লস অ্যাঞ্জেলেসে বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিফাইনালে স্পেন, প্রতিপক্ষ ফ্রান্স

দর্শকে ঠাসা গ্যালারিতে বসে দুরন্ত স্পেনের জয় দেখলাম, জয়টা তাদেরই প্রাপ্য

স্পেনের জয় ও ইয়ামালের প্রভাব

লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে প্রায় ৭০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে স্পেন বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে। এই জয়টি স্পেনের জন্য প্রাপ্য ছিল বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ তারা পুরো ম্যাচে আধিপত্য বজায় রেখেছিল। যদিও জয়সূচক গোলটি খেলার শেষ মুহূর্তে এসেছে, স্পেন তাদের শক্তিশালী মাঝমাঠের মাধ্যমে একের পর এক আক্রমণ তৈরি করে।

বিশেষ করে স্পেনের তরুণ খেলোয়াড় লামিনে ইয়ামাল মাঠে নজর কেড়েছেন। তার সতীর্থরা বারবার তাকে বল বাড়িয়ে দিচ্ছিল, যা ইঙ্গিত করে যে তিনি দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন। স্পেনের মাঝমাঠের শক্তিশালী পারফরম্যান্স এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

মেরিনোর ‘সুপার সাব’ ভূমিকা

মিকেল মেরিনো স্পেনের জয়ে আরেকটি বড় ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে গোল করেছেন, যা তাকে ‘সুপার সাব’ হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে। পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচেও তিনি বদলি নেমে গোল করে দলকে জিতিয়েছিলেন। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে মাঠে নেমে দুই মিনিটের মধ্যে তিনি গোল করে স্পেনকে সেমিফাইনালের টিকিট এনে দেন।

আর্সেনালের এই মিডফিল্ডার তার অন্তিম সময়ের গোলে বেলজিয়ামকে বিদায় করেন। লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ১৬ বছর পর সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। এই জয় তাদের ২০১৪ সালের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় এবং গত দুটি আসরে শেষ ষোলোতে থেমে যাওয়ার ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে দিয়েছে।

ম্যাচের বিবরণ ও বেলজিয়ামের সমস্যা

ম্যাচের ৩০তম মিনিটে ফাবিয়ান রুইজ স্পেনকে এগিয়ে দেন। তবে ৪১তম মিনিটে চার্লস ডি কেটেলারে গোল করে বেলজিয়ামকে সমতায় ফেরান। স্পেন ৬৮ শতাংশ সময় বল পায়ে রেখেছিল এবং গোলমুখে ১৭টি শট নিয়ে আটটি লক্ষ্যে রাখে। অন্যদিকে, বেলজিয়াম গোলপোস্টে পাঁচটি শট নিয়ে দুটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়।

বেলজিয়াম ম্যাচের আগেই বড় ধাক্কা খায় যখন অধিনায়ক ইউরি টিলেমানস ওয়ার্মআপের সময় হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েন। এছাড়া, আমাদু ওনানা না থাকায় স্পেনের বল দখলে পটু খেলার বিপক্ষে তাদের প্রায় দ্বিতীয় সারির মিডফিল্ড নিয়ে নামতে হয়। ৭১তম মিনিটে বেলজিয়ামের গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া উরুতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে সেনে লামেন্সকে তার জায়গায় নামানো হয়। লামেন্সের জন্য এটি ছিল বিশ্বকাপে তার প্রথম ম্যাচ, যা শেষ পর্যন্ত দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায় কারণ তিনি মেরিনোর গোলটি ঠেকাতে পারেননি।

আগামী সেমিফাইনাল

এই টুর্নামেন্টে স্পেন তাদের ষষ্ঠ ম্যাচে এসে প্রথম গোল হজম করেছে। এর আগে কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করার পর থেকে তারা আর পেছনে ফিরে তাকায়নি। সেমিফাইনালে স্পেনকে শক্তিশালী ফ্রান্সের মুখোমুখি হতে হবে। ফ্রান্স যেভাবে খেলছে, তাতে কিলিয়ান এমবাপ্পেদের দল কিছুটা এগিয়ে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী মঙ্গলবার রাতে ডালাসে এই হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।

Read Also

Source: prothomalo.com