২০২৬ সালের ১৭ মার্চ, ইরানের মিনাব শহরে একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটতে চলেছে। শহরের কবরস্থানে ১০০ জন কিশোরীর দাফনের প্রস্তুতি চলছে। এই ঘটনাটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক, কারণ তারা তাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছে।
এই সময়ে, গ্রোক এবং জেমিনি নামক এআই সেবা দুটি মিনাবের কবরস্থানের একটি ছবি ভুলভাবে বিভিন্ন স্থানে এবং ঘটনায় চিহ্নিত করেছে। জেমিনি দাবি করেছে যে ছবিটি ২০২৩ সালের কাহরামানমারাস, তুরস্কের একটি গণকবরের স্থান থেকে এসেছে, যেখানে একটি ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। অপরদিকে, গ্রোক দাবি করেছে যে ছবিটি ২০২১ সালের জুলাই মাসে জাকার্তার রোরোটান কবরস্থান থেকে তোলা হয়েছে।
গবেষকরা মিনাবের কবরস্থানের ছবির সত্যতা নিশ্চিত করতে স্যাটেলাইট ছবি এবং ভিডিও ফুটেজ ব্যবহার করেছেন। এই ধরনের ভুল তথ্যের বৃদ্ধি একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় অর্ধেক ভাইরাল মিথ্যা তথ্য জেনারেটিভ এআই কনটেন্ট।
এআই সেবা ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৬৫% মানুষ নিয়মিত এআই দ্বারা তৈরি সংবাদ বা তথ্যের সারাংশ দেখতে পাচ্ছেন। তবে, ২০২৫ সালে একটি আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রায় অর্ধেক এআই দ্বারা তৈরি সারাংশে উল্লেখযোগ্য উৎস বা সঠিকতার সমস্যা রয়েছে।
এআই মিথ্যা তথ্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তকারীদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ফ্যাক্টচেকাররা এখন নিয়মিতভাবে এআই চ্যাটবট দ্বারা তৈরি ভুল পোস্ট এবং বিভ্রান্তিকর দাবিগুলি মোকাবেলা করতে বাধ্য হচ্ছেন। শায়ান সারদারিজাদেহ বলেছেন, “ফ্যাক্টচেকাররা এখন নিয়মিতভাবে একটি ভুল পোস্ট এবং সেই পোস্টের সাথে সম্পর্কিত একটি চ্যাটবট দ্বারা তৈরি বিভ্রান্তিকর দাবি উভয়কেই মোকাবেলা করতে হচ্ছে।”
এআই মডেলগুলি, যেমন গ্রোক এবং জেমিনি, প্রকৃতপক্ষে সম্ভাব্য ভাষার মডেল যা গভীরভাবে উপাদান বিশ্লেষণ করে না। টাল হাগিন বলেছেন, “আপনি যা ব্যবহার করছেন তা আসলে একটি অত্যন্ত উন্নত সম্ভাবনা মেশিন, সত্য বাক্স নয়।”
এআই প্রযুক্তির উন্নতি অব্যাহত থাকলে, এটি বাস্তব ঘটনার ভিডিও এবং ছবিগুলি মিথ্যা বা এআই বলে খারিজ করার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। ক্রিস ওসিয়েক বলেছেন, “একটি সন্তান হারানোর কল্পনা করুন এবং তারপর দেখুন যে অনলাইনে এআই ব্যবহার করে দাবি করা হচ্ছে যে এই ঘটনা ঘটেনি।”
যা পর্যবেক্ষকরা বলছেন
এআই দ্বারা তৈরি মিথ্যা তথ্যের এই বৃদ্ধি কেবল একটি প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়, বরং এটি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গভীর প্রভাব ফেলছে। মিনাবের ঘটনাটি সেইসব পরিবারের জন্য একটি ভয়াবহ স্মৃতি, যারা তাদের সন্তানদের হারিয়েছে। এই পরিস্থিতি মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে এবং তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলছে।



