ইংল্যান্ড সাউদাম্পটন-এ পঞ্চম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতকে ৫৬ রানে পরাজিত করে আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছে। এই জয়ে স্বাগতিকরা ভারতকে ৪-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছে। প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছিল।
প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড ৩ উইকেটে ২৫৭ রান সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে জস বাটলার এবং অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। জবাবে ভারত ৮ উইকেটে ২০১ রান পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
বাটলারের সেঞ্চুরি ও ব্রুকের রেকর্ড জুটি
জস বাটলার তার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি হাঁকান, যা তার ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস। তিনি ৬৪ বলে ১৩১ রান করেন, যার মধ্যে ১২টি চার এবং আটটি ছক্কা ছিল। এই পারফরম্যান্সের জন্য তিনি ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন।
বাটলার এবং হ্যারি ব্রুক ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে রেকর্ড ২৩৩ রানের জুটি গড়েন। এটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্বিতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ জুটির বিশ্ব রেকর্ড। ব্রুক ৪৫ বলে অপরাজিত ৯৫ রান করেন, যার মধ্যে চারটি চার এবং আটটি ছক্কা ছিল।
এই বিশাল সংগ্রহ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ডের তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং ভারতের বিপক্ষে তাদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
ভারতের ব্যাটিং ও ফিল্ডিং ব্যর্থতা
ভারতের পক্ষে ইশান কিশান ৩৫ বলে ৫৬ রান এবং তিলক বর্মা ২৫ বলে ৫৩ রান করে হাফসেঞ্চুরি করেন। তবে অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের দল কখনোই জয়ের জন্য লড়াই করার মতো অবস্থানে ছিল না। বিশেষ করে, তাদের ফিল্ডিং ছিল হতাশাজনক। এই পরাজয়ের ফলে ভারত টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে।
ভারত এই পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি। এই সিরিজের আগে তারা আয়ারল্যান্ডের কাছে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল। সব মিলিয়ে, ভারত পূর্ণাঙ্গ ২০ ওভারের ম্যাচে টানা ছয়টি পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর ভারত টানা সাতটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয়ের দেখা পায়নি, যা এই ফরম্যাটে তাদের ইতিহাসে দীর্ঘতম। একই সাথে, সম্পন্ন হওয়া ম্যাচে টানা ছয়টি পরাজয়ও ভারতের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে প্রথম।

র্যাঙ্কিংয়ে পরিবর্তন
এই সিরিজ জয়ের পর ইংল্যান্ড আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে অবস্থান করছে। ভারত তাদের পরাজয়ের কারণে দ্বিতীয় স্থানে নেমে এসেছে।
ভারত দল যানজটে আটকে পড়ায় টস হতে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা দেরি হয়েছিল, তবে তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
জস বাটলার সাম্প্রতিক সময়ে রান খরায় ভুগলেও এই ম্যাচে শক্তি এবং সুনিপুণ টাইমিংয়ের এক চিরায়ত প্রদর্শনী দেখিয়েছেন।
Read Also
Source: bangla.thedailystar.net