ফ্রান্স মরক্কোকে হারিয়ে সেমিফাইনালে

ফ্রান্স মরক্কোকে ২-০ গোলে পরাজিত করে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে। এই জয়ের মাধ্যমে ফ্রান্স তাদের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে। ম্যাচটি ফ্রান্সমরক্কো উভয় দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যেখানে ফ্রান্স তাদের অভিজ্ঞতা এবং তারকা খেলোয়াড়দের নিয়ে এগিয়ে ছিল, আর মরক্কো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের ধারাবাহিক উন্নতি প্রদর্শন করেছে।

ম্যাচের প্রথমার্ধে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। কিলিয়ান এমবাপ্পে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন, যা মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াশিন বুনো ঠেকিয়ে দেন। লুকাস দিনিয়েরের একটি শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। মরক্কোও প্রথমার্ধের শেষ দিকে একটি সুযোগ নষ্ট করে। ফলে প্রথমার্ধ গোলশূন্য ছিল।

দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্স ম্যাচের ডেডলক ভাঙে। ম্যাচের ৬০ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পে একটি বাঁকানো শটে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন। এটি ছিল ম্যাচের প্রথম গোল এবং ফ্রান্সের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এর কিছুক্ষণ পরেই, উসমান দেম্বেলে এমবাপ্পের পাস থেকে আরও একটি গোল করেন, যা ফ্রান্সের সেমিফাইনালে যাওয়ার পথ সুগম করে।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত

ম্যাচের ৭৭ মিনিটে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশঁ কিলিয়ান এমবাপ্পেকে মাঠ থেকে তুলে নেন। চোটের আশঙ্কার কারণে তাকে নির্ধারিত সময়ের ১৩ মিনিট আগে তুলে নেওয়া হয়। এমবাপ্পে এই ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি দেম্বেলের গোলেও সহায়তা করেন।

ফ্রান্স এবং মরক্কো এর আগে ছয়বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ফ্রান্স চারটিতে জিতেছে এবং দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। মরক্কো এখন পর্যন্ত ফ্রান্সকে হারাতে পারেনি। বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র দেখা হয়েছিল ২০২২ সালের সেমিফাইনালে, যেখানে ফ্রান্স ২-০ গোলে জিতেছিল। সেই ম্যাচেও দিদিয়ের দেশঁ ফ্রান্সের কোচ ছিলেন এবং থিও হার্নান্দেজ গোল করেছিলেন।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আফ্রিকার দলের বিপক্ষে ফ্রান্সের শতভাগ জয়ের রেকর্ড রয়েছে। তারা ২০১৪ সালে নাইজেরিয়াকে এবং ২০২২ সালে মরক্কোকে উভয় ম্যাচেই ২-০ গোলে পরাজিত করেছিল। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের রেকর্ড ৮ ম্যাচে ৬ জয় ও ২ হার। তাদের একমাত্র দুটি হার এসেছিল ১৯৩৮ সালে ইতালি এবং ২০১৪ সালে জার্মানির বিপক্ষে।

দলীয় পরিসংখ্যান এবং রেকর্ড

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ ১৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে ফ্রান্স ১৪টিতে জিতেছে (১ ড্র, ১ হার)। বিশ্বকাপে শেষ ১৯ ম্যাচের মধ্যে তাদের ১৬টি জয় (২ ড্র, ১ হার)। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে শেষ ২১ ম্যাচের মধ্যে ১৮টিতেই জয় পেয়েছে ফরাসিরা। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলটি ছিল বিশ্বকাপে ফ্রান্সের ১৫০তম গোল। ব্রাজিল, জার্মানিআর্জেন্টিনার পর চতুর্থ দল হিসেবে ফ্রান্স এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে। বিশ্বকাপে শেষ ছয় ম্যাচে এমবাপ্পে ১০ গোল করেছেন। টুর্নামেন্টে মোট ১৯ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ১৯।

বিশ্বকাপে ইউরোপের দলের বিপক্ষে শেষ ৯ ম্যাচের মধ্যে মরক্কো মাত্র ২টিতে হেরেছে (৩ জয়, ৪ ড্র)। বিশ্বকাপে শেষ ১৩ ম্যাচের মধ্যে মরক্কোর হার মাত্র দুটি (৬ জয়, ৫ ড্র)। টানা দুই বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা প্রথম আফ্রিকান দেশ হলো মরক্কো। এটি মরক্কোর ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল। ২০২২ সালে তারা পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবার শেষ চারে উঠেছিল। বিশ্বকাপে টানা ছয় ম্যাচে গোল করেছে মরক্কো, যা তাদের ইতিহাসে দীর্ঘতম গোল করার ধারাবাহিকতা।

এবারের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে মরক্কো ১০ গোল করেছে। সেনেগালের (২০২৬) পর দ্বিতীয় আফ্রিকান দল হিসেবে এক আসরে ১০ বা তার বেশি গোল করার কীর্তি গড়েছে তারা। মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি ২০২১ সাল থেকে পিএসজির খেলোয়াড়। তার ক্লাব সতীর্থ ফ্রান্স দলে আছেন পাঁচজন – ওসমান দেম্বেলে, ব্র্যাডলি বারকোলা, ওয়ারেন জায়ির-এমেরি, দেজিরে দুয়ে এবং লুকাস হার্নান্দেজমরক্কো দলে আরও চারজন খেলোয়াড় বর্তমানে ফরাসি লিগ ওয়ানের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেন – আয়ুব বুয়াদ্দি (লিল), আমিন সবাই (অ্যাঞ্জে), সামির এল মুরাবেতগেসিম ইয়াসিন (দুজনই স্ট্রাসবুর্গ)।

দলীয় লাইনআপ

মরক্কো একাদশ ছিল: বুনো; হাকিমি, দিওপ, মাজরাউই, সালেহ-এডিন; বোয়াদ্দি, এল আয়নাউই; দিয়াজ, উনাহি, তালবি; এল খানৌস

ফ্রান্স একাদশ ছিল: মিয়াঁন; কুন্দে, উপমেকানো, সালিবা, দিনিয়ে; কোনে, রাবিও; দেম্বেলে, ওলিসে, দুয়ে; এমবাপ্পে

এই জয়ের ফলে ফ্রান্স বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তাদের স্থান নিশ্চিত করেছে।

Read Also

Source: bangla.thedailystar.net