বাংলাদেশ এবং ভারতের সম্পর্ক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা রাজনৈতিক পরিবর্তনের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। বিশেষ করে, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর এই সম্পর্কের গতি পরিবর্তিত হয়েছে। এই সময়ে, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের মানসিকতা এবং কূটনীতির দিক পরিবর্তন হয়েছে।
এখন, বাংলাদেশে বিএনপি সরকারের অধীনে খালিলুর রহমানের প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের সফর হচ্ছে। এই সফরটি ২০২৬ সালের ৭ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। খালিলুর রহমান ভারত সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন, যার মধ্যে S Jaishankar এবং Ajit Doval উল্লেখযোগ্য।
এই সফরের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে জনগণের মধ্যে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা। সফরের সময়, খালিলুর রহমানের সাথে থাকবেন Humayun Kobir, যিনি এই সম্পর্কের গুরুত্ব সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “এটি বাংলাদেশের এবং ভারতের মধ্যে একটি নতুন সম্পর্ক। এখন বাংলাদেশে হাসিনার আওয়ামী লীগের মতো কিছু নেই।”
বাংলাদেশের জন্য এই সফরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, কারণ এটি গঙ্গা জল চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে শেষ হবে। এছাড়াও, বাংলাদেশ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা পুনরায় চালু করেছে, যা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
ভারতও বাংলাদেশকে সাথে নিয়ে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ২০২৬ সালের ১০ মার্চ ভারত বাংলাদেশে ৫,০০০ মেট্রিক টন উচ্চ গতির ডিজেল পাঠিয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে শক্তি সহযোগিতার একটি উদাহরণ। এই সহযোগিতা India-Bangladesh Friendship Pipeline এর মাধ্যমে আলোচনা করা হয়েছে।
Humayun Kobir আরও বলেন, “আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জনগণের মধ্যে সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত, যাতে এটি ব্যক্তিদের উপর নির্ভরশীল না হয়।” তিনি উল্লেখ করেন যে, “আমাদের নতুন সম্পর্কের জন্য একটি নতুন স্থান তৈরি করতে হবে, কারণ হাসিনা-ভারত সম্পর্ক আর সম্ভব নয়।”
এই সফরের পর, পর্যবেক্ষকরা আশা করছেন যে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে সম্পর্কের গতি আরও উন্নত হবে। Lailufar Yasmin বলেন, “দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের জন্য অনেক কিছু রয়েছে, যেমন জল, বাণিজ্য বা নিরাপত্তা।”
এখন দেখা যাক, এই সফরের ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয় কিনা।



