ঈদ মোবারক উপলক্ষে ঈদ কার্ড বিতরণের রীতি বহু পুরনো। স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়েও এই রীতি প্রচলিত ছিল এবং ৮০ ও ৯০ এর দশকে ঈদ কার্ড বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। নব্বইয়ের দশকে ঈদ কার্ড কিনতে মানুষের ভিড় লেগে থাকত।
তবে, বর্তমানে ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমে শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়। ২০১৫-১৬ সালের দিকে ছাপা কার্ড বিতরণের হিরিক ছিল, কিন্তু বর্তমানে ঈদ কার্ডের ব্যবসা কমে গেছে। আজাদ প্রোডাক্টসের একজন কর্মকর্তা জানান, “ঈদ কার্ড বিক্রি আগের তুলনায় অনেক কম।”
প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে ঈদ কার্ডের ব্যবহার কমে গেছে এবং ঈদ কার্ডের মাধ্যমে দাওয়াত দেওয়ার কালচার হারিয়ে যাচ্ছে। অতীতে ঈদ কার্ড বিক্রির দু’টি সিজন ছিল, নববর্ষ আর ঈদ।
ঈদ কার্ড ছিল বাংলার মুসলিম সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ। কিন্তু এখনকার প্রজন্মের মধ্যে ডিজিটাল মাধ্যমের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির ফলে এই ঐতিহ্যগত রীতি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে।
ঈদ কার্ড বিতরণের এই পরিবর্তন শুধু একটি ব্যবসায়িক পরিবর্তন নয়, বরং এটি সাংস্কৃতিক পরিবর্তনেরও প্রতীক। সমাজের মধ্যে প্রযুক্তির প্রভাব এবং নতুন প্রজন্মের অভ্যাসের পরিবর্তন এই পরিবর্তনের পেছনে প্রধান কারণ।
ঈদ মোবারক উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময়ের এই নতুন পদ্ধতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে দ্রুততা এবং সুবিধা প্রদান করছে। তবে, এতে ঐতিহ্যগত সম্পর্কের গভীরতা কিছুটা কমে যাচ্ছে।
এখনকার দিনে ঈদ কার্ডের ব্যবসা কমে যাওয়ার ফলে অনেক কার্ড প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এই পরিবর্তন তাদের ব্যবসার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ঈদ কার্ড বিতরণের রীতি পরিবর্তন হচ্ছে, কিন্তু এর সাথে সাথে আমাদের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বজায় রাখা জরুরি।
ঈদ মোবারক উপলক্ষে এই পরিবর্তনগুলো আমাদের সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে, যেখানে প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং সাংস্কৃতিক পরিবর্তন একসাথে চলমান।



