রিজিয়া বেগমের দীর্ঘ ১৩ দিনের অপেক্ষা
বাংলাদেশের রিজিয়া বেগম, যিনি ২০১৯ সালে সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে গিয়েছিলেন, সম্প্রতি ১৩ দিন পর তার পরিবারের কাছে ফিরে এসেছেন। তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে তার জীবনের জন্য উদ্বিগ্ন ছিল, কারণ তারা বিশ্বাস করতে পারছিল না যে তিনি জীবিত আছেন।
শ্রমিকদের দুর্দশা
প্রতিবছর হাজার হাজার বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মী হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে কাজের জন্য যান। রিজিয়া বেগমও তেমনই একজন। কিন্তু সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর থেকে তিনি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। তার মেয়ে লিজা আকতার জানান, “শুরু থেকেই তিনি নিয়োগকর্তার শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। আমরা দালাল এবং নিয়োগকারী সংস্থাকে অনেকবার জানিয়েছি, কিন্তু কিছুই পরিবর্তন হয়নি।”
যোগাযোগের অভাব
২০২১ সালের পর থেকে রিজিয়ার সাথে পরিবারের যোগাযোগ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। দুই বছর পর, তার পরিবার কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে, কিন্তু তাতেও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
আশা হারিয়ে ফেলা
রিজিয়ার পরিবার ধীরে ধীরে সবচেয়ে খারাপের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। লিজা বলেন, “আমরা ভাবতে শুরু করেছিলাম যে তিনি আর নেই। আমরা মেনে নিয়েছিলাম যে তিনি হয়তো মারা গেছেন।”
ফিরে আসার মুহূর্ত
গত ১২ ফেব্রুয়ারি, সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে রিজিয়া শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। তার ফিরে আসার খবরটি সবার জন্য একটি আশার আলো।
উপসংহার
রিজিয়া বেগমের এই কাহিনী একটি বড় প্রশ্নের জন্ম দেয়, যা হলো বিদেশে কাজ করা শ্রমিকদের নিরাপত্তা। এই ধরনের ঘটনা আমাদের সমাজে শ্রমিকদের অধিকার এবং সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করবে।



