬ দিন

পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ শেষ ৩২-এর ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে একটি বড় সিদ্ধান্ত নেন। ৭৯তম মিনিটে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। বদলি হওয়ার সিদ্ধান্তে পর্তুগিজ অধিনায়ক স্পষ্টতই অসন্তুষ্ট ছিলেন এবং মাঠ ছাড়ার সময় তার মুখে হতাশার ছাপ ফুটে ওঠে। মার্তিনেজ রোনালদোর পরিবর্তে নতুন খেলোয়াড় নামিয়ে আক্রমণে গতি আনার চেষ্টা করেন। এই বদল ফুটবলপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন তুলেছে যে, এটাই কি বিশ্বকাপের মঞ্চে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শেষ ম্যাচ?

রোনালদো বর্তমানে পর্তুগাল দলের অধিনায়ক। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য শিরোপা জিতলেও বিশ্বকাপ ট্রফি এখনও তার অধরা। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য নিয়েই তিনি এবার মাঠে নেমেছেন। বয়সের কারণে অনেকেরই ধারণা ছিল, এটিই হবে রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ। যদিও কেউ কেউ মনে করেছিলেন, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ পর্তুগালের সহ-আয়োজক হওয়ায় তিনি হয়তো আন্তর্জাতিক ফুটবলে আরও কিছুদিন খেলতে পারেন।

ক্লাব ফুটবলে মনোযোগ এবং মাইলফলকের লক্ষ্য

যদি রোনালদো আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন, তাহলে তার পুরো মনোযোগ থাকবে ক্লাব ফুটবলে। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরের হয়ে খেলছেন। ২০২৫ সালের জুনে ক্লাবটির সঙ্গে তিনি রেকর্ড অঙ্কের নতুন দুই বছরের চুক্তি করেন।

এর আগে রোনালদো ঘোষণা দিয়েছিলেন, ক্যারিয়ারে এক হাজার গোল পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি খেলে যেতে চান। গত জুনে তিনি বলেছিলেন, খেলে যাওয়া কঠিন, কিন্তু তিনি অনুপ্রাণিত। তার আবেগ এখনও আগের মতোই আছে এবং তিনি খেলতে চান। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে খেলেন কিংবা ইউরোপে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয় বলেও উল্লেখ করেন।

বর্তমানে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে রোনালদোর গোলসংখ্যা ৯৬৯। ফলে ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে তিনি এক হাজার গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শের লক্ষ্যেই এগিয়ে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি পাঁচটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। পাশাপাশি ব্যালন ডি’অর এবং এল ক্লাসিকোর মঞ্চে লিওনেল মেসির সঙ্গে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হয়েছেন তিনি। রোনালদো পর্তুগালের হয়ে ২৩১ ম্যাচে ১৪৫ গোল করেছেন এবং ২০১৬ সালে পর্তুগালকে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতানোর মাধ্যমে জাতীয় দলের হয়ে নিজের প্রথম বড় ট্রফি জেতেন। ২০২২ সালে লিওনেল মেসিকে বিশ্বকাপ জিততে দেখেছেন রোনালদো, আর নিজে সবচেয়ে কাছাকাছি গিয়েছিলেন ২০০৬ সালে, যখন পর্তুগাল সেমিফাইনালে উঠেছিল।

পর্তুগাল দলের নকআউট পর্বে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারানোর পর রোনালদোর বোন কাতিয়া আভেইরোর মন্তব্য আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে তার বিদায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Read Also

Source: ntvbd.com