ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে পরিবর্তন
উত্তর আমেরিকায় চলমান বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে সরিয়ে ফ্রান্স এখন শীর্ষস্থান দখল করেছে। শেষ আটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে দিদিয়ে দেশমের দল আর্জেন্টিনা ও স্পেনকে টপকে গেছে। মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ফ্রান্স এখন বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে রয়েছে।
ফ্রান্সের এই উত্থানের ফলে টুর্নামেন্টে অপরাজিত থাকা সত্ত্বেও লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা দুই নম্বরে নেমে গেছে। স্পেন তিন নম্বরে নেমেছে। ইংল্যান্ড তাদের চার নম্বর স্থান ধরে রেখেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট দলগুলোই বর্তমানে র্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব বিস্তার করছে।
মরক্কোও র্যাঙ্কিংয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। দলটি পাঁচ নম্বরে থাকা ব্রাজিলের চেয়ে মাত্র এক পয়েন্ট পিছিয়ে ছয় নম্বরে উঠে এসেছে। শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ব্রাজিলের অপ্রত্যাশিত হারের সুবিধা পেয়েছে মরক্কো। দলটি বোস্টনে ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচে তাদের অসাধারণ যাত্রা অব্যাহত রাখতে চাইছে।
দলগুলোর পারফরম্যান্স ও র্যাঙ্কিং
চমৎকার পারফরম্যান্সের পরও স্পেন এক ধাপ নেমে গেছে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করায় দলটি পয়েন্ট হারিয়েছে, যার সুযোগে ফ্রান্স এগিয়ে গেছে। লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল পর্তুগালের বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতলেও তারা তিন নম্বরেই আছে।
পর্তুগাল টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ায় দলটি দুই ধাপ নেমে সাত নম্বরে চলে গেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে হারিয়ে বেলজিয়াম এক ধাপ উপরে উঠে আট নম্বরে এসেছে। বেলজিয়াম এবার লস অ্যাঞ্জেলেসে স্পেনের মুখোমুখি হবে।
টুর্নামেন্ট শুরুর পর নরওয়ে সবচেয়ে বড় উত্থান দেখিয়েছে। ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে এসেই দলটি ১২ ধাপ উপরে উঠে ১৯ নম্বরে এসেছে। শেষ ষোলোতে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারিয়ে তারা চমক সৃষ্টি করেছে। আর্লিং হালান্ডের চার ম্যাচে সাত গোল দলের এই সাফল্যের পেছনে বড় অবদান রেখেছে।
শীর্ষস্থান হারালেও আর্জেন্টিনা উত্তর আমেরিকায় এখনো অপরাজিত। দলটি তাদের পাঁচ ম্যাচের সবকটি জিতেছে। মিশরের বিপক্ষে নাটকীয়ভাবে ৩-২ গোলে জিতে তারা কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড।
কলম্বিয়াকে পেনাল্টিতে হারিয়ে সুইজারল্যান্ডও তাদের উত্থান অব্যাহত রেখেছে। দলটি পাঁচ ধাপ উপরে উঠে এখন ১৪ নম্বরে আছে। সাত বছর পর শীর্ষ দশে ফেরার লক্ষ্যে মুরাত ইয়াকিনের অপরাজিত দল এবার বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের চ্যালেঞ্জ জানাবে।
আর্জেন্টিনার খেলার কৌশল ও পরিসংখ্যান
২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার খেলার ধরন অন্যান্য দলের চেয়ে ভিন্ন। লিওনেল মেসি কত মিনিট খেলতে পারবেন, তা নিয়ে ভাবার পরিবর্তে পুরো দলই মেসিকে কেন্দ্র করে কৌশল সাজিয়েছে। লক্ষ্য হলো মেসিকে পুরো ম্যাচ মাঠে রাখা এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। এই কৌশলের ফলও বেশ ভালো হয়েছে।
বিশ্বকাপের ৪৮টি দলের মধ্যে প্রতি ম্যাচে উচ্চগতিতে সবচেয়ে কম দৌড়ানো দলের তালিকায় আর্জেন্টিনা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। একই সাথে স্প্রিন্টের সংখ্যাও তাদের অন্যতম কম। তবুও লিওনেল স্কালোনির দল টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত পাঁচটি ম্যাচই জিতেছে। একই কীর্তি রয়েছে শুধু ফ্রান্সের।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাঁচটি ম্যাচের প্রতিটিতেই আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষের তুলনায় কম মোট দূরত্ব অতিক্রম করেছে। ম্যাচভেদে তারা প্রতিপক্ষের চেয়ে ৬১৫ মিটার থেকে ৫ হাজার ৫০০ মিটার পর্যন্ত কম দৌড়েছে। তবুও প্রতিটি ম্যাচেই তারা জয় পেয়েছে।
