বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে সম্ভাব্য মহারণ
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ-এর নকআউট পর্বে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হতে পারে সেমিফাইনাল পর্যায়ে। টুর্নামেন্টের বিন্যাস এমনভাবে তৈরি হয়েছে যে, এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে ফাইনালে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা গাণিতিকভাবে নেই। তবে, যদি উভয় দল তাদের নিজ নিজ নকআউট ম্যাচগুলোতে জয়লাভ করে এগিয়ে যেতে পারে, তাহলে সেমিফাইনালেই তাদের মধ্যে একটি বড় লড়াই দেখা যেতে পারে।
ব্রাজিল সম্প্রতি স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে ‘গ্রুপ সি’-এর শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে। এই জয়ের ফলে সেলেসাওদের নকআউট পর্বের পথ পরিষ্কার হয়েছে।
ব্রাজিলের নকআউট পর্বের সম্ভাব্য পথ
ব্রাজিলের নকআউট পর্বের সম্ভাব্য সময়সূচি এবং প্রতিপক্ষ নিচে দেওয়া হলো:
- রাউন্ড অব ৩২: ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হবে ‘গ্রুপ এফ’-এর রানার্স-আপ দল, যা নেদারল্যান্ডস, জাপান বা সুইডেনের মধ্যে যেকোনো একটি হতে পারে। এই ম্যাচটি ২৯ জুন, সোমবার, রাত ১১:০০ টায় হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।
- রাউন্ড অব ১৬: প্রথম ধাপ পেরোলে ব্রাজিল ম্যাচ ৭৬-এর বিজয়ী দলের মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচটি ৬ জুলাই, সোমবার, সকাল ৬:০০ টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।
- কোয়ার্টার-ফাইনাল: কোয়ার্টার-ফাইনালে ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে মেক্সিকো অথবা ইংল্যান্ড। এই ম্যাচটি ১২ জুলাই, রবিবার, রাত ৩:০০ টায় মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।
- সেমিফাইনাল: যদি আর্জেন্টিনা ‘গ্রুপ জে’-এর চ্যাম্পিয়ন হয় এবং তাদের নকআউট পর্বের ম্যাচগুলো জিতে আসে, তাহলে ১৬ জুলাই, বৃহস্পতিবার, সকাল ৬:০০ টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যে সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হতে পারে।
- বিশ্বকাপ ফাইনাল: সেমিফাইনাল পেরোতে পারলে ব্রাজিল ২০ জুলাই, সোমবার, রাত ১:০০ টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল খেলবে, যেখানে ফ্রান্স, জার্মানি বা স্পেনের মতো দল প্রতিপক্ষ হতে পারে।

ফুটবল প্রেমীদের জন্য আবেগ ও কৌশল
ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফুটবল ম্যাচ মানেই তীব্র উত্তেজনা। এই উত্তেজনা সমর্থকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে যদি কোনো যুগলের একজন ব্রাজিলের সমর্থক এবং অন্যজন আর্জেন্টিনার ভক্ত হন, তাহলে তাদের মধ্যে ছোটখাটো ‘ফুটবল যুদ্ধ’ শুরু হতে পারে। তবে, এই যুদ্ধকে ঝগড়ায় পরিণত না করে ভালোবাসা ও আনন্দে রূপান্তরিত করা সম্ভব।
এর জন্য কিছু কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে। বড় ম্যাচের আগে ‘শান্তি চুক্তি’ করে নেওয়া উচিত, যেখানে কে কতটা মজা করতে পারবেন তা নির্ধারণ করা হবে। ম্যাচের আগে ‘আজ তোমাদের হার নিশ্চিত’ ধরনের মন্তব্য অনেক সময় ঝামেলার কারণ হতে পারে।
মেসি–নেইমার বিতর্কে না যাওয়া ভালো, কারণ এই বিতর্কের কোনো শেষ নেই। ম্যাচ চলাকালীন সঙ্গীর মনোযোগ মাঠের দিকে থাকে, তাই তখন সম্পর্কের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন করা উচিত নয়। নিজের দল জিতলে সঙ্গীকে নিয়ে অতিরিক্ত মজা করা বা পুরনো হারের গল্প তুলে আনা সম্পর্কের জন্য ভালো নয়।
আলাদা জার্সি পরে একসঙ্গে ছবি তোলা একটি দারুণ স্মৃতি হতে পারে, যেখানে লেখা যেতে পারে, ‘ঘরে শান্তি আছে, শুধু খেলার সময় একটু উত্তেজনা।’ ম্যাচের দিনের খাবার আগে থেকেই ঠিক করে নেওয়া উচিত, কারণ খালি পেটে তর্ক আরও বাড়তে পারে। ফুটবল নিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ মজা সম্পর্ককে প্রাণবন্ত করে তোলে, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলা উচিত। মনে রাখতে হবে, ফুটবল শুধু বিনোদনের অংশ, সম্পর্ক তার চেয়েও বড়।
ব্রাজিল–আর্জেন্টিনা সমর্থক যুগলদের জীবন অনেকটা একটি টানটান ম্যাচের মতো, যেখানে হাসি, তর্ক এবং মজার খোঁচা থাকে। তবে, ভালোবাসা থাকলে শেষ পর্যন্ত সম্পর্কেরই জয় হয়। দুই দলের জার্সির রং আলাদা হলেও ভালোবাসার মাঠে দুজনের দল একটাই।
Read Also
Source: bangla.thedailystar.net