ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা এবং ইংল্যান্ড মুখোমুখি হওয়ার কারণে রেফারি নিয়োগের বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে। এই দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক বিরোধের কারণে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কোনো ম্যাচে ইংল্যান্ডের রেফারিরা দায়িত্ব পান না। একইভাবে, আর্জেন্টিনার কোনো রেফারিও ইংল্যান্ডের ম্যাচ পরিচালনা করেন না।
এই নীতি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ থেকে শুরু করে নকআউট পর্যায় পর্যন্ত প্রযোজ্য। এমনকি যদি আর্জেন্টিনা ফাইনালে পৌঁছায়, তাহলেও কোনো ব্রিটিশ রেফারি সেই ম্যাচ পরিচালনা করতে পারবেন না। একই নিয়ম আর্জেন্টিনার রেফারিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যদি ইংল্যান্ড ফাইনালে ওঠে।
ঐতিহাসিক বিরোধের প্রেক্ষাপট
এই নিষেধাজ্ঞার মূলে রয়েছে ৪৪ বছর আগের একটি রাজনৈতিক বিরোধ, যা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (আর্জেন্টিনায় Islas Malvinas নামে পরিচিত) নিয়ে। ১৮৩৩ সাল থেকে এই দ্বীপপুঞ্জ ইংল্যান্ডের দখলে থাকলেও, আর্জেন্টিনা বরাবরই এটিকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে। ১৯৮২ সালের ২ এপ্রিল আর্জেন্টিনা সরকার দ্বীপটি দখল করে নেয়, যার ফলে ৭৪ দিনের একটি যুদ্ধ শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশরা দ্বীপগুলির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়।
এই সংবেদনশীল বিষয়টি এখনও বিদ্যমান, এবং এর জের ধরেই ফিফা বিশ্বকাপে রেফারি নিয়োগের ক্ষেত্রে এই বিশেষ নীতি অনুসরণ করে। সম্ভাব্য পক্ষপাতিত্ব এড়ানোর জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

রেফারি নিয়োগের নিয়ম
ফিফার রেফারিং বিভাগ বিশ্বকাপের ম্যাচগুলির জন্য রেফারি নিয়োগের দায়িত্বে থাকে, যার প্রধান হলেন পিয়েরলুইগি কলিনা। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো রেফারি নিজের দেশের বা নিজের অঞ্চলের কোনো ক্লাবের ম্যাচ পরিচালনা করতে পারেন না, যাতে পক্ষপাতিত্বের সম্ভাবনা এড়ানো যায়।
এই নিয়মের কারণে, মাইকেল অলিভার এবং অ্যান্থনি টেলর-এর মতো ইংল্যান্ডের রেফারিরা আর্জেন্টিনার কোনো ম্যাচ পরিচালনা করতে পারেননি। উদাহরণস্বরূপ, আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড ম্যাচে তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। একইভাবে, আর্জেন্টিনার রেফারি ফাকুন্দো তেলোকে ইংল্যান্ডের কোনো ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
ইএসপিএন-এর সূত্র অনুযায়ী, রেফারি নিয়োগ এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার বিষয়গুলি প্রতিটি ম্যাচ ধরে ধরে বিবেচনা করা হয়। ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বৈরী সম্পর্ক এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

২০২২ সালের বিশ্বকাপের উদাহরণ
এই নীতি ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও কার্যকর ছিল। সেই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্সের মধ্যকার ফাইনালে অ্যান্টনি টেলর রেফারি হওয়ার দৌড় থেকে বাদ পড়েছিলেন। যদি ফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি ক্রোয়েশিয়া হতো, তাহলে টেলরের সেই মর্যাদাপূর্ণ ম্যাচের দায়িত্ব পাওয়ার জোরাল সম্ভাবনা ছিল।
এবার বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে ওঠায়, আর্জেন্টিনার রেফারি ফাকুন্দো তেলোর জন্যও ফাইনালের দুয়ার বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও টেলর, অলিভার কিংবা তেলোর কেউই বাঁশি বাজানোর সুযোগ পাবেন না। এল সালভাদরের ইভান বার্টনকে স্পেন ও ফ্রান্সের মধ্যে সেমিফাইনাল ম্যাচের রেফারি হিসেবে ফিফা চূড়ান্ত করেছে।
Read Also
Source: eisamay.com