কানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা

ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনার রোমাঞ্চ ছুঁয়ে যাচ্ছে আর্জেন্টিনাকে

আরেকটি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা নিয়ে আর্জেন্টিনা দল রোমাঞ্চিত। এই লক্ষ্য পূরণের পথে তাদের সামনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কোয়ার্টার ফাইনাল, যেখানে প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। ইউরোপের এই শক্তিশালী দলকে আর্জেন্টিনা যথেষ্ট সমীহ করছে, তবে নিজেদের চেনা ছন্দে খেলে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

শেষ আটের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে কানসাস সিটিতে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, আগামী রোববার সকাল সাতটায় শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে থাকা আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে।

ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা দলের কোচিং স্টাফের প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন সহকারী কোচ ওয়াল্তার সামুয়েল। সাবেক এই ডিফেন্ডার দলের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, “আমরা ফাইনালে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে রোমাঞ্চিত। আমাদের ধাপে ধাপে এগোতে হবে। আমরা সুইজারল্যান্ডের মতো এক কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হচ্ছি এবং আমাদের এটি মোকাবিলা করতে হবে। তবে আমরা আশাবাদী যে, আমাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারব এবং ফাইনালে পৌঁছাতে পারব, যা হবে অবিশ্বাস্য। আর তখন তো সুযোগ কাজে লাগাতেই হবে।”

সামুয়েল সুইজারল্যান্ডের কাছ থেকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রত্যাশা করছেন। তিনি ইউরোপের দলটির মূল বৈশিষ্ট্য ও শক্তিমত্তা সম্পর্কে বলেছেন, “ওরা একটি শক্ত, শারীরিক শক্তিনির্ভর ফুটবল খেলা দল। পাশাপাশি গ্রানিত জাকা, মানুয়েল আকাঞ্জিদের নিয়ে ওরা অনেক মানসম্পন্ন। ওদের এমন সব খেলোয়াড় আছে, যারা ভালো খেলতে পারে এবং বল পায়ে তারা বেশ শান্ত ও গোছানো।”

আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফের এই সদস্য জোর দিয়ে জানিয়েছেন যে, সুইজারল্যান্ড কেবল শারীরিক শক্তিনির্ভর বা রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেওয়া দল নয়। বরং তারা বল পায়ে রেখে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে এবং রক্ষণভাগ থেকে গুছিয়ে আক্রমণে উঠতে পারদর্শী। প্রতিপক্ষকে নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণের পাশাপাশি নিজেদের শক্তির ওপর জোর দেওয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছেন সামুয়েল।

লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন স্কোয়াডের ফুটবলারদের ওপর আস্থা রেখে সামুয়েল আরও যোগ করেছেন, “আমরা যেমন প্রতিপক্ষের দিকে নজর রাখি, তেমনি আমরা নিজেদের খেলার কৌশল নিয়েও ভাবি।” সামুয়েলের এই মন্তব্য ম্যাচের আগে শিরোপাধারী আর্জেন্টিনার অবস্থান স্পষ্ট করে তুলেছে। প্রতিপক্ষের প্রতি পূর্ণ সম্মান বজায় রেখেই আলবিসেলেস্তেরা নিজেদের চেনা ফুটবল দর্শনে অটুট থাকতে চাইছে।

ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান

বিশ্বকাপে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের পর দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়েই কোয়ার্টার ফাইনালের প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা। শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই ম্যাচে তারা ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত লড়াইয়ে জয় ছিনিয়ে আনে।

অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ড শেষ ষোলোর ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও গোলশূন্য ড্র করার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে।

তবে পরিসংখ্যান বলছে, শেষ আটের এই লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা এগিয়ে থাকবে। দুই দলের সাতটি মুখোমুখি ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতে জয় পেয়েছে আলবিসেলেস্তেরা, আর বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কোনো জয় নেই সুইজারল্যান্ডের।

সুইসদের সর্বোচ্চ সাফল্য এসেছে ১৯৯০২০০৭ সালে, যেখানে তারা ১-১ গোলে ড্র করতে সক্ষম হয়েছিল। অন্যদিকে বাকি পাঁচটি ম্যাচেই জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা।

দুই দেশের প্রথম দেখা হয়েছিল ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ২-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। বিশ্বকাপে সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে। অতিরিক্ত সময়ে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা।

আর্জেন্টিনার দাপট

বিশ্বকাপের বাইরেও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি দাপট দেখিয়েছে। ১৯৮০ সালের প্রীতি ম্যাচে তারা সুইসদের ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেয়। এরপর ১৯৮৪ সালে ২-০ এবং ২০১২ সালের সর্বশেষ সাক্ষাতে ৩-১ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা।

সব মিলিয়ে দুই দলের সাতটি ম্যাচে আর্জেন্টিনা ১৫ গোল করেছে, বিপরীতে সুইজারল্যান্ডের গোল মাত্র ৪টি। অতীতের রেকর্ড, গোলের পরিসংখ্যান এবং মুখোমুখি লড়াই সব দিক থেকেই এগিয়ে রয়েছে লিওনেল মেসিদের দল। তাই কোয়ার্টার ফাইনালের মহারণের আগে ইতিহাস স্পষ্টভাবেই আর্জেন্টিনার পক্ষেই কথা বলছে।

ইতালি (১৯৩৪, ১৯৩৮) ও ব্রাজিলের (১৯৫৮, ১৯৬২) পর ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুবার বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি রয়েছে আর্জেন্টিনার সামনে। সুইজারল্যান্ডকে হারাতে পারলে সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড কিংবা নরওয়ে। আর ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারলে মেসিদের মুখোমুখি হতে হবে ফ্রান্স, স্পেন কিংবা বেলজিয়ামের। গত কাতার বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে গড়ানো রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা।

Read Also

Source: bangla.thedailystar.net