আটলান্টায় ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা

ইংল্যান্ডকে কাঁদিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল জয়

আর্জেন্টিনা আটলান্টায় ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে পরাজিত করে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা এই জয়ের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার সুযোগ পেল। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে স্পেন

ম্যাচের প্রথমার্ধে ফুটবল খেলার চেয়ে ফাউল বেশি দেখা গেছে। বিরতির পর তিনটি গোলই হয়। ইংল্যান্ড ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায়, যা মর্গান রজার্সের ক্রস থেকে আসে। এরপর আর্জেন্টিনা ৮৫ মিনিট থেকে পরবর্তী আট মিনিটের মধ্যে দুটি গোল করে ম্যাচে ফেরে।

৮৫ মিনিটে লিওনেল মেসির পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক শটে গোল করে এনজো ফার্নান্দেজ আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান। যোগ করা সময়ে (৯০+২) মেসির ক্রস থেকে হেডে গোল করেন বদলি খেলোয়াড় লাওতারো মার্তিনেজ, যা আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করে।

আরও এক সেমিফাইনাল, আবারও আলো কেড়ে নিলেন মেসি
আরও এক সেমিফাইনাল, আবারও আলো কেড়ে নিলেন মেসি Credit: jugantor.com

মেসির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটি ছিল মেসির প্রথম ম্যাচ। তিনি নিজে গোল না পেলেও আর্জেন্টিনার দুটি গোলের উৎস তৈরি করেন এবং ডান উইং ধরে বেশ কিছু আক্রমণ করেন। এই ম্যাচে মেসি নয়টি সফল ড্রিবল সম্পন্ন করেন। ১৯৬৬ সাল থেকে বিশ্বকাপের নথি সংরক্ষণ শুরুর পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে নয়টি ড্রিবলের পাশাপাশি দুটি গোল তৈরি করেন মেসি। জয়ের পর মাঠে তার হাঁটু গেড়ে উদযাপন আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মনে থাকবে।

ইংল্যান্ড ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের দুটি শট পোস্টে লাগে। ইংল্যান্ডের গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ড দুটি দারুণ সেভ করেন। বিরতির পর আর্জেন্টিনা পাঁচটি শট পোস্টে রাখতে সক্ষম হয়, যেখানে ইংল্যান্ড দুটি শট পোস্টে রাখে।

প্রথমার্ধে কোনো দলই পোস্টে শট রাখতে পারেনি। বিরতির পর আর্জেন্টিনা ফুটবলে ফিরে আসে এবং শেষ হাসি হাসে। আর্জেন্টিনার সামনে এখন ইতিহাসের তৃতীয় দল হিসেবে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ রয়েছে।

ইংল্যান্ডের কৌশল এবং প্রত্যাশা

ইংল্যান্ড ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়ানোয় তাদের অপেক্ষা আরও বাড়ল। আর্জেন্টিনা এই বিশ্বকাপে শেষ ৩২ দলের রাউন্ড, শেষ ষোলো এবং কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যাচের শেষ দিকে গোল করাকে অভ্যাসে পরিণত করেছে।

ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার পর ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল চারজন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার নিয়ে রক্ষণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আর্জেন্টাইন আক্রমণভাগ উইং ব্যবহার করে ইংলিশ রক্ষণের ফাঁক বের করে। অন্যদিকে, পিছিয়ে পড়ার পর আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগ ইংল্যান্ড দলকে বলতে গেলে কোনো শটই নিতে দেয়নি।

মেসি ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ভালো খেলেছিলেন এবং টাইব্রেকারে প্রথম পেনাল্টি জালে জড়িয়েছিলেন। ২০২২ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তিনি একটি গোল করেন এবং হুলিয়ান আলভারেজকে দিয়ে একটি গোল করান। ২০২৩ সালের সেমিফাইনালেও মেসি নিজেকে প্রমাণ করেন, যেখানে আর্জেন্টিনা ০-১ গোলে পিছিয়ে ছিল। তিনি সতীর্থদের জন্য দুটি গোল তৈরি করে দেন।

শর্ট কর্নার থেকে বল নিয়ে বক্সের কাছে এসে মেসি বক্সের বাইরে থাকা এনজো ফার্নান্দেজকে বল বাড়ান, যিনি ঠাণ্ডা মাথায় বলটি ইংলিশদের জালে জড়ান। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে আর্জেন্টিনা ১-১ গোলে সমতা ফেরায়। এর সাত মিনিট পর মেসির ক্রস থেকে লাউতারো মার্তিনেজ হেডে গোল করেন। মেসি দুটি অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলেন।

আর্জেন্টিনা ১২ বছরে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে।

Read Also

Source: prothomalo.com