আলি লারিজানি, ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টা, ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ একটি ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন। তাঁর মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে। লারিজানি ৬৭ বছর বয়সে মারা যান এবং তাঁর ছেলে মোর্তেজা লারিজানিও একই হামলায় নিহত হন।
লারিজানি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব ছিলেন এবং তিনি ইরানের সংসদের স্পিকার হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সম্প্রতি, তিনি মস্কোতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে আলোচনা করতে গিয়েছিলেন।
ইসরায়েলি নেতারা লারিজানির হত্যাকে ইরানি শাসনের জন্য একটি বড় আঘাত হিসেবে দেখছেন। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাতজ বলেছেন, “শাসনের নেতারা নিহত হচ্ছেন এবং তাদের সক্ষমতা ধ্বংস হচ্ছে।”
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী, লারিজানির হত্যার বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, “আজ সকালে আমরা আলি লারিজানিকে নির্মূল করেছি, যিনি ইরানকে পরিচালনা করা গ্যাংয়ের প্রধান।”
লারিজানি ইরানে প্রতিবাদের সময় সরকারী প্রতিক্রিয়া তদারকিতে জড়িত ছিলেন এবং তিনি সহিংসতার মাধ্যমে প্রতিবাদ দমন করার মূল স্থপতি ছিলেন।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “ইরান এবং ইসলামী বিপ্লবের উন্নতির জন্য একটি জীবনব্যাপী প্রচেষ্টার পর, তিনি সত্যের আহ্বানে সাড়া দিয়ে শহীদ হওয়ার মর্যাদা অর্জন করেছেন।”
লারিজানির মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি বড় শূন্যতা তৈরি করেছে, বিশেষ করে আলী খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ এলমাসরি বলেছেন, “এটি ইরানি শাসনের পতনের কোনো সংকেত নয়, কারণ সবসময় নতুন নেতা আসে।”
লারিজানি ইরানের পরমাণু আলোচনায় প্রধান আলোচক হিসেবেও কাজ করেছেন, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বর্তমানে, লারিজানির মৃত্যুর পর ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, তবে বিস্তারিত তথ্য এখনও নিশ্চিত নয়।