বল দখলের ক্ষেত্রেও আর্জেন্টিনার আধিপত্য খুব বেশি ছিল না। কেবল আলজেরিয়ার বিপক্ষেই আর্জেন্টিনার বল দখল প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশি ছিল—৫২ শতাংশ, যেখানে আলজেরিয়ার ছিল ৪৮ শতাংশ। উচ্চগতিতে দৌড়ানোর ক্ষেত্রে কেবল কেপ ভার্দের বিপক্ষেই আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষকে ছাড়িয়ে যেতে পেরেছিল।
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আট দলের মধ্যে আর্জেন্টিনার ঠিক বিপরীত চিত্র মরক্কোর। আফ্রিকার দলটি প্রতি মিনিটে উচ্চগতিতে আর্জেন্টিনার তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি দূরত্ব অতিক্রম করেছে। নরওয়ে ৩২ শতাংশ, বেলজিয়াম ৩২ শতাংশ, ইংল্যান্ড ৩০ শতাংশ এবং স্পেন ২৪ শতাংশ বেশি দূরত্ব দৌড়েছে।
এই দলগুলো বিশ্বকাপের ৪৮ দলের মধ্যে উচ্চগতিতে দৌড় এবং ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটারের বেশি গতির স্প্রিন্টের তালিকায় উপরের দিকেই রয়েছে। অন্যদিকে, ব্রাজিল উচ্চগতিতে দৌড়ের তালিকায় ৩৩তম এবং স্প্রিন্টের হিসাবে ৩৯তম স্থানে ছিল। আর্জেন্টিনা দেখিয়ে দিয়েছে যে, বেশি দৌড়ানোই সবসময় সাফল্যের চাবিকাঠি নয়। সঠিক কৌশল, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং লিওনেল মেসির মতো একজন ম্যাচজয়ী ফুটবলারের সর্বোচ্চ ব্যবহারই দলটিকে বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অপরাজিত রেখেছে।
এ পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে আর্জেন্টিনা ১৪ গোল করেছে, যা ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। এই ১৪ গোলের মধ্যে আটটি এসেছে অধিনায়ক লিওনেল মেসির পা থেকে, যা এবারের বিশ্বকাপে কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ।
শুধু গোল নয়, পাসিংয়েও স্কালোনির দলের আধিপত্য রয়েছে। পুরো টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা সফলভাবে ৩,৪৪৬টি পাস সম্পন্ন করেছে, যা সব দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্পেন (৩,৩৮২) এবং তৃতীয় মরক্কো (৩,১২৬)।
পাসিংয়ের নির্ভুলতার দিক থেকেও আর্জেন্টিনা শীর্ষে রয়েছে। তাদের সফল পাসের হার ৯১ শতাংশ, যা স্পেনের সমান। ৮৯ শতাংশ সফল পাস নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মরক্কো। এই পরিসংখ্যান স্কালোনির বল দখলভিত্তিক ফুটবল দর্শনেরই প্রতিফলন। প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশি সময় বল নিজেদের দখলে রেখে ধৈর্যের সঙ্গে আক্রমণ গড়ে তোলাই আর্জেন্টিনার অন্যতম শক্তি। সেই কৌশলই তাদের ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সহায়তা করছে।
গোলের তালিকাতেও প্রতিযোগিতা জমে উঠেছে। আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের ১৪ গোলের পর রয়েছে বেলজিয়াম (১৩) এবং নরওয়ে (১২)। কোয়ার্টার ফাইনালে এই দলগুলোর সামনে নিজেদের গোলসংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে পরিসংখ্যান যতই আর্জেন্টিনার পক্ষে কথা বলুক, কেপ ভার্দে ও মিশরের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয় মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, এখনো উন্নতির জায়গা রয়েছে। শিরোপা ধরে রাখতে চাইলে শুধু সংখ্যায় নয়, মাঠের পারফরম্যান্সেও আরও নিখুঁত হতে হবে মেসিদের।

কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আট দলের মধ্যে আর্জেন্টিনার ঠিক বিপরীত চিত্র মরক্কোর। আফ্রিকার দলটি প্রতি মিনিটে উচ্চগতিতে আর্জেন্টিনার তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি দূরত্ব অতিক্রম করেছে। নরওয়ে ৩২ শতাংশ, বেলজিয়াম ৩২ শতাংশ, ইংল্যান্ড ৩০ শতাংশ এবং স্পেন ২৪ শতাংশ বেশি দূরত্ব দৌড়েছে।
এই দলগুলো বিশ্বকাপের ৪৮ দলের মধ্যে উচ্চগতিতে দৌড় ও ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটারের বেশি গতির স্প্রিন্টের তালিকায় ওপরের দিকেই রয়েছে। অন্যদিকে ব্রাজিল ছিল উচ্চগতিতে দৌড়ের তালিকায় ৩৩তম এবং স্প্রিন্টের হিসাবে ৩৯তম।
তবে আর্জেন্টিনা দেখিয়ে দিয়েছে, বেশি দৌড়ানোই সব সময় সাফল্যের চাবিকাঠি নয়। সঠিক কৌশল, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং লিওনেল মেসির মতো একজন ম্যাচজয়ী ফুটবলারের সর্বোচ্চ ব্যবহারই দলটিকে বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অপরাজিত রেখেছে।
Read Also
Source: jugantor.com