ফ্রান্স ও নরওয়ের মধ্যকার বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘আই’ এর চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণী ম্যাচে উসমান দেম্বেলে একটি দ্রুততম হ্যাটট্রিক করে গত ৭২ বছরের রেকর্ড ভেঙেছেন। বোস্টনে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে দেম্বেলে মাত্র ৩২ মিনিটের মধ্যে নরওয়ের জালে তিনবার বল জড়ান। এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ম্যাচের শুরু থেকে দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিক।
দেম্বেলের এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের আগে বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে ১৯ ম্যাচে তার কোনো গোল ছিল না। ইরাক ম্যাচের মাধ্যমে তিনি তার গোল খরা কাটান। নরওয়ের বিপক্ষে তার প্রথম গোলটি আসে ৭ মিনিটে, কিলিয়ান এমবাপ্পের পাস থেকে। ১৩ মিনিট পর তিনি দ্বিতীয় গোল করেন এবং ৩২ মিনিটের মধ্যে তার হ্যাটট্রিক পূর্ণ হয়।
দেম্বেলে ও এমবাপ্পের গোল্ডেন বুট প্রতিযোগিতা
দেম্বেলের এই হ্যাটট্রিক তাকে বিশ্বকাপে ৪ গোল নিয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পের সমান গোল্ডেন বুটের দৌড়ে নিয়ে এসেছে। তারা দুজনেই বর্তমানে লিওনেল মেসির চেয়ে এক গোল পিছিয়ে আছেন। ফ্রান্সের কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি দেম্বেলের এই পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে বলেছেন, ‘গ্রেট খেলোয়াড়েরা মুহূর্তের অপেক্ষায় থাকেন না, তাঁরা মুহূর্ত তৈরি করেন।’
দেম্বেলের প্রথম গোলটি ছিল বক্সের ভেতরে বাঁ পায়ে স্ট্রাইকারদের ট্রেডমার্ক গোল। দ্বিতীয় গোলটি ছিল উইঙ্গারসুলভ, বাঁ প্রান্ত দিয়ে কাট-ইন করে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া বাঁকানো শটে। ৩২ মিনিটের তৃতীয় গোলটিও বাঁ পায়ে, এবার বক্সের ভেতরে ডিফেন্ডারদের একটু নাচিয়ে।
দেম্বেলের এই হ্যাটট্রিকটি ১৯৯৪ সালের পর বিশ্বকাপে ম্যাচের প্রথমার্ধে করা প্রথম হ্যাটট্রিক। ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ২৪ মিনিটে হ্যাটট্রিক করেছিলেন অস্ট্রিয়ার ইয়েরিখ প্রুবস্ট, যা এখনো বিশ্বকাপে ম্যাচের শুরু থেকে দ্রুততম হ্যাটট্রিকের রেকর্ড হিসেবে টিকে আছে।
নরওয়ের কৌশলগত পরিবর্তন
ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচে নরওয়ে তাদের দলের সবচেয়ে বড় তারকা আর্লিং হালান্ড এবং অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডকে শুরুর একাদশে রাখেনি। নরওয়ের কোচিং স্টাফ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নকআউট পর্বের আগে মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিতে, কারণ তারা ইতিমধ্যেই ৩২ দলের রাউন্ড নিশ্চিত করেছে। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম নরওয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠেছে।
হালান্ড সেনেগালকে হারানোর পর বলেছিলেন যে নকআউটে ওঠাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবেও উল্লেখ করেছিলেন। হালান্ড শুরুর একাদশে না থাকলেও স্কোয়াডে ছিলেন এবং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্বিতীয়ার্ধে তাকে মাঠে নামানো হতে পারে।
ফ্রান্স শিবিরেও পরিবর্তন ছিল; প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম ব্যক্তিগত কারণে দলের সঙ্গে ছিলেন না। তার অনুপস্থিতিতে সহকারী কোচ গি স্তেফাঁ দলের দায়িত্ব পালন করেন। দেম্বেলের এই হ্যাটট্রিক তাকে বিশ্বকাপে ব্যালন ডি’অর জয়ী চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব এনে দিয়েছে। ১৯৬৬ সালে ইউসেবিও, ১৯৮২ সালে রুমেনিগে এবং ২০১৮ সালে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর এবার দেম্বেলে এই কীর্তি গড়লেন।
দেম্বেলের এই পারফরম্যান্স এমবাপ্পেকে সবচেয়ে বেশি খুশি করেছে, যিনি দেম্বেলেকে দুইবার কোলে তুলে নিয়েছিলেন।

দেম্বেলের গতি, ড্রিবলিং এবং উভয় পায়ে খেলার ক্ষমতা তাকে নরওয়ের রক্ষণভাগে একটি ‘মাস্টারপিস’ তৈরি করতে সাহায্য করেছে। অঁরির মতে, দেম্বেলের এই বহুমুখী প্রতিভা তাকে এমবাপ্পের চেয়েও ধারালো করে তুলেছে, যা তাকে রক্ষণ জাল কাটতে এবং গোল করতে সক্ষম করে।
এই হ্যাটট্রিকের ৩২ বছর পূর্তি হবে ওলেগ সালেঙ্কোর ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে ক্যামেরুন ও রাশিয়ার ম্যাচে ৫ গোল করার কীর্তির।
Read Also
Source: prothomalo.com